চা শিল্পের বিকাশে শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রের অবদান গুরুত্বপূর্ণ
jugantor
চা শিল্পের বিকাশে শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রের অবদান গুরুত্বপূর্ণ

  সৈয়দ সালাউদ্দিন, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৬:১৩:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

রফতানিমুখী পণ্য চা শিল্পের বিকাশে সদা তৎপর সরকার। এরই ক্রমধারায় ২০১৮ সালের ১৪ মে শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

শুরুতে এ নিলাম কেন্দ্রটির কার্যপরিধি কিছুটা সীমিত থাকলেও এখন তা যথেষ্ট বেগবান। বাংলাদেশে মূলত চা উৎপাদন হয় সিলেট বিভাগের সুরমা ভ্যালি, বৃহত্তর চট্টগ্রামের হালদা ভ্যালি এবং পঞ্চগড়ের করতোয়া ভ্যালি নামক ইকোলজিকেল জোনে।

দেশের অধিকাংশ চা উৎপাদন হয় মৌলভীবাজার অঞ্চলে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রের সফলতা ও কার্যক্রম চা শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রাখছে।

শ্রীমঙ্গল ব্রোকার হাউস সূত্রে জানা যায়, করোনাপরবর্তী পরিস্থিতিতে চায়ের নিলাম আশাব্যঞ্জক। মূল ধারার চায়ের সঙ্গে ভালো মানের গ্রিন টির চাহিদা শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রে অনেকাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশ চা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিটিআরআই) উৎপাদিত গ্রিন টি বা সবুজ চায়ের মান অত্যন্ত ভালো।

যার ফলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নিলামে বিটিআরআই কর্তৃক উৎপাদিত গ্রিন টির প্রতি কেজি চা ১৬০০ টাকায় বিক্রয় করে শ্রীমঙ্গল ব্রোকার্স লিমিটেড, যার ক্রেতা ছিল গুপ্তা টি হাউস।

গুপ্তা টি হাউসের স্বত্বাধিকারীর কাছে বিটিআরআই কর্তৃক উৎপাদিত গ্রিন টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গ্রিন টি যে ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত হয় তা অত্যন্ত আধুনিক এবং বিটিআরআই এর কর্মরত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এ চা উৎপাদন হওয়ার কারণে তা মানে ও গুণে অত্যন্ত ভালো হয়ে থাকে।

চা শিল্পের বিকাশ ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে চা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায় যে, চা শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে লালমনিরহাট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানে চায়ের আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

তা ছাড়া শেরপুর, মায়মনসিংহ জেলার বেশ কিছু অঞ্চলে চায়ের আবাদ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চা বোর্ড ওইসব এলাকার ক্ষুদ্র চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে।

চা শিল্পের ক্রমবিকাশে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকও জোরালো ভূমিকা রাখছে। চা বোর্ড সূত্রে আরও জানা যায় যে, বৃহত্তর ময়মনসিংহে চা শিল্পের উন্নয়নের অংশ হিসাবে ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

একই সঙ্গে উত্তর চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ খাগড়াছড়িসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় চায়ের আবাদের জন্য প্রাথমিকভাবে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে, যা চা শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রাখবে।

চা বোর্ডের সূত্রে আরও জানা যায় যে, সরকার চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানির জন্য চায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বরাবর উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে।

তারই ক্রমধারায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আব্দুর রহিম খানের নেতৃত্বে নবনিযুক্ত কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের (উপসচিব পদ মর্যাদার) উপস্থিতিতে একটি আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বাংলাদেশ চা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম এনডিসি, পিএসসি প্রতিনিধিদলকে চা রফতানিসহ এই শিল্পের বিভিন্ন দিকগুলো তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ডেও নবনিযুক্ত সদস্য (অর্থ ও বাণিজ্য) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী জানান যে, ভবিষ্যতে চা শিল্পের ক্রমবিকাশকে পর্যালোচনায় রেখে চা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান পঞ্চগড়ে একটি আধুনিক নিলাম কেন্দ্র গড়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলের নিলাম কেন্দ্রকে ডিজিটালাইজড করার ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে চায়ের উৎপাদন মূল্য কমিয়ে এর গুণগত মান আরও বাড়াতে হবে।

এ লক্ষ্যে চা উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চা বোর্ড নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিগত দিনগুলোতে চা শিল্পের আধুনিকায়নে শ্রমিক কল্যাণসহ বিবিধ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে, যা চা শিল্পের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

চা শিল্পের বিকাশে শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রের অবদান গুরুত্বপূর্ণ

 সৈয়দ সালাউদ্দিন, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রফতানিমুখী পণ্য চা শিল্পের বিকাশে সদা তৎপর সরকার। এরই ক্রমধারায় ২০১৮ সালের ১৪ মে শ্রীমঙ্গলে দেশের দ্বিতীয় চা নিলাম কেন্দ্র গড়ে উঠেছে।

শুরুতে এ নিলাম কেন্দ্রটির কার্যপরিধি কিছুটা সীমিত থাকলেও এখন তা যথেষ্ট বেগবান। বাংলাদেশে মূলত চা উৎপাদন হয় সিলেট বিভাগের সুরমা ভ্যালি, বৃহত্তর চট্টগ্রামের হালদা ভ্যালি এবং পঞ্চগড়ের করতোয়া ভ্যালি নামক ইকোলজিকেল জোনে।

দেশের অধিকাংশ চা উৎপাদন হয় মৌলভীবাজার অঞ্চলে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রের সফলতা ও কার্যক্রম চা শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রাখছে।

শ্রীমঙ্গল ব্রোকার হাউস সূত্রে জানা যায়, করোনাপরবর্তী পরিস্থিতিতে চায়ের নিলাম আশাব্যঞ্জক। মূল ধারার চায়ের সঙ্গে ভালো মানের গ্রিন টির চাহিদা শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রে অনেকাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষ করে বাংলাদেশ চা বোর্ডের আওতাধীন বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিটিআরআই) উৎপাদিত গ্রিন টি বা সবুজ চায়ের মান অত্যন্ত ভালো।

যার ফলে গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নিলামে বিটিআরআই কর্তৃক উৎপাদিত গ্রিন টির প্রতি কেজি চা ১৬০০ টাকায় বিক্রয় করে শ্রীমঙ্গল ব্রোকার্স লিমিটেড, যার ক্রেতা ছিল গুপ্তা টি হাউস।

গুপ্তা টি হাউসের স্বত্বাধিকারীর কাছে বিটিআরআই কর্তৃক উৎপাদিত গ্রিন টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গ্রিন টি যে ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত হয় তা অত্যন্ত আধুনিক এবং বিটিআরআই এর কর্মরত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে এ চা উৎপাদন হওয়ার কারণে তা মানে ও গুণে অত্যন্ত ভালো হয়ে থাকে।

চা শিল্পের বিকাশ ও বর্তমান অবস্থা নিয়ে চা বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায় যে, চা শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে লালমনিরহাট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানে চায়ের আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে, যা আগামী দিনগুলোতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

তা ছাড়া শেরপুর, মায়মনসিংহ জেলার বেশ কিছু অঞ্চলে চায়ের আবাদ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চা বোর্ড ওইসব এলাকার ক্ষুদ্র চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করে যাচ্ছে।

চা শিল্পের ক্রমবিকাশে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকও জোরালো ভূমিকা রাখছে। চা বোর্ড সূত্রে আরও জানা যায় যে, বৃহত্তর ময়মনসিংহে চা শিল্পের উন্নয়নের অংশ হিসাবে ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

একই সঙ্গে উত্তর চট্টগ্রাম ও দক্ষিণ খাগড়াছড়িসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় চায়ের আবাদের জন্য প্রাথমিকভাবে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে, যা চা শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রাখবে।

চা বোর্ডের সূত্রে আরও জানা যায় যে, সরকার চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানির জন্য চায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বরাবর উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছে।

তারই ক্রমধারায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. আব্দুর রহিম খানের নেতৃত্বে নবনিযুক্ত কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের (উপসচিব পদ মর্যাদার) উপস্থিতিতে একটি আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বাংলাদেশ চা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম এনডিসি, পিএসসি প্রতিনিধিদলকে চা রফতানিসহ এই শিল্পের বিভিন্ন দিকগুলো তুলে ধরেন।

বাংলাদেশ চা বোর্ডেও নবনিযুক্ত সদস্য (অর্থ ও বাণিজ্য) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী জানান যে, ভবিষ্যতে চা শিল্পের ক্রমবিকাশকে পর্যালোচনায় রেখে চা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান পঞ্চগড়ে একটি আধুনিক নিলাম কেন্দ্র গড়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গলের নিলাম কেন্দ্রকে ডিজিটালাইজড করার ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে চায়ের উৎপাদন মূল্য কমিয়ে এর গুণগত মান আরও বাড়াতে হবে।

এ লক্ষ্যে চা উৎপাদনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চা বোর্ড নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিগত দিনগুলোতে চা শিল্পের আধুনিকায়নে শ্রমিক কল্যাণসহ বিবিধ বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনা চলমান রয়েছে, যা চা শিল্পের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন