১১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ১০০ বছরের রেকর্ড ভাঙল রংপুর
jugantor
১১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ১০০ বছরের রেকর্ড ভাঙল রংপুর

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:৪৩:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে সর্বোচ্চ ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ওই বৃষ্টিপাত রংপুরের শত বছরের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ৯০ ভাগ এলাকা পানিতে ডুবে জনজীবনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নগরীর অপেক্ষঅকৃত বেশি পানিতে ডুবে থাকা এলাকায় রংপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের রেসকিউ নৌকা নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। নগরীর প্রধান সড়ক প্রায় ২ ফুট থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানিতে ডুবে আছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নগরীর প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ।

শুধু তাই নয় পাড়া-মহল্লার বাসাবাড়িতে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে। নগরী পয়নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে এই বৃষ্টিপাতে নগরবাসীকে জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে নগরীর বাসিন্দারা মনে করেন।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়িঘর ডুবে থাকায় অনেকে অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। নগরীর পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পানি প্রবাহের জন্য প্রায় শত বছর আগে খননকৃত একমাত্র শ্যামাসুন্দরী খাল সংস্কার করার নামে সরকারি অর্থ লুটপাট করায় খালের যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে নগরবাসীর অভিযোগ।

একাধিক বিপণিবিতানের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় অনেক ব্যবসায়ীর বিভিন্ন মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকের মালামাল রাখার গুদাম ঘরে পানিতে বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। এর পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা হবে বলে একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। অনেকের বাসা বাড়িতে ঘরের ভেতর পানিতে ভিজে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ও খাদ্য শস্য নষ্ট হয়ে গেছে।

নগরীর সমাজকল্যাণ বিদ্যাবিথী স্কুল অ্যান্ড কলেজে আশ্রয় নিয়েছে ১৫টি পরিবার। এদের মধ্যে সানজিদা বেগম জানান, মুলাটোল ও সেনপাড়া মহল্লার প্রায় সিংহভাগ এলাকা ডুবে গেছে। তার বাসা সেনপাড়ায় ৫ সদস্যের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। তার মতো মুলাটোল, সেনপাড়া ও নিউ সেনপড়া ১৫টি পরিবার এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। বাসা বাড়ি ও ঘরের আসবাবপত্র পানিতে ডুবে আছে। ঘরে রান্না করে খাবার পরিস্থিতি নাই।

মুলাটোলে থানা মোড়ে আশ্রয় নিয়েছেন গৃহিণী আছিয়া বেগম। তিনি জানান, তার ঘরের ভেতর বিছানাপত্র পানিতে ডুবে আছে। ঘরের আসবাবপত্রসহ ব্যবসার জন্য মজুদ মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নুরজাহান বেগম, গুপ্তপাড়া মহল্লার বাসিন্দা তিনি জানান, তার ঘরের ভেতর পানিতে সব ডুবে আছে। তার ঘরের ব্যবসায়িক পণ্যগুলো পানিতে ভিজে গেছে। এগুলো তিনি কোথায় নিরাপদে রাখবেন সে আশ্রয়টুকুও নেই তার।

এই পরিস্থিতির কারণে নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানিবন্দি মানুষকে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। দিনভর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি লোকজনের কোনো খোঁজখবর না নেয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লোকজনকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা গেছে।

পানিবন্দি লোকজনের খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ বাসা বাড়ি শৌচাগারগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লোকজন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে; যা রংপুরের শত বছরের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই বৃষ্টিপাত আরও দুই দিন থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

পরিস্থিতি নিয়ে জানতে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানিয়েছেন, তিনি সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রিত প্রায় তিন শতাধিক পরিবারকে শুকনো খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনকে ২০ টন চাল দেয়া হয়েছে, সেগুলো তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করতে বলা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জেলা প্রশাসক জানান।

এদিকে পীরগাছা, কাউনিয়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও পীরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। হাজার হাজার একর ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে। নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলোর বাড়িঘর পানিতে ডুবে গেছে।

১১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে ১০০ বছরের রেকর্ড ভাঙল রংপুর

 মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে সর্বোচ্চ ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। রংপুর আবহাওয়া অফিসের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ওই বৃষ্টিপাত রংপুরের শত বছরের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের ৯০ ভাগ এলাকা পানিতে ডুবে জনজীবনে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নগরীর অপেক্ষঅকৃত বেশি পানিতে ডুবে থাকা এলাকায় রংপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের রেসকিউ নৌকা নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। নগরীর প্রধান সড়ক প্রায় ২ ফুট থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানিতে ডুবে আছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নগরীর প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ।

শুধু তাই নয় পাড়া-মহল্লার বাসাবাড়িতে ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে। নগরী পয়নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে এই বৃষ্টিপাতে নগরবাসীকে জনদুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে নগরীর বাসিন্দারা মনে করেন।

নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়িঘর ডুবে থাকায় অনেকে অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ও বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। নগরীর পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পানি প্রবাহের জন্য প্রায় শত বছর আগে খননকৃত একমাত্র শ্যামাসুন্দরী খাল সংস্কার করার নামে সরকারি অর্থ লুটপাট করায় খালের যথাযথ সংস্কার না হওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে নগরবাসীর অভিযোগ।

একাধিক বিপণিবিতানের ভেতর পানি ঢুকে পড়ায় অনেক ব্যবসায়ীর বিভিন্ন মালামাল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকের মালামাল রাখার গুদাম ঘরে পানিতে বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। এর পরিমাণ প্রায় অর্ধকোটি টাকা হবে বলে একাধিক ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। অনেকের বাসা বাড়িতে ঘরের ভেতর পানিতে ভিজে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ও খাদ্য শস্য নষ্ট হয়ে গেছে।

নগরীর সমাজকল্যাণ বিদ্যাবিথী স্কুল অ্যান্ড কলেজে আশ্রয় নিয়েছে ১৫টি পরিবার। এদের মধ্যে সানজিদা বেগম জানান, মুলাটোল ও সেনপাড়া মহল্লার প্রায় সিংহভাগ এলাকা ডুবে গেছে। তার বাসা সেনপাড়ায় ৫ সদস্যের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। তার মতো মুলাটোল, সেনপাড়া ও নিউ সেনপড়া ১৫টি পরিবার এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। বাসা বাড়ি ও ঘরের আসবাবপত্র পানিতে ডুবে আছে। ঘরে রান্না করে খাবার পরিস্থিতি নাই।

মুলাটোলে থানা মোড়ে আশ্রয় নিয়েছেন গৃহিণী আছিয়া বেগম। তিনি জানান, তার ঘরের ভেতর বিছানাপত্র পানিতে ডুবে আছে। ঘরের আসবাবপত্রসহ ব্যবসার জন্য মজুদ মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নুরজাহান বেগম, গুপ্তপাড়া মহল্লার বাসিন্দা তিনি জানান, তার ঘরের ভেতর পানিতে সব ডুবে আছে। তার ঘরের ব্যবসায়িক পণ্যগুলো পানিতে ভিজে গেছে। এগুলো তিনি কোথায় নিরাপদে রাখবেন সে আশ্রয়টুকুও নেই তার।

এই পরিস্থিতির কারণে নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বিভিন্ন এলাকা থেকে পানিবন্দি মানুষকে সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। দিনভর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি লোকজনের কোনো খোঁজখবর না নেয়ায় নগরীর বিভিন্ন এলাকায় লোকজনকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে দেখা গেছে।

পানিবন্দি লোকজনের খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ বাসা বাড়ি শৌচাগারগুলো পানিতে ডুবে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লোকজন।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে ৪৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে; যা রংপুরের শত বছরের বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। এই বৃষ্টিপাত আরও দুই দিন থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

পরিস্থিতি নিয়ে জানতে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানিয়েছেন, তিনি সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেছেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রিত প্রায় তিন শতাধিক পরিবারকে শুকনো খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনকে ২০ টন চাল দেয়া হয়েছে, সেগুলো তালিকা অনুযায়ী বিতরণ করতে বলা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জেলা প্রশাসক জানান।

এদিকে পীরগাছা, কাউনিয়া, বদরগঞ্জ, তারাগঞ্জ ও পীরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। হাজার হাজার একর ফসল পানির নিচে ডুবে গেছে। নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলোর বাড়িঘর পানিতে ডুবে গেছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন