ঠাকুরগাঁওয়ে অতিবর্ষণে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার, দেয়ালচাপায় নিহত ১
jugantor
ঠাকুরগাঁওয়ে অতিবর্ষণে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার, দেয়ালচাপায় নিহত ১

  ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:১০:০৫  |  অনলাইন সংস্করণ

ঠাকৃুরগাও

দ্বিতীয় দফার বন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই অকাল বন্যায় হাজার-হাজার হেক্টর জমির ফসল, পুকুর ও বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরের দেয়ালচাপা পড়ে একজন মারা গেছেন। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে ৫ শতাধিক পরিবার। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে বন্যাকবলিত এলাকায়। তবে দুর্গত এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার এই তিন দিনের টানা ভারিবর্ষণে হঠাৎ করে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদফতর। সদর উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে টাঙ্গন নদীর তীরে গড়ে ওঠা গুচ্ছগ্রাম পানিতে ডুবে যায়।

ওই গ্রামের ১৫০ জন শিশু-নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। এসব মানুষ এখন খড়িবাড়ি কাচারি পুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান করছে। ৬০ বছর বয়সী সুরবালা অভিযোগ করে বলেন, একদিন পার হয়ে গেল বাবা এখনও এক মুঠো ভাত জুটেনি। একই অভিযোগ সুচিত্রা রানীসহ অনেকের।

এ বিষয়ে ঢোলারহাট ইউপি চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার বর্মণ বলেন, তাদের রাতে মুড়ি-চিড়া দিয়েছি। আজ রোববার দ্বিতীয় দফায় দিয়েছি। তবে বানভাসি মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করছেন ইউএনও স্যার।

এদিকে চিলারং ইউপির চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, ভেলাজান ভক্তি নদী এলাকার মতিউর রহমান (৫০) ঘরের দেয়ালচাপা পড়ে মারা যান।

জেলা শহরের টাঙ্গন নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা বস্তির ২ শতাধিক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে রিভার ভিউ উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উঠেছেন। এসব বানভাসি মানুষকে খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম। তিনি বলেন, ইউএনওদের নিদের্শ দেয়া হয়েছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের খাবারের ব্যবস্থা করার।

জেলায় কী পরিমাণ বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে জানতে চাইলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবুল আসাদ মিয়া বলেন, এখনও ক্ষয়ক্ষতির তালিকা পাননি তিনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আফতাব হোসেন বলেন, প্রায় ১৬শ' হেক্টর জমির আমন ধানসহ মৌসুমি ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বন্যার পানি সরে যাচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতি হবে না বলে দাবি কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তার।

ঠাকুরগাঁওয়ে অতিবর্ষণে পানিবন্দি ৫ শতাধিক পরিবার, দেয়ালচাপায় নিহত ১

 ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি 
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:১০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ঠাকৃুরগাও
ঠাকুরগাও

দ্বিতীয় দফার বন্যায় ঠাকুরগাঁওয়ের নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই  অকাল বন্যায় হাজার-হাজার হেক্টর জমির ফসল, পুকুর ও বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরের দেয়ালচাপা পড়ে একজন মারা গেছেন। আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে ৫ শতাধিক পরিবার। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে বন্যাকবলিত এলাকায়। তবে দুর্গত এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার এই তিন দিনের টানা ভারিবর্ষণে হঠাৎ করে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ অধিদফতর। সদর উপজেলার ঢোলারহাট ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে টাঙ্গন নদীর তীরে গড়ে ওঠা গুচ্ছগ্রাম পানিতে ডুবে যায়।

ওই গ্রামের ১৫০ জন শিশু-নারী ও পুরুষকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। এসব মানুষ এখন খড়িবাড়ি কাচারি পুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান করছে। ৬০ বছর বয়সী সুরবালা অভিযোগ করে বলেন, একদিন পার হয়ে গেল বাবা এখনও এক মুঠো ভাত জুটেনি। একই অভিযোগ সুচিত্রা রানীসহ অনেকের।

এ বিষয়ে ঢোলারহাট ইউপি চেয়ারম্যান সীমান্ত কুমার বর্মণ বলেন, তাদের রাতে মুড়ি-চিড়া দিয়েছি। আজ রোববার দ্বিতীয় দফায় দিয়েছি। তবে বানভাসি মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করছেন ইউএনও স্যার।

এদিকে চিলারং ইউপির চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী জানান, ভেলাজান ভক্তি নদী এলাকার মতিউর রহমান (৫০) ঘরের দেয়ালচাপা পড়ে মারা যান।

জেলা শহরের টাঙ্গন নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা বস্তির ২ শতাধিক পরিবার বাড়িঘর ছেড়ে রিভার ভিউ উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উঠেছেন। এসব বানভাসি মানুষকে খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক কেএম কামরুজ্জামান সেলিম। তিনি বলেন, ইউএনওদের নিদের্শ দেয়া হয়েছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের খাবারের ব্যবস্থা করার।

জেলায় কী পরিমাণ বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে জানতে চাইলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আবুল আসাদ মিয়া বলেন, এখনও ক্ষয়ক্ষতির তালিকা পাননি তিনি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. আফতাব হোসেন বলেন, প্রায় ১৬শ' হেক্টর জমির আমন ধানসহ মৌসুমি ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। রোববার সকাল থেকে বন্যার পানি সরে যাচ্ছে। এতে ফসলের ক্ষতি হবে না বলে দাবি কৃষি বিভাগের এই কর্মকর্তার।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন