চিকিৎসা দিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর খাদ্যনালী কেটে দিল নার্স!
jugantor
চিকিৎসা দিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর খাদ্যনালী কেটে দিল নার্স!

  বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৯:২৬:২৩  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর খাদ্যনালী কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নওমালা ইউনিয়নের নিজ বটকাজল গ্রামের কৃষক সোহেল হাওলাদারের স্ত্রী জাহানারা বেগম সম্প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার তিনি বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আসেন। এ সময় হাসপাতালের নার্স শিরীন আক্তার তাকে ডিঅ্যান্ডসি করার পরামর্শ দেন। পরে ওই নার্স নিজেই জাহানারা বেগমের ডিঅ্যান্ডসি করা শুরু করেন। ডিঅ্যান্ডসি করার সময় জাহানারা বেগমের খাদ্যনালীর নিচের একাধিক অংশ ছিদ্র হয়ে যায়।

এ সময় সেখানে কোনো গাইনি বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। খাদ্যনালী ছিদ্র করে দেয়ার পর জাহানারা বেগমের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং মলমূত্র পেটের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত জাহানারা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বজনরা।

সেখানকার গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শাহআলম তালুকদার বলেন, ডিঅ্যান্ডসি করার সময় জাহানারা বেগমের খাদ্যনালীর নিচের একাধিক অংশ ছিদ্র হয়ে গেছে। তার অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন। মলমূত্র ত্যাগ করার জন্য তার পেটের বাইরে একটি ব্যাগ স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৩ মাস পর তাকে ফের অপারেশন করা হবে। চিকিৎসার জন্য জাহানারা বেগমের অনেক টাকা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

জাহানারা বেগমের স্বামী সোহেল হাওলাদার বলেন, আমি গরিব কৃষক। ইতোমধ্যে ঋণ করে ৪০ হাজার টাকা চিকিৎসার জন্য খরচ করেছি। এখন আর আমার সামর্থ্য নেই। ওই নার্সের বিচার দাবি করে সোহেল হাওলাদার বাউফলের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

নার্স শিরীন আক্তার বলেন, আমার ভুল হতেই পারে। এ ব্যাপারে জাহানারা বেগমের স্বজনদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এরপরও আমার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ দিল বুঝতে পারছি না।

বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চিকিৎসা দিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর খাদ্যনালী কেটে দিল নার্স!

 বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৭:২৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালীর বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অন্তঃসত্ত্বা এক নারীর খাদ্যনালী কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নওমালা ইউনিয়নের নিজ বটকাজল গ্রামের কৃষক সোহেল হাওলাদারের স্ত্রী জাহানারা বেগম সম্প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার তিনি বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য আসেন। এ সময় হাসপাতালের নার্স শিরীন আক্তার তাকে ডিঅ্যান্ডসি করার পরামর্শ দেন। পরে ওই নার্স নিজেই জাহানারা বেগমের ডিঅ্যান্ডসি করা শুরু করেন। ডিঅ্যান্ডসি করার সময় জাহানারা বেগমের খাদ্যনালীর নিচের একাধিক অংশ ছিদ্র হয়ে যায়।

এ সময় সেখানে কোনো গাইনি বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। খাদ্যনালী ছিদ্র করে দেয়ার পর জাহানারা বেগমের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং মলমূত্র পেটের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত জাহানারা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান তার স্বজনরা। 

সেখানকার গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. শাহআলম তালুকদার বলেন, ডিঅ্যান্ডসি করার সময় জাহানারা বেগমের খাদ্যনালীর নিচের একাধিক অংশ ছিদ্র হয়ে গেছে। তার অবস্থা খুবই সঙ্কটাপন্ন। মলমূত্র ত্যাগ করার জন্য তার পেটের বাইরে একটি ব্যাগ স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৩ মাস পর তাকে ফের অপারেশন করা হবে। চিকিৎসার জন্য জাহানারা বেগমের অনেক টাকা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

জাহানারা বেগমের স্বামী সোহেল হাওলাদার বলেন, আমি গরিব কৃষক। ইতোমধ্যে ঋণ করে ৪০ হাজার টাকা চিকিৎসার জন্য খরচ করেছি। এখন আর আমার সামর্থ্য নেই। ওই নার্সের বিচার দাবি করে সোহেল হাওলাদার বাউফলের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। 

নার্স শিরীন আক্তার বলেন, আমার ভুল হতেই পারে। এ ব্যাপারে জাহানারা বেগমের স্বজনদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এরপরও আমার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ দিল বুঝতে পারছি না।

বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. প্রশান্ত কুমার সাহা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন