তিস্তায় বিলীন চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
jugantor
তিস্তায় বিলীন চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

  এনামুল হক, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম)  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:৪২:১৫  |  অনলাইন সংস্করণ

স্কুল

কয়েক দিনের টানাবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ওই এলাকার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সেই সাথে ২০টি পরিবারের বসতবাড়িসহ বাস্তুভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর পশ্চিম তীরে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চরবিদ্যানন্দ গ্রামে অবস্থিত। ১৯৯৮ সালে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪৭ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর চরাঞ্চলের ছেলেময়েরা ওই প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে আসছে। বেশ কয়েক দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। এতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়ে পশ্চিম তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এর ফলে ওই বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে পড়েছিল।

এ কারণে গত ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা শিক্ষা অফিস বিদ্যালয়টির জন্য সর্বসাধারণের মাঝে ওপেন টেন্ডার আহবান করে। কিন্তু টেন্ডারে কেউ এগিয়ে না আসায় বিদ্যালয়টি ওই অবস্থায় পড়েছিল। গত শুক্রবার রাতে বিদ্যালয় ভবনের নিচ দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হলে ভবনটির কিছু অংশ ধসে পড়ে। ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১১টার দিকে ভবনের একটি অংশ ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে নদীতে বিলীন হতে থাকে। এতে ওই প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর পড়াশুনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলে বসবাসকারী অভিভাবকরাও তাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েদের নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

এ ব্যাপারে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক অনন্ত কুমার সরকার বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির নিলামের জন্য আবেদন করা হয়।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভবনটি ৩০ হাজার টাকায় নিলাম ডাক হয়েছিল। কিন্তু না দেয়ায় অর্ধেকটা নদীগর্ভে ধসে পড়ে।

২৭ সেপ্টেম্বর রোববার রাজারহাট উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সোলায়মান আলী বলেন, টেন্ডার দেয়ার পরও কেউ এগিয়ে না আসায় ভবনটি নদীতে চলে যায়। প্রধান শিক্ষককে আসবাবপত্র ও দরজা-জানালাগুলো সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান খুললে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে।

তিস্তায় বিলীন চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 এনামুল হক, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:৪২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
স্কুল
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন

কয়েক দিনের টানাবর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনের কবলে পড়ে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ওই এলাকার ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সেই সাথে ২০টি পরিবারের বসতবাড়িসহ বাস্তুভিটাও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি তিস্তা নদীর পশ্চিম তীরে উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চরবিদ্যানন্দ গ্রামে অবস্থিত। ১৯৯৮ সালে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৭৪৭ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়টির ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর চরাঞ্চলের ছেলেময়েরা ওই প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করে আসছে। বেশ কয়েক দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। এতে প্রবল স্রোতের সৃষ্টি হয়ে পশ্চিম তীরে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। এর ফলে ওই বিদ্যালয়টি হুমকির মুখে পড়েছিল। 

এ কারণে গত ১৭ সেপ্টেম্বর উপজেলা শিক্ষা অফিস বিদ্যালয়টির জন্য সর্বসাধারণের মাঝে ওপেন টেন্ডার আহবান করে। কিন্তু টেন্ডারে কেউ এগিয়ে না আসায় বিদ্যালয়টি ওই অবস্থায় পড়েছিল। গত শুক্রবার রাতে বিদ্যালয় ভবনের নিচ দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবাহিত হলে ভবনটির কিছু অংশ ধসে পড়ে। ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১১টার দিকে ভবনের একটি অংশ ভেঙে দুমড়ে-মুচড়ে নদীতে বিলীন হতে থাকে। এতে ওই প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর পড়াশুনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমনকি প্রতিষ্ঠানটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলে বসবাসকারী অভিভাবকরাও তাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েদের নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে। 

এ ব্যাপারে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক অনন্ত কুমার সরকার বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির নিলামের জন্য আবেদন করা হয়।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ভবনটি ৩০ হাজার টাকায় নিলাম ডাক হয়েছিল। কিন্তু না দেয়ায় অর্ধেকটা নদীগর্ভে ধসে পড়ে।

২৭ সেপ্টেম্বর রোববার রাজারহাট উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. সোলায়মান আলী বলেন, টেন্ডার দেয়ার পরও কেউ এগিয়ে না আসায় ভবনটি নদীতে চলে যায়। প্রধান শিক্ষককে আসবাবপত্র ও দরজা-জানালাগুলো সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান খুললে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিল্ডিং নির্মাণ করা হবে।
 

 
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন