পদ্মার ভাঙনের মুখে এবার কমিউনিটি ক্লিনিক
jugantor
পদ্মার ভাঙনের মুখে এবার কমিউনিটি ক্লিনিক

  আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২৫:৪৮  |  অনলাইন সংস্করণ

পদ্মার ভাঙনের মুখে এবার কমিউনিটি ক্লিনিক

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মায় এবার কালিদাসখালী কমিউনিটি ক্লিনিক ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকটি ভাঙন থেকে মাত্র ৩০ মিটার দূরে অবস্থান করছে।

পদ্মারপাড় যেভাবে ভাঙছে; এতে যে কোনো সময় ওই কমিউনিটি ক্লিনিকটিও পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী চরে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়।

২০১১ সাল থেকে এই ক্লিনিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সহায়তায় সহকারী মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে সপ্তাহে একদিন চিকিৎসা দেয়া হতো। কিন্তু পদ্মার ভাঙনে চরের মানুষের আশ্রয়স্থলের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবাটিও কেড়ে নিতে চলেছে পদ্মা।

এর আগে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চরকালিদাসখালী ও লক্ষ্মীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া দুই শতাধিক বাড়ি, মসজিদ, হাজার হাজার বিঘা জমি পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের এখন আর অপচিকিৎসার শিকার হয়ে অকালে প্রাণ দিতে হচ্ছে না। এই অঞ্চলের মানুষে প্রাণ বাঁচাচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক কাজ করছে। কিন্তু সেটিও আজ হুমকির মুখে পড়েছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

কালিদাসখালী চরের বুলু বেওয়া (৬৮) নামে এক নারী বলেন, বুকে ব্যথা, সর্দি-কাশি, চোখে সমস্য ছিল বহুদিন। অবশেষে এই কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে ভালো আছি।

লক্ষ্মীনগর চরের আজগর হোসেন (৬৫) বলেন, গত কয়েক দিন ধরে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলাম। আমার পক্ষে ১৫ কিলোমিটার পথ পদ্মা পার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়া সম্ভব না। কালিদাসখালী কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিয়ে ভালো আছি।

চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হওয়ার ফলে ঝাড়ফোক তাবিজ কবিরাজি অপচিকিৎসা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে পদ্মার চরাঞ্চলে। বর্তমানে মানুষ বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছে। অবহেলিত পদ্মার চরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মানও বাড়ছে। তারা সেবা পাচ্ছে। কিন্তু পদ্মাগর্ভে সেটিও বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন থেকে অবহেলিত পদ্মার চরে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। কিন্তু পদ্মার ভাঙনে কমিউনিটি ক্লিনিকটি হুমকির মধ্যে পড়েছে।

এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পায়নি। নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পদ্মার ভাঙনের মুখে এবার কমিউনিটি ক্লিনিক

 আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পদ্মার ভাঙনের মুখে এবার কমিউনিটি ক্লিনিক
ছবি: যুগান্তর

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পদ্মায় এবার কালিদাসখালী কমিউনিটি ক্লিনিক ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকটি ভাঙন থেকে মাত্র ৩০ মিটার দূরে অবস্থান করছে।

পদ্মারপাড় যেভাবে ভাঙছে; এতে যে কোনো সময় ওই কমিউনিটি ক্লিনিকটিও পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালে স্বাস্থ্যসেবার লক্ষ্যে পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী চরে কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়।

২০১১ সাল থেকে এই ক্লিনিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপির সহায়তায় সহকারী মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট দিয়ে সপ্তাহে একদিন চিকিৎসা দেয়া হতো। কিন্তু পদ্মার ভাঙনে চরের মানুষের আশ্রয়স্থলের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবাটিও কেড়ে নিতে চলেছে পদ্মা।

এর আগে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে চরকালিদাসখালী ও লক্ষ্মীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ছাড়া দুই শতাধিক বাড়ি, মসজিদ, হাজার হাজার বিঘা জমি পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

চকরাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজুল আযম বলেন, প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের মানুষের এখন আর অপচিকিৎসার শিকার হয়ে অকালে প্রাণ দিতে হচ্ছে না। এই অঞ্চলের মানুষে প্রাণ বাঁচাচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক কাজ করছে। কিন্তু সেটিও আজ হুমকির মুখে পড়েছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

কালিদাসখালী চরের বুলু বেওয়া (৬৮) নামে এক নারী বলেন, বুকে ব্যথা, সর্দি-কাশি, চোখে সমস্য ছিল বহুদিন। অবশেষে এই কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে ভালো আছি।

লক্ষ্মীনগর চরের আজগর হোসেন (৬৫) বলেন, গত কয়েক দিন ধরে হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলাম। আমার পক্ষে ১৫ কিলোমিটার পথ পদ্মা পার হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়া সম্ভব না। কালিদাসখালী কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিয়ে ভালো আছি।

চকরাজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হওয়ার ফলে ঝাড়ফোক তাবিজ কবিরাজি অপচিকিৎসা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে পদ্মার চরাঞ্চলে। বর্তমানে মানুষ বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছে। অবহেলিত পদ্মার চরের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার মানও বাড়ছে। তারা সেবা পাচ্ছে। কিন্তু পদ্মাগর্ভে সেটিও বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে।

বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন থেকে অবহেলিত পদ্মার চরে কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে। কিন্তু পদ্মার ভাঙনে কমিউনিটি ক্লিনিকটি হুমকির মধ্যে পড়েছে।

এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পায়নি। নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন