চাটমোহর হাসপাতাল থেকে আড়াই লাখ মূল্যের প্রিন্টার গায়েব!
jugantor
চাটমোহর হাসপাতাল থেকে আড়াই লাখ মূল্যের প্রিন্টার গায়েব!

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২৩:৫৫:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলট্রাসনোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত প্রিন্টার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বন্ধ রয়েছে আলট্রাসনোগ্রাফি। প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের প্রিন্টারটি কোথায় গেল- এর কোনো তথ্যই নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরমিলা আক্তার ঝুমির যোগদানের পরই প্রিন্টার গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

প্রিন্টারটি ‘চুরি’ হয়েছে বলা হলেওহাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, হাসাপতালেরই কেউ এটি ‘গায়েব’ করেছে।

এদিকে দীর্ঘদিন থেকে আলট্রাসনোগ্রাফি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। বাইরে থেকে বেশি খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলট্রাসনোগ্রাফি চালু হয়। গড়ে প্রতিদিন ৩০ -৪০ জন রোগী কম খরচে এ সেবা হাসপাতাল থেকেই পেয়ে আসছিলেন। এর কিছুদিন পর ডাক্তার সংকটের কারণে আলট্রাসনোগ্রাফি বন্ধ হয়ে যায়। অযত্ন অবহেলায় পড়ে থেকে মূল্যবান মেশিনটি নষ্ট হচ্ছিল।

এ অবস্থা দেখে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর যুগান্তরে,‘আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থেকেও নেই: ভোগান্তিতে প্রসূতিরা’ এমন শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এরপর এক সপ্তাহের মাথায় হাসপাতালের তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শোয়াইবুর রহমান ও তৎকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. স. ম. বায়েজীদ-উল ইসলামের নির্দেশে জরুরি বিভাগসহ পুরো হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাম করা হচ্ছে মর্মে প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে দেন।

শুধু তাই নয়, হাসপাতালের ফেসবুক পেজের প্রচার চালানো হয়। তবে সে বিষয়ে জানা গেছে আলট্রাসনোগ্রাফি চালুর সেই প্রচারটা ছিল লোক দেখানো। অনেক আগেই হাসপাতাল থেকে মূল্যবান প্রিন্টারটি গায়েব হয়েছে। যা কাউকে বুঝতে দেয়া হয়নি। সে সময় শুধু ফটোসেশন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, তৎকালীন রেডিওগ্রাফার ফরিদুল ইসলামকে (বর্তমানে ফরিদপুর উপজেলায় কর্মরত) আলট্রাসনোগ্রামের মেশিন বুঝিয়ে দেন স্টোরকিপার হাবিবুল্লাহ মাহমুদ। রেডিওগ্রাফার ফরিদুল বদলি হওয়ায় প্রিন্টার ছাড়াই চার্জ বুঝিয়ে দেন বর্তমান রেডিওগ্রাফার আবদুল আবদুল আলীমের কাছে।

প্রশ্ন উঠেছে, ‘প্রিন্টারটি গেল কোথায়?’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়, ‘ওই সময়ে রেডিওগ্রাফার ফরিদুল ইসলাম প্রিন্টার ছাড়াই দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। তবে সে সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের ধরলেই প্রিন্টারের হদিস মিলবে।’

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরমিলা আক্তার ঝুমি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি ফেব্রুয়ারি মাসে হাসপাতালে যোগদান করার পর আলট্রাসনোগ্রাফি চালু করতে যেয়ে দেখি প্রিন্টার নেই। পরে তন্ন তন্ন করে হাসপাতাল খোঁজা হয়, তবুও পাওয়া যায়নি প্রিন্টারটি। হাসপাতালে এখন সব ধরনের সেবা দেয়া গেলেও শুধু আলট্রাসনোগ্রাম করা যাচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল যুগান্তরকে বলেন, আমি সদ্য এ উপজেলায় যোগদান করেছি। তবে ঘটনাটি আমি শোনার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

চাটমোহর হাসপাতাল থেকে আড়াই লাখ মূল্যের প্রিন্টার গায়েব!

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলট্রাসনোগ্রাফির জন্য ব্যবহৃত প্রিন্টার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বন্ধ রয়েছে আলট্রাসনোগ্রাফি। প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের প্রিন্টারটি কোথায় গেল- এর কোনো তথ্যই নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরমিলা আক্তার ঝুমির যোগদানের পরই প্রিন্টার গায়েব হয়ে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। 

প্রিন্টারটি ‘চুরি’ হয়েছে বলা হলেও হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, হাসাপতালেরই কেউ এটি ‘গায়েব’ করেছে। 

এদিকে দীর্ঘদিন থেকে আলট্রাসনোগ্রাফি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। বাইরে থেকে বেশি খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলট্রাসনোগ্রাফি চালু হয়। গড়ে প্রতিদিন ৩০ -৪০ জন রোগী কম খরচে এ সেবা হাসপাতাল থেকেই পেয়ে আসছিলেন। এর কিছুদিন পর ডাক্তার সংকটের কারণে আলট্রাসনোগ্রাফি বন্ধ হয়ে যায়। অযত্ন অবহেলায় পড়ে থেকে মূল্যবান মেশিনটি নষ্ট হচ্ছিল। 

এ অবস্থা দেখে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর যুগান্তরে,‘আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থেকেও নেই: ভোগান্তিতে প্রসূতিরা’ এমন শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এরপর এক সপ্তাহের মাথায় হাসপাতালের তৎকালীন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শোয়াইবুর রহমান ও তৎকালীন আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. স. ম. বায়েজীদ-উল ইসলামের নির্দেশে জরুরি বিভাগসহ পুরো হাসপাতালে আলট্রাসনোগ্রাম করা হচ্ছে মর্মে প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে দেন। 

শুধু তাই নয়, হাসপাতালের ফেসবুক পেজের প্রচার চালানো হয়। তবে সে বিষয়ে জানা গেছে আলট্রাসনোগ্রাফি চালুর সেই প্রচারটা ছিল লোক দেখানো। অনেক আগেই হাসপাতাল থেকে মূল্যবান প্রিন্টারটি গায়েব হয়েছে। যা কাউকে বুঝতে দেয়া হয়নি। সে সময় শুধু ফটোসেশন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

জানা গেছে, তৎকালীন রেডিওগ্রাফার ফরিদুল ইসলামকে (বর্তমানে ফরিদপুর উপজেলায় কর্মরত) আলট্রাসনোগ্রামের মেশিন বুঝিয়ে দেন স্টোরকিপার হাবিবুল্লাহ মাহমুদ। রেডিওগ্রাফার ফরিদুল বদলি হওয়ায় প্রিন্টার ছাড়াই চার্জ বুঝিয়ে দেন বর্তমান রেডিওগ্রাফার আবদুল আবদুল আলীমের কাছে। 

প্রশ্ন উঠেছে, ‘প্রিন্টারটি গেল কোথায়?’ 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়, ‘ওই সময়ে রেডিওগ্রাফার ফরিদুল ইসলাম প্রিন্টার ছাড়াই দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। তবে সে সময়ে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের ধরলেই প্রিন্টারের হদিস মিলবে।’
 
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরমিলা আক্তার ঝুমি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি ফেব্রুয়ারি মাসে হাসপাতালে যোগদান করার পর আলট্রাসনোগ্রাফি চালু করতে যেয়ে দেখি প্রিন্টার নেই। পরে তন্ন তন্ন করে হাসপাতাল খোঁজা হয়, তবুও পাওয়া যায়নি প্রিন্টারটি। হাসপাতালে এখন সব ধরনের সেবা দেয়া গেলেও শুধু আলট্রাসনোগ্রাম করা যাচ্ছে না।’

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ওমর ফারুক বুলবুল যুগান্তরকে বলেন, আমি সদ্য এ উপজেলায় যোগদান করেছি। তবে ঘটনাটি আমি শোনার পর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। 
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন