কেরানীগঞ্জে মামলা দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিনব কৌশল
jugantor
ভুক্তভোগী ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন
কেরানীগঞ্জে মামলা দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিনব কৌশল

  কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:০০:৩৯  |  অনলাইন সংস্করণ

কেরানীগঞ্জ

কেরানীগঞ্জে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে। যাদের কাজ সমাজের বিত্তশালীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে অপদস্ত করা। একই সঙ্গে মামলার পর বিত্তশালীদের কাছে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে প্রতারক চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার সকালে কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী ইকবাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, চক্রটিতে ১০-১২ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন নারীও আছেন। এরা কেরানীগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা না হলেও এই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে নানাভাবে লোকজনকে ব্ল্যাইমেইল করছে। খেজুরবাগ এসপি মসজিদের পাশে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রের সদস্য মাহমুদা। কিছুদিন পর তিনি শিল্পী নাম নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল, রমযান ও জয়নালের কাছ থেকে হাতিয়েছেন ৬০ হাজার টাকা। সম্প্রতি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজনকে আসামি করে গণধর্ষনের মামলা করেন ওই নারী। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালককে তিনি চেনেন না। একই সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে এ ঘটনার পেছনে আলমগীর সেলিম নামে একজনের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

ইকবাল চেয়ারম্যান আরও বলেন, এসব ঘটনা আমার ইউনিয়নের আওতাভুক্ত হওয়ায় এবং ভুক্তভোগীরা আমার কাছে প্রতিকার চাওয়ায় মাহমুদা নামের ওই নারীকে আমার কার্যালয়ে ডেকে এ বিষয়ে জানতে চাই। এসময় তিনি অপকর্মের কথা অকপটে স্বীকার করেন। হয়রানিমুলক মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার সহযোগীদের কথাও স্বীকার করেন। এরপর পুলিশ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে আমাকেসহ তিনজন পুলিশ (পরিদর্শক পদমর্যাদার), একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও তৈল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ৭ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এই প্রতারক চক্রের প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে নিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিটিভিতে একটি অনুসন্ধানী প্রতিদেন প্রচারিত হয়। ওই প্রতিবেদনের কারনে ২২ সেপ্টেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও একটি মামলা করে প্রতারক নারী মাহমুদা।

মামলায় আমাকে, পুলিশ, জিটিভির দুই সাংবাদিকসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এভাবে ওই চক্রটি প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলা দিয়ে লোকজনকে হয়রানি করছে, অর্থ আদায় করছে। এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে নিরীহ মানুষকে রক্ষায় প্রশাসন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জিনজিরা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী সাকুর হোসেন সাকু, শুভাঢ্যা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী বাসেদ উদ্দিন, বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মাসুদ হোসেন, উপদেষ্টা হাজী শাহআলম, আওলাদ হোসেন প্রমুখ।

ভুক্তভোগী ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন

কেরানীগঞ্জে মামলা দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিনব কৌশল

 কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কেরানীগঞ্জ
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী ইকবাল হোসেন।

কেরানীগঞ্জে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে। যাদের কাজ সমাজের বিত্তশালীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে অপদস্ত করা। একই সঙ্গে মামলার পর বিত্তশালীদের কাছে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়ে প্রতারক চক্রটি হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার সকালে কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী ইকবাল হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, চক্রটিতে ১০-১২ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন নারীও আছেন। এরা কেরানীগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা না হলেও এই এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে নানাভাবে লোকজনকে ব্ল্যাইমেইল করছে। খেজুরবাগ এসপি মসজিদের পাশে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রের সদস্য মাহমুদা। কিছুদিন পর তিনি শিল্পী নাম নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল, রমযান ও জয়নালের কাছ থেকে হাতিয়েছেন ৬০ হাজার টাকা। সম্প্রতি একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ কয়েকজনকে আসামি করে গণধর্ষনের মামলা করেন ওই নারী। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে তিনি জানান, ব্যবস্থাপনা পরিচালককে তিনি চেনেন না। একই সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে এ ঘটনার পেছনে আলমগীর সেলিম নামে একজনের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।

ইকবাল চেয়ারম্যান আরও বলেন, এসব ঘটনা আমার ইউনিয়নের আওতাভুক্ত হওয়ায় এবং ভুক্তভোগীরা আমার কাছে প্রতিকার চাওয়ায় মাহমুদা নামের ওই নারীকে আমার কার্যালয়ে ডেকে এ বিষয়ে জানতে চাই। এসময় তিনি অপকর্মের কথা অকপটে স্বীকার করেন। হয়রানিমুলক মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার সহযোগীদের কথাও স্বীকার করেন। এরপর পুলিশ অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে আমাকেসহ তিনজন পুলিশ (পরিদর্শক পদমর্যাদার), একজন শীর্ষ ব্যবসায়ী ও তৈল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ৭ জনের বিরুদ্ধে অপহরণের হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। এই প্রতারক চক্রের প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে নিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিটিভিতে একটি অনুসন্ধানী প্রতিদেন প্রচারিত হয়। ওই প্রতিবেদনের কারনে ২২ সেপ্টেম্বর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে আরও একটি মামলা করে প্রতারক নারী মাহমুদা। 

মামলায় আমাকে, পুলিশ, জিটিভির দুই সাংবাদিকসহ ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। এভাবে ওই চক্রটি প্রতিনিয়ত মিথ্যা মামলা দিয়ে লোকজনকে হয়রানি করছে, অর্থ আদায় করছে। এই প্রতারক চক্রের হাত থেকে নিরীহ মানুষকে রক্ষায় প্রশাসন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জিনজিরা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী সাকুর হোসেন সাকু, শুভাঢ্যা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী বাসেদ উদ্দিন, বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক মাসুদ হোসেন, উপদেষ্টা হাজী শাহআলম, আওলাদ হোসেন প্রমুখ।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন