‘স্বপনতেও ভাবি নাই- হামেরা পাকা ঘরোত শুতিবা পারিমো’
jugantor
‘স্বপনতেও ভাবি নাই- হামেরা পাকা ঘরোত শুতিবা পারিমো’

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:২৩:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

‘গোটা জীবনটা মাটির বাড়িত শুতি (শুয়ে) কাটাইছি, কখনও চাল দিয়া ওপর থাকি জল পড়ে, কখনও ইন্দুরে মাটির দেয়াল ফুটা করে। এঙ্করিই কষ্ট করি জীবনটা কাটাইনো। কখনও স্বপনতেও (স্বপ্ন) ভাবি নাই-হামেরা পাকা ঘরোত শুতিবা পারিমো। কিন্তু এই শেষ বয়সোত আসি প্রধানমন্ত্রী হামাক সেই ব্যবস্থা করি দিছে। হামেরা এখন পাকা ঘরোত শুতিবা পারেছি। আর এই বৃষ্টিতে ঘরোত জলও পড়ে না, ইন্দুরও ঘর কাটিবা পারে না।’

প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত পাকা বাড়ি পেয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ৬৪ বছর বয়স্ক আদিবাসী গড়া সরেন। গত কয়েকদিন আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে একটি পাকা বাড়ি বুঝিয়ে দিয়েছেন।

শুধু গড়া সরেন নয়, ওই উপজেলার সহজপুর গ্রামের সুবল মুরমুও জানান একই কথা। তিনি জানান, স্বপ্নেও ভাবিনি ইটের পাকা বাড়িতে ঘুমাতে পারবো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার সুস্থতা কামনা করেছেন।

নতুন পাকা বাড়ি পেয়ে একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন, ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বুদরায় হেম্ব্রম, সানাই টুডুসহ অন্যান্য সুবিধাভোগীরা। এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আদি পেশা কৃষি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কষ্ট করে চলে তাদের জীবন জীবিকা। এসব পরিবার এই অবস্থাতেও আধা পাকা বাড়ি পেয়ে অশেষ কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।

পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাঁওতাল পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে দিনাজপুরের খানসামায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১০টি পরিবারকে ‘আধা পাকা ইটের বাড়ি’ উপহার হিসেবে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খানসামা ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বরাদ্দ অনুযায়ী উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে ৫টি, সহজপুর গ্রামে ৩টি,পূর্ব ও পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামে ২টি মিলে মোট ১০টি সুন্দর ডিজাইনের সেমিপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়। যেখানে প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে সিলিংসহ চৌচালা রঙ্গিন টিনের ছাউনির দুইটি রং করা পাকা ঘর। যার মোট দৈর্ঘ্য ২২ ফুট এবং প্রস্থ ১০ ফুট। মেঝে পাকা করে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘরে রয়েছে একটি করে লোহার শিট দিয়ে তৈরি দরজা ও দুইটি করে জানালা। ঘরের একপাশে করা হয়েছে টয়লেট, টিউবওয়েল এবং অপরপাশে একটি পাকা বারান্দা ও সিঁড়ি। এই প্রকল্পে ১০টি বাড়ি নির্মাণের জন্য মোট ব্যয় হয়েছে ২২ লাখ টাকা।

খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে প্রতিটি গৃহহীনের গৃহের সংস্থান করার অংশ হিসেবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে প্রকৃত দরিদ্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী পরিবার বাছাই করা হয়েছে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়িগুলো তৈরি করে তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা বাড়িতে বসবাস শুরু করেছেন।

ইউএনও আরও জানান, এই উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মোট ১৬০টি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে আরও ৪০টি পরিবারকে অনুরূপ বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যাদের নিজস্ব জমি আছে ক্রমান্বয়ে তাদের সবাইকে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

তিনি জানান, পিছিয়ে পড়া এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তাদের নতুন পাকা বাড়ি দেয়ার পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে দেয়া হচ্ছে শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ যেমন স্কুল ব্যাগ, খাতা, ড্রয়িং পেনসিল, জ্যামিতি বক্স, রেইনকোট এবং সাংস্কৃতিক ও বিনোদনের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী আর বাদ্যযন্ত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও শীতবস্ত্র, স্বাস্থ্য উপকরণ, আসবাবপত্র, বাইসাইকেল প্রদান ও কর্মসংস্থানের জন্য ঝুট কাপড় থেকে পাপোশ তৈরি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

‘স্বপনতেও ভাবি নাই- হামেরা পাকা ঘরোত শুতিবা পারিমো’

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

‘গোটা জীবনটা মাটির বাড়িত শুতি (শুয়ে) কাটাইছি, কখনও চাল দিয়া ওপর থাকি জল পড়ে, কখনও ইন্দুরে মাটির দেয়াল ফুটা করে। এঙ্করিই কষ্ট করি জীবনটা কাটাইনো। কখনও স্বপনতেও (স্বপ্ন) ভাবি নাই-হামেরা পাকা ঘরোত শুতিবা পারিমো। কিন্তু এই শেষ বয়সোত আসি প্রধানমন্ত্রী হামাক সেই ব্যবস্থা করি দিছে। হামেরা এখন পাকা ঘরোত শুতিবা পারেছি। আর এই বৃষ্টিতে ঘরোত জলও পড়ে না, ইন্দুরও ঘর কাটিবা পারে না।’

প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত পাকা বাড়ি পেয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এমনই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছিলেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের ৬৪ বছর বয়স্ক আদিবাসী গড়া সরেন। গত কয়েকদিন আগেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাকে একটি পাকা বাড়ি বুঝিয়ে দিয়েছেন।

শুধু গড়া সরেন নয়, ওই উপজেলার সহজপুর গ্রামের সুবল মুরমুও জানান একই কথা। তিনি জানান, স্বপ্নেও ভাবিনি ইটের পাকা বাড়িতে ঘুমাতে পারবো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তার সুস্থতা কামনা করেছেন।

নতুন পাকা বাড়ি পেয়ে একই রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন, ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বুদরায় হেম্ব্রম, সানাই টুডুসহ অন্যান্য সুবিধাভোগীরা। এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আদি পেশা কৃষি। অন্যের বাড়িতে কাজ করে কষ্ট করে চলে তাদের জীবন জীবিকা। এসব পরিবার এই অবস্থাতেও আধা পাকা বাড়ি পেয়ে অশেষ কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি।

পিছিয়ে পড়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাঁওতাল পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নে দিনাজপুরের খানসামায় মুজিববর্ষ উপলক্ষে ১০টি পরিবারকে ‘আধা পাকা ইটের বাড়ি’ উপহার হিসেবে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

খানসামা ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের বরাদ্দ অনুযায়ী উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে ৫টি, সহজপুর গ্রামে ৩টি,পূর্ব ও পশ্চিম গোবিন্দপুর গ্রামে ২টি মিলে মোট ১০টি সুন্দর ডিজাইনের সেমিপাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়। যেখানে প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে সিলিংসহ চৌচালা রঙ্গিন টিনের ছাউনির দুইটি রং করা পাকা ঘর। যার মোট দৈর্ঘ্য ২২ ফুট এবং প্রস্থ ১০ ফুট। মেঝে পাকা করে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি ঘরে রয়েছে একটি করে লোহার শিট দিয়ে তৈরি দরজা ও দুইটি করে জানালা। ঘরের একপাশে করা হয়েছে টয়লেট, টিউবওয়েল এবং অপরপাশে একটি পাকা বারান্দা ও সিঁড়ি। এই প্রকল্পে ১০টি বাড়ি নির্মাণের জন্য মোট ব্যয় হয়েছে ২২ লাখ টাকা।

খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আহমেদ মাহবুব-উল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মতে প্রতিটি গৃহহীনের গৃহের সংস্থান করার অংশ হিসেবে এলাকায় খোঁজ নিয়ে প্রকৃত দরিদ্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী পরিবার বাছাই করা হয়েছে। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী বাড়িগুলো তৈরি করে তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা বাড়িতে বসবাস শুরু করেছেন।

ইউএনও আরও জানান, এই উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মোট ১৬০টি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের মধ্যে আরও ৪০টি পরিবারকে অনুরূপ বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। যাদের নিজস্ব জমি আছে ক্রমান্বয়ে তাদের সবাইকে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

তিনি জানান, পিছিয়ে পড়া এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তাদের নতুন পাকা বাড়ি দেয়ার পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে দেয়া হচ্ছে শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ যেমন স্কুল ব্যাগ, খাতা, ড্রয়িং পেনসিল, জ্যামিতি বক্স, রেইনকোট এবং সাংস্কৃতিক ও বিনোদনের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী আর বাদ্যযন্ত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও শীতবস্ত্র, স্বাস্থ্য উপকরণ, আসবাবপত্র, বাইসাইকেল প্রদান ও কর্মসংস্থানের জন্য ঝুট কাপড় থেকে পাপোশ তৈরি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন