বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরার কয়েকটি কিশোর গ্যাং
jugantor
বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরার কয়েকটি কিশোর গ্যাং

  সাতক্ষীরা প্রতিনিধি  

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২১:২৯:৪৯  |  অনলাইন সংস্করণ

বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরা শহরের কয়েকটি কিশোর গ্যাং। ছোটবড় নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে তারা। চাঁদাবাজি, মারপিট, দলবদ্ধ হয়ে হামলা করা, মেয়েদের স্কুলকলেজে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত করা এমনকি ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি লোড করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে টাকাপয়সা আদায়ের মত ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, শহরের সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থানকে টার্গেট করে কিশোর অপরাধী চক্রটি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে বেড়ায়। এ সময় তাদের কাছে থাকে ছুরি, চাকুসহ নানা ধরনের অস্ত্র। সন্ধ্যার পর এসব চক্র নিয়মিত বসে নেশার আড্ডায়।

অভিভাবকহীন অথবা অভিভাবক থাকলেও তার তোয়াক্কা না করা এসব কিশোর অপরাধী চক্র নিজেদের মধ্যেও খুনোখুনির মত ঘটনা ঘটাচ্ছে। গত শুক্রবার চায়ের দোকানের বিল দেয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের ইটাগাছা বাঙালের মোড়ে জাহিদ হাসান ও নাহিদ হাসান তাদেরই গ্যাং সদস্য ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুর রহমান অন্তুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এ সময় তার চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যায়। অন্তুকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

ইটাগাছা বাঙালের মোড়ে জাহিদ হাসান, অপু, নাহিদ হাসান (১) ও নাহিদ হাসান (২), সোহেল রানা এবং মুজাহিদুর রহমান অন্তুসহ ১৫ সদস্যের এই গ্যাং এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জাহিদ, নাহিদ, সোহেল ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য। এর আগে এই গ্রুপের সদস্যরা তাদেরই সহযোগী মুজাহিদুর রহমান অন্তুকে অপহরণ করে। কয়েকদিন পর তাকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সম্প্রতি তারা শহরের ন্যাশনাল হাসপাতালে যেয়ে চাঁদা আদায় করেছে। চাঁদা না দিলে তাদের ক্ষতি হবে বলে হুমকিও দিয়েছিল তারা। তাদের চাঁদা আদায়ের আরও টার্গেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি শাখা, বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তরাঁ এবং ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তাদের কাছে সবসময় ছুরি, চাকু ও চাপাতি থাকে। এসব গ্যাং সদস্যদের কেউ কেউ স্কুলের গণ্ডি পার হতে পারেনি। অপরদিকে কয়েকজন কলেজে ঢুকে অপরাধের খাতায় নাম লিখিয়েছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, এরা সবাই বিলুপ্ত জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমানের অনুসারী। সাদিকুর এখন কয়েকটি মামলায় জেলে আটক রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে সাদিকের সহযোগী কিশোর অপরাধী শহরের মুন্সিপাড়ার সোহাগ তার সহযোগীদের হাতে খুন হয়। কিন্তু সে সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাজনৈতিক ডামাডোলে এই খুনের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালে সাতক্ষীরা শহরে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল সৈয়দ সাদিকুর রহমান নিয়ন্ত্রণাধীন কিশোর গ্যাং সদস্যরা। একই সময় পারভেজ নামের একজন ছাত্রলীগ নেতা এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়। পরে অবশ্য তিনি মুক্তি পান।

শহরে গড়ে ওঠা এই গ্যাংগুলো এখনও রীতিমত সক্রিয়। এদের মধ্যে রয়েছে মুনজিতপুরের কাজী সাদিক দীপ, নাজমুল সাকিব, রাবিব, আবুল কালাম, আবদুল্লাহ আল নোমান, মৃনাল মণ্ডল, সৈয়দ ফয়সাল ফাহিম, মুন্সিপাড়ার নিশান, মাটিয়াডাঙার তৌকির আহমেদ, পুরাতন সাতক্ষীরার নাইম সরোয়ার, নিউমার্কেট এলাকার সাদমান সাকিব, বাইপাস এলাকার সাগর, জেলখানা এলাকার টিপুসহ বেশ কয়েকজন। তারা সবাই এখনও ছোটবড় অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও শহরের কলেজপাড়া, মুন্সিপাড়া, খুলনারোড মোড়, কামালনগর এবং ফুড অফিস ও পোস্ট অফিস মোড় জুড়ে বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা যাকে তাকে মারধর, মেয়েদের নিয়ে বাজে কথা বলা ও তাদের ধাওয়া করা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, বিকট আওয়াজ করে মোটরসাইকেল হাঁকানোসহ নানা ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে এসব কিশোর অপরাধী।

এদিকে সম্প্রতি দেবহাটায় ছিনতাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১২ জন কিশোর অপরাধীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি এসে আরও একাধিক চুরির মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

কিশোর অপরাধী চক্র সম্পর্কে জানতে চাইলে সদর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, এমন অভিযোগ পেলেই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এদের বেশিরভাগই মাদকসেবী।

তিনি আরও জানান, যারা অন্তুর চারটি আঙুল কেটে নিয়েছে তাদেরকেও ধরার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরার কয়েকটি কিশোর গ্যাং

 সাতক্ষীরা প্রতিনিধি 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৯:২৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরা শহরের কয়েকটি কিশোর গ্যাং। ছোটবড় নানা ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে তারা। চাঁদাবাজি, মারপিট, দলবদ্ধ হয়ে হামলা করা, মেয়েদের স্কুলকলেজে যাতায়াতের পথে উত্ত্যক্ত করা এমনকি ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি লোড করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে টাকাপয়সা আদায়ের মত ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, শহরের সরকারি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থানকে টার্গেট করে কিশোর অপরাধী চক্রটি সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরে বেড়ায়। এ সময় তাদের কাছে থাকে ছুরি, চাকুসহ নানা ধরনের অস্ত্র। সন্ধ্যার পর এসব চক্র নিয়মিত বসে নেশার আড্ডায়।

অভিভাবকহীন অথবা অভিভাবক থাকলেও তার তোয়াক্কা না করা এসব কিশোর অপরাধী চক্র নিজেদের মধ্যেও খুনোখুনির মত ঘটনা ঘটাচ্ছে। গত শুক্রবার চায়ের দোকানের বিল দেয়ার মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের ইটাগাছা বাঙালের মোড়ে জাহিদ হাসান ও নাহিদ হাসান তাদেরই গ্যাং সদস্য ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুর রহমান অন্তুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এ সময় তার চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে যায়। অন্তুকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

ইটাগাছা বাঙালের মোড়ে জাহিদ হাসান, অপু, নাহিদ হাসান (১) ও নাহিদ হাসান (২), সোহেল রানা এবং মুজাহিদুর রহমান অন্তুসহ ১৫ সদস্যের এই গ্যাং এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। জাহিদ, নাহিদ, সোহেল ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সদস্য। এর আগে এই গ্রুপের সদস্যরা তাদেরই সহযোগী মুজাহিদুর রহমান অন্তুকে অপহরণ করে। কয়েকদিন পর তাকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সম্প্রতি তারা শহরের ন্যাশনাল হাসপাতালে যেয়ে চাঁদা আদায় করেছে। চাঁদা না দিলে তাদের ক্ষতি হবে বলে হুমকিও দিয়েছিল তারা। তাদের চাঁদা আদায়ের আরও টার্গেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি শাখা, বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তরাঁ এবং ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তাদের কাছে সবসময় ছুরি, চাকু ও চাপাতি থাকে। এসব গ্যাং সদস্যদের কেউ কেউ স্কুলের গণ্ডি পার হতে পারেনি। অপরদিকে কয়েকজন কলেজে ঢুকে অপরাধের খাতায় নাম লিখিয়েছে।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, এরা সবাই বিলুপ্ত জেলা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাদিকুর রহমানের অনুসারী। সাদিকুর এখন কয়েকটি মামলায় জেলে আটক রয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৮ সালে সাদিকের সহযোগী কিশোর অপরাধী শহরের মুন্সিপাড়ার সোহাগ তার সহযোগীদের হাতে খুন হয়। কিন্তু সে সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং রাজনৈতিক ডামাডোলে এই খুনের ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যায়।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালে সাতক্ষীরা শহরে বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিল সৈয়দ সাদিকুর রহমান নিয়ন্ত্রণাধীন কিশোর গ্যাং সদস্যরা। একই সময় পারভেজ নামের একজন ছাত্রলীগ নেতা এ ঘটনায় গ্রেফতার হয়। পরে অবশ্য তিনি মুক্তি পান।

শহরে গড়ে ওঠা এই গ্যাংগুলো এখনও রীতিমত সক্রিয়। এদের মধ্যে রয়েছে মুনজিতপুরের কাজী সাদিক দীপ, নাজমুল সাকিব, রাবিব, আবুল কালাম, আবদুল্লাহ আল নোমান, মৃনাল মণ্ডল, সৈয়দ ফয়সাল ফাহিম, মুন্সিপাড়ার নিশান, মাটিয়াডাঙার তৌকির আহমেদ, পুরাতন সাতক্ষীরার নাইম সরোয়ার, নিউমার্কেট এলাকার সাদমান সাকিব, বাইপাস এলাকার সাগর, জেলখানা এলাকার টিপুসহ বেশ কয়েকজন। তারা সবাই এখনও ছোটবড় অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও শহরের কলেজপাড়া, মুন্সিপাড়া, খুলনারোড মোড়, কামালনগর এবং ফুড অফিস ও পোস্ট অফিস মোড় জুড়ে বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা যাকে তাকে মারধর, মেয়েদের নিয়ে বাজে কথা বলা ও তাদের ধাওয়া করা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, বিকট আওয়াজ করে মোটরসাইকেল হাঁকানোসহ নানা ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছে এসব কিশোর অপরাধী।

এদিকে সম্প্রতি দেবহাটায় ছিনতাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ১২ জন কিশোর অপরাধীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি এসে আরও একাধিক চুরির মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
 
কিশোর অপরাধী চক্র সম্পর্কে জানতে চাইলে সদর থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান জানান, এমন অভিযোগ পেলেই তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এদের বেশিরভাগই মাদকসেবী।

তিনি আরও জানান, যারা অন্তুর চারটি আঙুল কেটে নিয়েছে তাদেরকেও ধরার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন