গোয়ালন্দে আ’লীগের দুই গ্রুপে সংঘাত, আহত ১
jugantor
নবাগত নেতার নৌকা প্রতীক
গোয়ালন্দে আ’লীগের দুই গ্রুপে সংঘাত, আহত ১

  শামীম শেখ, গোয়ালন্দ থেকে  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:৩৭:৫২  |  অনলাইন সংস্করণ

গোয়ালন্দ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আওয়ামী লীগে অন্যদল থেকে আসা হাইব্রিড নেতার কেন্দ্রীয় যোগাযোগ নৌকা প্রতকি পাওয়ায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর জের ধরে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুপুরে উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের মোটরসাইকেল ভাংচুর ও তাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে নবাগত কর্মীরা। এর প্রতিবাদে বিকাল ৫টায় উপজেলা আওয়ামী লীগ শহরে আবারও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়।

গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের আসন্ন উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মোস্তফা মুন্সির মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে দলের একাংশের ডাকা মানববন্ধন কর্মসূচিকে ঘিরে এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের সামনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি আহ্বান করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতারা। উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এই গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী কেরামত আলী। এ অংশটি এতদিন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সদ্যপ্রয়াত নুরুল ইসলাম মণ্ডলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু নুরুল ইসলাম মণ্ডলের হঠাৎ মৃত্যুতে তফসিল বাতিল হয়ে গেলে তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মাঠে নেমেছেন।

মানববন্ধনের খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের সহস্রাধিক নেতাকর্মী সকাল থেকে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। এ অংশের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী। তিনি সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর আপন ছোট ভাই। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ৭-৮ কিলোমিটার যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রী ও চালকরা দুর্ভোগ পোহান।

অপরদিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বেলা ১টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে গোয়ালন্দ মাল্লাপট্টি ব্রিজ এলাকায় সুজন ও নয়ন নামের দুই যুবক তার গতিরোধ করে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে এবং মোটরসাইকেলটি ভাংচুর করে। তাকে প্রথমে গোয়ালন্দ হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিকাল ৫টায় শহরে বিক্ষোভ মিছিল ডেকেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
মানববন্ধন প্রসঙ্গে উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, মোস্তফা মুন্সি বিএনপি-জামায়াত থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে এসেছেন। তার মতো একজন হাইব্রিড নেতাকে নৌকা প্রতীক দেয়া আমরা মানি না। এ বিষয়ে স্থানীয় দলীয় এমপির সাথে কোনোরূপ আলোচনা না করে কাজী ইরাদত আলী অপকৌশলে এ মনোনয়ন বাগিয়ে এনে দিয়েছেন। আমরা দলের মধ্যে থেকে পরীক্ষিত ও ত্যাগী কোনো নেতাকে পুনরায় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

মোস্তফা মুন্সি বলেন, আমি কোনোকালেই বিএনপি-জামায়াতের সাথে যুক্ত ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে এটা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাছাড়া দলীয় এমপি কাজী কেরামত আলী এবং তার ভাই কাজী ইরাদত আলীর অনুপ্রেরণায় আওয়ামী লীগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছি বেশ কয়েক বছর হল। বিগত জাতীয় নির্বাচনে কাজী কেরামত আলীর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে তার বিজয়ে অবদান রাখি। সেই সাথে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে দীর্ঘদিন ধরে জনসেবামূলক কাজ করে আসছি। এর মূল্যায়ন হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার স্বাক্ষরে আমাকে এখানে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যারা এর বিরুদ্ধে যাচ্ছেন তারা আওয়ামী লীগ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিপক্ষে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ শরিফুজ্জামান বলেন, আমরা উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ এড়াতে এবং শান্তি বজায় রাখতে মহাসড়কে অবস্থান নেই। কোনো গ্রুপকে বাধা দিতে বা কোনো সুবিধা করে দেয়া আমাদের লক্ষ্য ছিল না। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালামের ওপর হামলাকারীদের আটক করতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

নবাগত নেতার নৌকা প্রতীক

গোয়ালন্দে আ’লীগের দুই গ্রুপে সংঘাত, আহত ১

 শামীম শেখ, গোয়ালন্দ থেকে 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৬:৩৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গোয়ালন্দ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আওয়ামী লীগে অন্যদল থেকে আসা হাইব্রিড নেতার কেন্দ্রীয় যোগাযোগ নৌকা প্রতকি পাওয়ায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আওয়ামী লীগে অন্যদল থেকে আসা হাইব্রিড নেতার কেন্দ্রীয় যোগাযোগ নৌকা প্রতকি পাওয়ায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এর জের ধরে দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল ও মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। কর্মসূচি শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুপুরে উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদের মোটরসাইকেল ভাংচুর ও তাকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে নবাগত কর্মীরা। এর প্রতিবাদে বিকাল ৫টায় উপজেলা আওয়ামী লীগ শহরে আবারও বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয়। 

গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের আসন্ন উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মোস্তফা মুন্সির মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে দলের একাংশের ডাকা মানববন্ধন কর্মসূচিকে ঘিরে এ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের সামনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি আহ্বান করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতারা। উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন এই গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কাজী কেরামত আলী।  এ অংশটি এতদিন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সদ্যপ্রয়াত নুরুল ইসলাম মণ্ডলের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করে আসছিলেন। কিন্তু নুরুল ইসলাম মণ্ডলের হঠাৎ মৃত্যুতে তফসিল বাতিল হয়ে গেলে তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে মাঠে নেমেছেন।

মানববন্ধনের খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের সহস্রাধিক নেতাকর্মী সকাল থেকে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় জড়ো হন। এ অংশের পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইরাদত আলী। তিনি সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর আপন ছোট ভাই। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ৭-৮ কিলোমিটার যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রী ও চালকরা দুর্ভোগ পোহান।

অপরদিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বেলা ১টার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে গোয়ালন্দ মাল্লাপট্টি ব্রিজ এলাকায় সুজন ও নয়ন নামের দুই যুবক তার গতিরোধ করে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে এবং মোটরসাইকেলটি ভাংচুর করে। তাকে প্রথমে গোয়ালন্দ হাসপাতাল ও পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিকাল ৫টায় শহরে বিক্ষোভ মিছিল ডেকেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
মানববন্ধন প্রসঙ্গে উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, মোস্তফা মুন্সি বিএনপি-জামায়াত থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে এসেছেন। তার মতো একজন হাইব্রিড নেতাকে নৌকা প্রতীক দেয়া আমরা মানি না। এ বিষয়ে স্থানীয় দলীয় এমপির সাথে কোনোরূপ আলোচনা না করে কাজী ইরাদত আলী অপকৌশলে এ মনোনয়ন বাগিয়ে এনে দিয়েছেন। আমরা দলের মধ্যে থেকে পরীক্ষিত ও ত্যাগী কোনো নেতাকে পুনরায় মনোনয়ন দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

মোস্তফা মুন্সি বলেন, আমি কোনোকালেই বিএনপি-জামায়াতের সাথে যুক্ত ছিলাম না। আমার বিরুদ্ধে এটা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তাছাড়া দলীয় এমপি কাজী কেরামত আলী এবং তার ভাই কাজী ইরাদত আলীর অনুপ্রেরণায় আওয়ামী লীগে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছি বেশ কয়েক বছর হল। বিগত জাতীয় নির্বাচনে কাজী কেরামত আলীর জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে তার বিজয়ে অবদান রাখি। সেই সাথে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে থেকে দীর্ঘদিন ধরে জনসেবামূলক কাজ করে আসছি। এর মূল্যায়ন হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার স্বাক্ষরে আমাকে এখানে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। যারা এর বিরুদ্ধে যাচ্ছেন তারা আওয়ামী লীগ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিপক্ষে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ শরিফুজ্জামান বলেন, আমরা উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ এড়াতে এবং শান্তি বজায় রাখতে মহাসড়কে অবস্থান নেই। কোনো গ্রুপকে বাধা দিতে বা কোনো সুবিধা করে দেয়া আমাদের লক্ষ্য ছিল না। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালামের ওপর হামলাকারীদের আটক করতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন