৬ মাস পর চাঞ্চল্য ফিরেছে দিনাজপুরের পাথর খনিতে
jugantor
৬ মাস পর চাঞ্চল্য ফিরেছে দিনাজপুরের পাথর খনিতে

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:০৩:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস পর পুরোদমে শুরু হয়েছে দেশের একমাত্র পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের পাথর উত্তোলন।

বুধবার থেকে তিন শিফটে কাজ শুরু করেছে এই খনিটি। এর আগে করোনাভাইরাসের ফলে দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস বন্ধ থাকে খনির পাথর উত্তোলন। পুরোদমে উৎপাদন শুরু হওয়ায় খনিতে আবার ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় খনির পাথর উত্তোলন। এরপর খনি কর্তৃপক্ষ এমজিএমসিএল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসি, পেট্রোবাংলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে প্রাথমিকভাবে এক শিফটে খনির পাথর উত্তোলন শুরু করা হয়।

প্রায় সাড়ে ৭শ' শ্রমিকের মধ্যে প্রথম অবস্থায় করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন শ্রমিককে দিয়ে কাজ শুরু করা হয়। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে সব শ্রমিকের করোনা পরীক্ষার পর দ্বিতীয় শিফটে এবং গতকাল বুধবার থেকে তৃতীয় শিফটে কাজ শুরু করা হয়। বর্তমানে খনিতে তিন শিফটে সাড়ে ৭শ' শ্রমিক কাজ করছেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, দ্বিতীয় শিফটে দৈনিক পাথর উত্তোলন হতো ৩ হাজার টনের মতো। কিন্তু বুধবার থেকে তিন শিফটে কাজ শুরু করার পর দৈনিক পাথর উত্তোলন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টন।

তিনি জানান, দেশে পাথরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খনিতে পাথর বিক্রিও বেড়েছে। গত ২৯ এপ্রিল থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খনিতে পাথর বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টন। যার বিক্রিমূল্য প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা। বর্তমানে খনির ইয়ার্ডে ৮৫ হাজার টন পাথর মজুদ রয়েছে বলে জানান তিনি।

দেশের একমাত্র পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে ২০০৭ সালে। প্রথম অবস্থায় খনি থেকে দৈনিক ১ হাজার ৫শ' থেকে ১ হাজার ৮শ' টন পাথর উত্তোলন হলেও পরে তা নেমে আসে মাত্র ৫শ' টনে। এমন অবস্থায় উৎপাদন বাড়াতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলনের বিপরীতে ১৭১.৮৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয় বেলারুশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসিকে। চুক্তি অনুযায়ী ১২টি নতুন স্টোভ (পাথর উত্তোলন ক্ষেত্র) নির্মাণের কথা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এবং বিভিন্ন সময়ে খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে একাধিকবার পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখে। এর ফলে ৯২ লাখ টন পাথরের স্থলে পাথর উত্তোলন করতে পারে মাত্র ৩০.৭৬ লাখ টন পাথর এবং ১২টি স্টোভের স্থলে নির্মাণ করেছে মাত্র ৬টি স্টোভ।

এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি জিটিসির সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। জিটিসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও এক বছর সময় বাড়ানো হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলেও বৈশ্বিক করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম। ২৬ মার্চ থেকে খনি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়ে খনির প্রায় ৮শ শ্রমিক।

শ্রমিকরা বিভিন্ন সময়ে খনিতে উত্তোলন শুরু ও বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। এ সময় তারা মূল বেতনের ৫ শতাংশ বৃদ্ধি, ছুটিকালীন বেতন-ভাতা প্রদান, অনতিবিলম্বে খনি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু, শ্রমিকদের ঝুঁকি ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি জানান।

অবশেষে বুধবার থেকে তিন শিফটে পুরোদমে খনির উৎপাদন শুরু হওয়ায় খনিতে শ্রমিকদের মাঝে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

৬ মাস পর চাঞ্চল্য ফিরেছে দিনাজপুরের পাথর খনিতে

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস পর পুরোদমে শুরু হয়েছে দেশের একমাত্র পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের পাথর উত্তোলন।

বুধবার থেকে তিন শিফটে কাজ শুরু করেছে এই খনিটি। এর আগে করোনাভাইরাসের ফলে দীর্ঘ সাড়ে ৪ মাস বন্ধ থাকে খনির পাথর উত্তোলন। পুরোদমে উৎপাদন শুরু হওয়ায় খনিতে আবার ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। 

মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (এমজিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, বৈশ্বিক করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ করে দেয়া হয় খনির পাথর উত্তোলন। এরপর খনি কর্তৃপক্ষ এমজিএমসিএল, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসি, পেট্রোবাংলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা থেকে প্রাথমিকভাবে এক শিফটে খনির পাথর উত্তোলন শুরু করা হয়। 

প্রায় সাড়ে ৭শ' শ্রমিকের মধ্যে প্রথম অবস্থায় করোনা পরীক্ষার মাধ্যমে ১৫০ জন শ্রমিককে দিয়ে কাজ শুরু করা হয়। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে সব শ্রমিকের করোনা পরীক্ষার পর দ্বিতীয় শিফটে এবং গতকাল বুধবার থেকে তৃতীয় শিফটে কাজ শুরু করা হয়। বর্তমানে খনিতে তিন শিফটে সাড়ে ৭শ' শ্রমিক কাজ করছেন। 

ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, দ্বিতীয় শিফটে দৈনিক পাথর উত্তোলন হতো ৩ হাজার টনের মতো। কিন্তু বুধবার থেকে তিন শিফটে কাজ শুরু করার পর দৈনিক পাথর উত্তোলন হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার টন।  

তিনি জানান, দেশে পাথরের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খনিতে পাথর বিক্রিও বেড়েছে। গত ২৯ এপ্রিল থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খনিতে পাথর বিক্রি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ টন। যার বিক্রিমূল্য প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা। বর্তমানে খনির ইয়ার্ডে ৮৫ হাজার টন পাথর মজুদ রয়েছে বলে জানান তিনি। 

দেশের একমাত্র পাথর খনি দিনাজপুরের মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (এমজিএমসিএল) বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে ২০০৭ সালে। প্রথম অবস্থায় খনি থেকে দৈনিক ১ হাজার ৫শ' থেকে ১ হাজার ৮শ' টন পাথর উত্তোলন হলেও পরে তা নেমে আসে মাত্র ৫শ' টনে। এমন অবস্থায় উৎপাদন বাড়াতে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ৯২ লাখ টন পাথর উত্তোলনের বিপরীতে ১৭১.৮৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করে খনির উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয় বেলারুশের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জার্মানিয়া ট্রেস্ট কনসোর্টিয়াম-জিটিসিকে। চুক্তি অনুযায়ী ১২টি নতুন স্টোভ (পাথর উত্তোলন ক্ষেত্র) নির্মাণের কথা। 

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিটিসি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে এবং বিভিন্ন সময়ে খনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে একাধিকবার পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখে। এর ফলে ৯২ লাখ টন পাথরের স্থলে পাথর উত্তোলন করতে পারে মাত্র ৩০.৭৬ লাখ টন পাথর এবং ১২টি স্টোভের স্থলে নির্মাণ করেছে মাত্র ৬টি স্টোভ। 

এরই মধ্যে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ঠিকাদারি জিটিসির সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। জিটিসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও এক বছর সময় বাড়ানো হয়েছে। 

এ পরিস্থিতিতে পাথর উত্তোলন অব্যাহত থাকলেও বৈশ্বিক করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যায় মধ্যপাড়া পাথর খনির পাথর উত্তোলন কার্যক্রম। ২৬ মার্চ থেকে খনি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকার হয়ে পড়ে খনির প্রায় ৮শ শ্রমিক। 

শ্রমিকরা বিভিন্ন সময়ে খনিতে উত্তোলন শুরু ও বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেন। এ সময় তারা মূল বেতনের ৫ শতাংশ বৃদ্ধি, ছুটিকালীন বেতন-ভাতা প্রদান, অনতিবিলম্বে খনি থেকে পাথর উত্তোলন শুরু, শ্রমিকদের ঝুঁকি ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন দাবি জানান।

অবশেষে বুধবার থেকে তিন শিফটে পুরোদমে খনির উৎপাদন শুরু হওয়ায় খনিতে শ্রমিকদের মাঝে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন