মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন তারা
jugantor
মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন তারা

  আব্দুর রব, বড়লেখা (মৌলভীবাজার)  

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৩০:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের দৃষ্টিনন্দন পাকাঘরে বসবাস শুরু করেছে ২৬২ অস্বচ্ছল ও দুস্থ পরিবার। এর মধ্যে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, দিনমজুর, রিকশাচালক, তালাকপ্রাপ্ত নারী, বিধবা, অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা চালানো অতিদরিদ্র নারীও রয়েছেন।

যারা কখনও কল্পনাও করেননি কোনো দিন পাকা ঘরে বসবাস করবেন। উপজেলা প্রশাসন সরকারের ৪টি প্রকল্পের অর্থায়নে গত ৩০ জুনের মধ্যে এসব ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সরকারের সর্বমোট ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা।

সরেজমিনে গেলে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকাঘরে বসবাসকারী উপজেলার তালিমপুর ইউপির খুঠাউরা গ্রামের বিধবা ফাতেমা বেগম জানান, হাওর শ্রমিক স্বামী নিয়ামত আলী মারা যাওয়ায় ২ সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা চালান। খড়ের ছাউনি আর ইকোড় বেতের বেড়ার ছোট্ট ঘরে পশুপাখির মতো মেঘ-বৃষ্টি, ঝড়-তুফানের সঙ্গে যুদ্ধ করেই থাকতেন। নানা দুর্যোগ আতঙ্কে এক মুহূর্তও শান্তিতে ঘুমাননি। কোনো দিন কল্পনাও করেননি পাকাঘরে ঘুমাবেন।

সরকারি অর্থায়নে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন পাকাঘর নির্মাণ করে দেয়ায় এখন তিনি ছেলে-মেয়ে নিয়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে দুলাল আহমদ ঘরে বসেই বিদ্যুতের আলোয় পড়াশুনা করছে।

গ্রামীণ দরিদ্র গৃহহীন জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ প্রকল্পের আওতায় বিধবা ফাতেমা বেগমের মতো অসহায়-অসচ্ছল আরও ২৩ পরিবার পেয়েছে পাকা বাড়ি।

উপজেলা সমাজসেবা ও পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৫টি অসচ্ছল চা শ্রমিক পরিবারকে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে মডেল আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ৫টি পাকাঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ এর যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ ভূমিতে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় সর্বমোট ২২৩টি অস্বচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

বাছাইকৃতদের মধ্যে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, দিনমজুর, রিকশা চালক, স্বামী পরিত্যক্তা, অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করা অতিদরিদ্র নারীও রয়েছেন। একই মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলার আরও ২৪টি অসহায়-দরিদ্র পরিবারকে ৭১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৪০ টাকা ব্যয়ে ২৪টি পাকা বসতঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান জানান, প্রত্যেকটি প্রকল্পের পাকাঘর নির্মাণের সব উপকরণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সংশ্লিষ্টদের তিনি তা ব্যবহারের অনুমতি দেন। কাজের সময় তিনি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করায় প্রত্যেকটি ঘর অত্যন্ত মানসম্পন্ন ও টেকসই হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দৃষ্টিনন্দন এসব পাকাঘর পেয়ে দরিদ্র উপকারভোগীরা অত্যন্ত খুশি। সরকারীভাবে ২৬২টি পাকাঘর নির্মাণ করে দেয়ায় উপজেলার সহস্রাধিক দরিদ্র-অসচ্ছল মানুষ উন্নত আবাসনের আওতায় এসেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ উবায়েদ উল্লাহ খান জানান, নির্মিত ঘরগুলো গত ৩০ জুনের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেন তারা

 আব্দুর রব, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) 
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৩০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের দৃষ্টিনন্দন পাকাঘরে বসবাস শুরু করেছে ২৬২ অস্বচ্ছল ও দুস্থ পরিবার। এর মধ্যে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, দিনমজুর, রিকশাচালক, তালাকপ্রাপ্ত নারী, বিধবা, অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা চালানো অতিদরিদ্র নারীও রয়েছেন।

যারা কখনও কল্পনাও করেননি কোনো দিন পাকা ঘরে বসবাস করবেন। উপজেলা প্রশাসন সরকারের ৪টি প্রকল্পের অর্থায়নে গত ৩০ জুনের মধ্যে এসব ঘর নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে সরকারের সর্বমোট ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা।

সরেজমিনে গেলে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের পাকাঘরে বসবাসকারী উপজেলার তালিমপুর ইউপির খুঠাউরা গ্রামের বিধবা ফাতেমা বেগম জানান, হাওর শ্রমিক স্বামী নিয়ামত আলী মারা যাওয়ায় ২ সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জীবিকা চালান। খড়ের ছাউনি আর ইকোড় বেতের বেড়ার ছোট্ট ঘরে পশুপাখির মতো মেঘ-বৃষ্টি, ঝড়-তুফানের সঙ্গে যুদ্ধ করেই থাকতেন। নানা দুর্যোগ আতঙ্কে এক মুহূর্তও শান্তিতে ঘুমাননি। কোনো দিন কল্পনাও করেননি পাকাঘরে ঘুমাবেন।

সরকারি অর্থায়নে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দৃষ্টিনন্দন পাকাঘর নির্মাণ করে দেয়ায় এখন তিনি ছেলে-মেয়ে নিয়ে শান্তিতে ঘুমাচ্ছেন। তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া ছেলে দুলাল আহমদ ঘরে বসেই বিদ্যুতের আলোয় পড়াশুনা করছে।

গ্রামীণ দরিদ্র গৃহহীন জনগোষ্ঠীর দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ প্রকল্পের আওতায় বিধবা ফাতেমা বেগমের মতো অসহায়-অসচ্ছল আরও ২৩ পরিবার পেয়েছে পাকা বাড়ি।

উপজেলা সমাজসেবা ও পিআইও অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ৫টি অসচ্ছল চা শ্রমিক পরিবারকে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের অর্থায়নে চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে মডেল আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত ৫টি পাকাঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ এর যার জমি আছে ঘর নাই, তার নিজ ভূমিতে গৃহ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলায় সর্বমোট ২২৩টি অস্বচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারকে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে। এতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

বাছাইকৃতদের মধ্যে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, দিনমজুর, রিকশা চালক, স্বামী পরিত্যক্তা, অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করা অতিদরিদ্র নারীও রয়েছেন। একই মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলার আরও ২৪টি অসহায়-দরিদ্র পরিবারকে ৭১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৪০ টাকা ব্যয়ে ২৪টি পাকা বসতঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়েছে।

ইউএনও মো. শামীম আল ইমরান জানান, প্রত্যেকটি প্রকল্পের পাকাঘর নির্মাণের সব উপকরণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সংশ্লিষ্টদের তিনি তা ব্যবহারের অনুমতি দেন। কাজের সময় তিনি ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এবং সমাজসেবা কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করায় প্রত্যেকটি ঘর অত্যন্ত মানসম্পন্ন ও টেকসই হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের দৃষ্টিনন্দন এসব পাকাঘর পেয়ে দরিদ্র উপকারভোগীরা অত্যন্ত খুশি। সরকারীভাবে ২৬২টি পাকাঘর নির্মাণ করে দেয়ায় উপজেলার সহস্রাধিক দরিদ্র-অসচ্ছল মানুষ উন্নত আবাসনের আওতায় এসেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ উবায়েদ উল্লাহ খান জানান, নির্মিত ঘরগুলো গত ৩০ জুনের মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন