বাঁশের সাঁকোই তাদের ভরসা
jugantor
বাঁশের সাঁকোই তাদের ভরসা

  সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:০২:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

রাঙ্গামাটির কাউখালীতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল করছেন কয়েক গ্রামের মানুষ। উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘিলাছড়ি মৌজার বামে উল্টাপাড়া, ডানে উল্টাপাড়া, রাঙ্গীপাড়া, পানছড়ি ও তালুকদারপাড়া গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলছেন এই সেতু দিয়ে।

সরেজমিন দেখা যায়, স্থানীয়দের চলাচলের জন্য ডানে উল্টাপাড়া দিয়ে একটি মাত্র কাঁচা রাস্তা। মাঝখানে একটি পাহাড়ি ছড়া রাস্তাটি বিচ্ছিন্ন করেছে। সেখানে স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো দিয়ে রাস্তার সংযোগ দেন। সেই বাঁশের সাঁকোতে যুগযুগ ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন তারা।

স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিতে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু জরুরি বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তুষার কান্তি চাকমা।

তিনি জানান, ওই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বামে উল্টাপাড়াসহ কাছাকাছি কয়েকটি গ্রাম অবস্থিত। ওইসব গ্রামবাসীর চলাচল করে আসছেন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে। গ্রামের মানুষ নিজেরা তা তৈরি করেছেন। হাজারের অধিক মানুষের পারাপার ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে। স্থানীয়রা পেশায় প্রায় কৃষক ও শ্রমজীবী।

তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতসহ প্রাত্যহিক যাতায়াত বাঁশের সাঁকো সংযুক্ত একটি মাত্র কাঁচা রাস্তা দিয়ে। রাস্তাটির বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি ছড়ার দৈর্ঘ্য মাত্র ২০০ গজের মতো। ওইসব এলাকার শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে উপজেলা সদরে অবস্থিত কাউখালী কলেজে এবং বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে।

স্থানীয় প্রাথমিক শিশুরাও চলাচল করে ওই রাস্তা দিয়ে। বেচাকেনার জন্য স্থানীয়দের যেতে হয় কাউখালী উপজেলার সদর, রাণীরহাট ও ঘাগড়া বাজারে।

রাঙ্গামাটি জেলা সদরসহ বাইরে কোথাও যাতায়াতেও পারাপার যেতে হয় ওই বাঁশের সাঁকো পার হয়ে। সাঁকোতে চলাচলে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি বাড়ে মারাত্মক আকারে।

সেতুর অভাবে ওই রাস্তার বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিতে চলাচল করছেন স্থানীয় বহু লোকজন। ওইসব এলাকায় রয়েছে দুটি বৌদ্ধ বিহার, একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের মাধ্যম বাঁশের সেতুটি।

স্থানীয় মুরুব্বি মনিন্দ্র তালুকদার ও মন্টু বিকাশ চাকমা বলেন, তাদের একমাত্র গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাটি নির্মাণসহ সংরক্ষণ করছেন নিজেরাই। রাস্তার বিচ্ছিন্ন জায়গায় একটি সেতু হলে ঝুঁকিমুক্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত হতো তাদের। তাতে দ্রুত পাল্টে যেত জীবনযাত্রার মান। ঝুঁকিমুক্ত হয়ে যাতায়াত করতে পারত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। তাই রাস্তার বিচ্ছিন্ন স্থানে একটি সেতু নির্মাণে দাবি স্থানীয়দের।

বাঁশের সাঁকোই তাদের ভরসা

 সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙ্গামাটি 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:০২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাঙ্গামাটির কাউখালীতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল করছেন কয়েক গ্রামের মানুষ। উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘিলাছড়ি মৌজার বামে উল্টাপাড়া, ডানে উল্টাপাড়া, রাঙ্গীপাড়া, পানছড়ি ও তালুকদারপাড়া গ্রামের হাজার হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলছেন এই সেতু দিয়ে।

সরেজমিন দেখা যায়, স্থানীয়দের চলাচলের জন্য ডানে উল্টাপাড়া দিয়ে একটি মাত্র কাঁচা রাস্তা। মাঝখানে একটি পাহাড়ি ছড়া রাস্তাটি বিচ্ছিন্ন করেছে। সেখানে স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো দিয়ে রাস্তার সংযোগ দেন। সেই বাঁশের সাঁকোতে যুগযুগ ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন তারা।

স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিতে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু জরুরি বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তুষার কান্তি চাকমা।

তিনি জানান, ওই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বামে উল্টাপাড়াসহ কাছাকাছি কয়েকটি গ্রাম অবস্থিত। ওইসব গ্রামবাসীর চলাচল করে আসছেন ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে। গ্রামের মানুষ নিজেরা তা তৈরি করেছেন। হাজারের অধিক মানুষের পারাপার ওই বাঁশের সাঁকো দিয়ে। স্থানীয়রা পেশায় প্রায় কৃষক ও শ্রমজীবী।

তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতসহ প্রাত্যহিক যাতায়াত বাঁশের সাঁকো সংযুক্ত একটি মাত্র কাঁচা রাস্তা দিয়ে। রাস্তাটির বিচ্ছিন্ন পাহাড়ি ছড়ার দৈর্ঘ্য মাত্র ২০০ গজের মতো। ওইসব এলাকার শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা করে উপজেলা সদরে অবস্থিত কাউখালী কলেজে এবং বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে।

স্থানীয় প্রাথমিক শিশুরাও চলাচল করে ওই রাস্তা দিয়ে। বেচাকেনার জন্য স্থানীয়দের যেতে হয় কাউখালী উপজেলার সদর, রাণীরহাট ও ঘাগড়া বাজারে। 

রাঙ্গামাটি জেলা সদরসহ বাইরে কোথাও যাতায়াতেও পারাপার যেতে হয় ওই বাঁশের সাঁকো পার হয়ে। সাঁকোতে চলাচলে বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি বাড়ে মারাত্মক আকারে।

সেতুর অভাবে ওই রাস্তার বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকিতে চলাচল করছেন স্থানীয় বহু লোকজন। ওইসব এলাকায় রয়েছে দুটি বৌদ্ধ বিহার, একটি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের মাধ্যম বাঁশের সেতুটি।

স্থানীয় মুরুব্বি মনিন্দ্র তালুকদার ও মন্টু বিকাশ চাকমা বলেন, তাদের একমাত্র গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাটি নির্মাণসহ সংরক্ষণ করছেন নিজেরাই। রাস্তার বিচ্ছিন্ন জায়গায় একটি সেতু হলে ঝুঁকিমুক্ত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত হতো তাদের। তাতে দ্রুত পাল্টে যেত জীবনযাত্রার মান। ঝুঁকিমুক্ত হয়ে যাতায়াত করতে পারত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা। তাই রাস্তার বিচ্ছিন্ন স্থানে একটি সেতু নির্মাণে দাবি স্থানীয়দের।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন