আল্লামা শফীর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা ইউসুফ
jugantor
আল্লামা শফীর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা ইউসুফ

  আবু তালেব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২০:০৩:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

আল্লামা শফীর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা ইউসুফ

হেফাজতে ইসলামের আমীর ও হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলাচনা-সমালোচনা।

বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকরা একটি বিবৃতি দেয়ার পর এবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন আল্লামা শফীর জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা মো. ইউছুফ। তিনি রাঙ্গুনিয়ার শরফভাটা ইউনিয়নের পাখিয়ার টিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল্লামা শফীপুত্রের একটি ভিডিও বার্তা ভাইরাল হয়। এতে দেখা গেছে, মাওলানা ইউছুফ তার পিতা হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক আল্লামা শফীর স্মৃতিবিজড়িত কার্যালয় থেকে ওই ভিডিও বার্তায় যুক্ত হন।

এ সময় তার পাশে ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য আল্লামা শেখ আহমদ ও মাওলানা ইয়াহইয়া। তবে হেফাজত মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে এ সময় দেখা যায়নি।

এছাড়া আল্লামা শফীর নাতি মাওলানা আরশাদ, মাওলানা ফয়সাল, মাওলানা আসআদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় ওই ভিডিও বার্তায় শফীপুত্র মাওলানা মো. ইউছুফ তার পিতার জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাতে আমার আব্বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর এখান (মাদ্রাসা) থেকে আমার বড় ছেলে আরশাদসহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওখানে শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে পরের দিন শুক্রবার সোয়া ৪টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই হাসপাতালে ঢোকার ১৫-২০ মিনিট পর আমার আব্বা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এ দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। আমার আব্বা স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি ভিডিও বার্তায় তার পিতার জানাজায় অংশ নেয়া মুসল্লিদের কোনো খেদমত করতে না পারার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দু:খ প্রকাশ করে আরও বলেন, আমার আব্বা পুরো জীবন হাটহাজারী মাদ্রাসার জন্য অক্লান্ত শ্রম দিয়েছেন।

আমার আব্বার বয়স যখন ১০ বছর সেই সময় তিনি হাটহাজারীর বাথুয়া গ্রামের হাফেজ ইমতিয়াজ সাহেবের মাধ্যমে এ মাদ্রাসায় ভর্তি হন। প্রায় ১০ বছর লেখাপড়া করে তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় চলে যান।

সেখানে ৪ বছর লেখাপড়া করে আওলাদে রাসূল মাওলানা সাইয়্যেদ হোসাইন আহমাদ মাদানীর (র.) খেলাফত লাভ করে হাটাহাজারী মাদ্রাসায় যোগদান করেন। সেই সময় থেকে ২০২০ পর্যন্ত হাটহাজারী মাদ্রাসার খেদমত করছিলেন।

ভিডিও বার্তার শেষদিকে মাওলানা ইউসুফ প্রয়াত পিতা আল্লামা শফীর ভুল-ত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও অসুস্থ মায়ের (আল্লামা শফীর সহধর্মিণী) জন্য দোয়া কামনা করেন।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আহমদ শফীর মৃত্যু অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে আলেমদের একটি পক্ষ।

এ সময় হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র বিক্ষোভকে বহিরাগত উস্কানি আখ্যায়িত করে এটিরও বিচারের দাবি জানানো হয়।

আল্লামা শফীর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা ইউসুফ

 আবু তালেব, হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:০৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আল্লামা শফীর মৃত্যু নিয়ে মুখ খুললেন জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা ইউসুফ
ছবি: যুগান্তর

হেফাজতে ইসলামের আমীর ও হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলাচনা-সমালোচনা।

বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকরা একটি বিবৃতি দেয়ার পর এবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন আল্লামা শফীর জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা মো. ইউছুফ। তিনি রাঙ্গুনিয়ার শরফভাটা ইউনিয়নের পাখিয়ার টিলা কওমি মাদ্রাসার পরিচালক।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আল্লামা শফীপুত্রের একটি ভিডিও বার্তা ভাইরাল হয়। এতে দেখা গেছে, মাওলানা ইউছুফ তার পিতা হাটহাজারী মাদ্রাসার সাবেক মহাপরিচালক আল্লামা শফীর স্মৃতিবিজড়িত কার্যালয় থেকে ওই ভিডিও বার্তায় যুক্ত হন। 

এ সময় তার পাশে ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য আল্লামা শেখ আহমদ ও মাওলানা ইয়াহইয়া। তবে হেফাজত মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে এ সময় দেখা যায়নি।

এছাড়া আল্লামা শফীর নাতি মাওলানা আরশাদ, মাওলানা ফয়সাল, মাওলানা আসআদসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

এ সময় ওই ভিডিও বার্তায় শফীপুত্র মাওলানা মো. ইউছুফ তার পিতার জন্য দোয়া চেয়ে বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাতে আমার আব্বা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর এখান (মাদ্রাসা) থেকে আমার বড় ছেলে আরশাদসহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওখানে শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে পরের দিন শুক্রবার সোয়া ৪টার দিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে নেয়া হয়। ওই হাসপাতালে ঢোকার ১৫-২০ মিনিট পর আমার আব্বা আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে এ দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। আমার আব্বা স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি ভিডিও বার্তায় তার পিতার জানাজায় অংশ নেয়া মুসল্লিদের কোনো খেদমত করতে না পারার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে দু:খ প্রকাশ করে আরও বলেন, আমার আব্বা পুরো জীবন হাটহাজারী মাদ্রাসার জন্য অক্লান্ত শ্রম দিয়েছেন। 

আমার আব্বার বয়স যখন ১০ বছর সেই সময় তিনি হাটহাজারীর বাথুয়া গ্রামের হাফেজ ইমতিয়াজ সাহেবের মাধ্যমে এ মাদ্রাসায় ভর্তি হন। প্রায় ১০ বছর লেখাপড়া করে তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় চলে যান। 

সেখানে ৪ বছর লেখাপড়া করে আওলাদে রাসূল মাওলানা সাইয়্যেদ হোসাইন আহমাদ মাদানীর (র.) খেলাফত লাভ করে হাটাহাজারী মাদ্রাসায় যোগদান করেন। সেই সময় থেকে ২০২০ পর্যন্ত হাটহাজারী মাদ্রাসার খেদমত করছিলেন।

ভিডিও বার্তার শেষদিকে মাওলানা ইউসুফ প্রয়াত পিতা আল্লামা শফীর ভুল-ত্রুটির জন্য সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও অসুস্থ মায়ের (আল্লামা শফীর সহধর্মিণী) জন্য দোয়া কামনা করেন।  

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির ব্যানারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আহমদ শফীর মৃত্যু অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে এর বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করে আলেমদের একটি পক্ষ। 

এ সময় হাটহাজারী মাদ্রাসার ছাত্র বিক্ষোভকে বহিরাগত উস্কানি আখ্যায়িত করে এটিরও বিচারের দাবি জানানো হয়।

 

ঘটনাপ্রবাহ : আল্লামা শফী আর নেই

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন