বুড়িগঙ্গার দুই ঘাট বন্ধের প্রভাব কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসায়
jugantor
বুড়িগঙ্গার দুই ঘাট বন্ধের প্রভাব কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসায়

  আবু জাফর, কেরানীগঞ্জ  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:১১:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

লালকুঠি ঘাট

সদরঘাট টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় নৌ-নিরাপত্তা বিঘ্ন হওয়ার অজুহাতে বুড়িগঙ্গা নদীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাট বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। গত ৩ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিনের নেতৃত্বে নদীর পশ্চিম পাড়ের সিমসন ঘাট ও লালকুঠি ঘাট দুটি খেয়া নৌকা চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। খেয়াঘাট দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীসহ এই এলাকার হাজার হাজার মানুষ।

দেশের অভ্যন্তরীণ পোশাকের ৭০ ভাগ চাহিদা মেটানো হয় কেরানীগঞ্জের তৈরি পোশাক দিয়ে। সারা দেশের পাইকার ও কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ীরা অন্যান্য মাধ্যমের পাশাপাশি এই দুটি খেয়া ঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক ও মালামাল আনা-নেয়া করেন। কিন্তু ঘাট দুটি বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে গার্মেন্টস ব্যবসায়। পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছেন শতাধিক খেয়া নৌকার মাঝি।

জানা গেছে, ঘাট দুটি বন্ধ করার প্রতিবাদে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃত্বে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে এখানকার ব্যবসায়ীরা। ৫ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী অবরোধ করা হয়। নদী অবরোধের পাশাপাশি দক্ষিণ তীরে হাজার হাজার ব্যবসায়ী, নৌকার মাঝি, এলাকাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে ৬ সেপ্টেম্বর গার্মেন্টস পল্লী পরিদর্শনে এসে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের আশ্বাস দেন।

পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বর সদরঘাট টার্মিনালের হল রুমে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকের সভাপতিত্বে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, সদরঘাট টার্মিনালের পশ্চিম প্রান্তের পটুয়াখালী লঞ্চঘাট হতে দুটি পল্টুন আগামী তিন মাসের মধ্যে খেয়া নৌকা চলাচলের উপযোগী করে মেরামত পূর্বক একটি জেটিসহ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তৈলঘাটে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক স্থাপিত পল্টুন সরিয়ে তরিকুল্লাহ ডকইয়ার্ড সংলগ্ন স্থানে স্থাপন করা হবে। এছাড়াও আলম টাওয়ার ঘাটে একটি পল্টুন স্থাপন, খেয়াঘাটগুলোতে যাত্রী ছাউনি ও টয়লেট নির্মাণ করা হবে।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি স্বাধীন শেখ বলেন, এশিয়ার বৃহত্তম তৈরি পোশাকের মার্কেট কেরানীগঞ্জে। এখানকার গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে ৩ লক্ষাধিক লোকের জীবন জীবিকা জড়িত। জাতীয় অর্থনীতিতে এখানকার ব্যবসায়ীদের অবদান কম নয়। সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের উচিত এই শিল্পকে প্রমোট করা। কিন্তু সেটা না করে এখানকার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের নানাভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, ঘাট দুটো বন্ধ হওয়ার তৈরি পোশাক ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। এমনিতেই করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কয়েক মাস ধরে ব্যবসা নাই বললেই চলে। এই অবস্থায় খেয়া ঘাট দুটি বন্ধ করে দেয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। আমরা বিআইডব্লিউটিএর কাছে আবেদন জানাচ্ছি ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত সমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করে তারা ব্যবসায়ীদের প্রতি সুদৃষ্টি দেবেন।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (ঢাকা নদী বন্দর) একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব। আমরাও ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করছি। তাই বলে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে কারো স্বার্থ আমরা রক্ষা করবো না।

তিনি আরও বলেন, সদরঘাট টার্মিনালের ফাঁকে থাকা একটি ও লালকুঠি ঘাটটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় বন্ধ করা হয়েছে। তবে কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের দাবির কারণে দুই পক্ষের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যার স্থায়ী একটি সমাধান হবে। তবে এজন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।

বুড়িগঙ্গার দুই ঘাট বন্ধের প্রভাব কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসায়

 আবু জাফর, কেরানীগঞ্জ 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:১১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
লালকুঠি ঘাট
ফাইল ছবি

সদরঘাট টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় নৌ-নিরাপত্তা বিঘ্ন হওয়ার অজুহাতে বুড়িগঙ্গা নদীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাট বন্ধ করে দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ। গত ৩ সেপ্টেম্বর সংস্থাটির যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিনের নেতৃত্বে নদীর পশ্চিম পাড়ের সিমসন ঘাট ও লালকুঠি ঘাট দুটি খেয়া নৌকা চলাচলের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। খেয়াঘাট দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীসহ এই এলাকার হাজার হাজার মানুষ।

দেশের অভ্যন্তরীণ পোশাকের ৭০ ভাগ চাহিদা মেটানো হয় কেরানীগঞ্জের তৈরি পোশাক দিয়ে। সারা দেশের পাইকার ও কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ীরা অন্যান্য মাধ্যমের পাশাপাশি এই দুটি খেয়া ঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক ও মালামাল আনা-নেয়া করেন। কিন্তু ঘাট দুটি বন্ধ থাকায় এর প্রভাব পড়েছে গার্মেন্টস ব্যবসায়। পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়েছেন শতাধিক খেয়া নৌকার মাঝি।

জানা গেছে, ঘাট দুটি বন্ধ করার প্রতিবাদে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃত্বে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে এখানকার ব্যবসায়ীরা। ৫ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জ এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদী অবরোধ করা হয়। নদী অবরোধের পাশাপাশি দক্ষিণ তীরে হাজার হাজার ব্যবসায়ী, নৌকার মাঝি, এলাকাবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে ৬ সেপ্টেম্বর গার্মেন্টস পল্লী পরিদর্শনে এসে কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বিষয়টির একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের আশ্বাস দেন।

পরবর্তীতে ৯ সেপ্টেম্বর সদরঘাট টার্মিনালের হল রুমে বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকের সভাপতিত্বে গার্মেন্টস ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় দুই পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, সদরঘাট টার্মিনালের পশ্চিম প্রান্তের পটুয়াখালী লঞ্চঘাট হতে দুটি পল্টুন আগামী তিন মাসের মধ্যে খেয়া নৌকা চলাচলের উপযোগী করে মেরামত পূর্বক একটি জেটিসহ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি তৈলঘাটে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক স্থাপিত পল্টুন সরিয়ে তরিকুল্লাহ ডকইয়ার্ড সংলগ্ন স্থানে স্থাপন করা হবে। এছাড়াও আলম টাওয়ার ঘাটে একটি পল্টুন স্থাপন, খেয়াঘাটগুলোতে যাত্রী ছাউনি ও টয়লেট নির্মাণ করা হবে।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি স্বাধীন শেখ বলেন, এশিয়ার বৃহত্তম তৈরি পোশাকের মার্কেট কেরানীগঞ্জে। এখানকার গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে ৩ লক্ষাধিক লোকের জীবন জীবিকা জড়িত। জাতীয় অর্থনীতিতে এখানকার ব্যবসায়ীদের অবদান কম নয়। সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের উচিত এই শিল্পকে প্রমোট করা। কিন্তু সেটা না করে এখানকার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের নানাভাবে কোণঠাসা করা হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, ঘাট দুটো বন্ধ হওয়ার তৈরি পোশাক ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। এমনিতেই করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। কয়েক মাস ধরে ব্যবসা নাই বললেই চলে। এই অবস্থায় খেয়া ঘাট দুটি বন্ধ করে দেয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। আমরা বিআইডব্লিউটিএর কাছে আবেদন জানাচ্ছি ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত সমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন করে তারা ব্যবসায়ীদের প্রতি সুদৃষ্টি দেবেন।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (ঢাকা নদী বন্দর) একেএম আরিফ উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব। আমরাও ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করছি। তাই বলে মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে কারো স্বার্থ আমরা রক্ষা করবো না।

তিনি আরও বলেন, সদরঘাট টার্মিনালের ফাঁকে থাকা একটি ও লালকুঠি ঘাটটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকায় বন্ধ করা হয়েছে। তবে কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের দাবির কারণে দুই পক্ষের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন হলে এই সমস্যার স্থায়ী একটি সমাধান হবে। তবে এজন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন