চার দিন ধরে পানিতে ভাসছে রংপুর নগরী
jugantor
চার দিন ধরে পানিতে ভাসছে রংপুর নগরী

  মাহবুব রহমান, রংপুর  

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ২২:৪৩:৩৮  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুরের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর সিংহভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। চার দিনেও পানি কমেনি। ফলে চার দিন ধরে পানিতে ভাসছে রংপুর নগরী। নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও সড়কে অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

নগরীর বর্ধিত এলাকা ও জেলার নিম্নাঞ্চলে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। আশ্রিত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে।

পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে এখনও ১২টি ওয়ার্ডের হাজার হাজার মানুষ। স্কুল-কলেজ, রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। সাথে বাড়ছে মানুষজনের ক্ষোভ। নগরবাসী অনেকেই সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা প্রাঙ্গণেও হাঁটু পরিমাণ পানি রয়েছে। তবে পুলিশ কমিশনার মোহা. আব্দুল আলীম মাহমুদ জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতার কারণে কোতোয়ালি থানার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে অন্য থানা ও সার্ভিস ডেলিভারি সেন্টার থেকে।

নগরীর নিচু এলাকা, পাড়া-মহল্লা-গলি, বস্তি ও বাসা-বাড়ির পানি নেমে না যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। অনেকেই বাড়িতে রান্না করতে পারছেন না। কেউ কেউ রাস্তায় গিয়ে রান্না করছেন। আবার কেউ কেউ হালকা শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন।

অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। গবাদিপশুর খামারিরাও দুর্ভোগে রয়েছেন।

জানা গেছে, গত শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির পানিতে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে; যা রংপুরের ইতিহাসে প্রথম জলাবদ্ধতা বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার সরেজিমন দেখা গেছে, নগরীর মুলাটোল, কোতোয়ালি থানা এলাকা, মুন্সিপাড়া, গোমস্তপাড়া, গুপ্তপাড়া, খামারপাড়া, বাবুখা, নীলকণ্ঠ, কুকরুল, খেরবাড়ি, বাবুপাড়া নুরপুর, বৈরাগীপাড়া, তাঁতীপাড়া, দর্শনা, পাঠানপাড়া, খাসবাগ, নাছনিয়া, পাটবাড়ি, পালপাড়া, কেরানীপাড়া, ধাপ, ইসলামবাগ, পর্যটনপাড়া, শালবন মিস্ত্রীপাড়া, হনুমানতলা, বোতলা, খলিফাটারি, পাবর্তীপুর, উপশহর, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সর্দারপাড়া, ঈদগাহপাড়া, চকবাজার বাবুর বস্তি, আলমনগর লিচুবাগান, হোসেননগর, মেকুড়া, শেখপাড়া, বনগ্রাম, পানবাড়ি, সিলিমপুর, লক্ষণপাড়া, মোগলেরবাগ, ডিমলা কানুনগোটলাসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায় এখনও হাঁটু পরিমাণ পানি জমে রয়েছে।

অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক রাস্তা, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এখনও পানি রয়েছে। ফলে এসব এলাকার অনেক পরিবার আশপাশের স্কুল-কলেজের উঁচু ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই আত্মীয়দের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।

নগরীর কেরামতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, সমাজ কল্যাণ বিদ্যাপীঠ, মুলাটোল প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুটিঘর, রাধাবল্লভ, শালবন, হোসেননগর স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে আশ্রয় নেয়া এসব পরিবারকে স্বেচ্ছাসেবীরা নিজ উদ্যোগে খিচুড়িসহ শুকনো খাবার বিতরণ করছেন। তবে নগরীর বেশকিছু এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় ঘরে ফিরেছেন স্থানীয়রা। নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্র শুকিয়ে নিচ্ছেন তারা। তবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তারা।

এবারের বন্যায় নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের অধিকাংশ পুকুর, শাকসবজি ক্ষেত ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে মৎস্য ও কৃষি খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পানিবন্দি মানুষের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা কেউ তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন না। অনেকেই কোনো সহায়তা পাননি। তারা সিটি মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ আবার তাদের পদত্যাগও দাবি করেন।

নগরীর ৩৩নং ওয়ার্ডের হোসেননগর বগুড়াপাড়ার মমিনুল ইসলাম ও আজমল মিয়া জানান, তাদের এলাকায় এখনও পানি কমেনি; বরং বাড়ছে। ঘাঘট নদীর তীরবর্তী এলাকা হওয়াতে তাদের প্রতি বন্যায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তারা আরও জানান, তাদের মহল্লাসহ হোসেননগর, মেকুড়া, মুসলিমপাড়া, মোগলেরবাগ, হিন্দুপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী পায়রাবন্দ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে এখনও কোথাও হাঁটু পর্যন্ত, কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি রয়েছে। অনেকের বাড়িতে রান্না হচ্ছে না। শুকনো খাবার খেয়েই থাকতে হচ্ছে।

নগরীর মুলাটোলা থানা এলাকার ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেমসহ বেশ কয়েকজন বলেন, রোববার থেকে স্কুলে পরিবার নিয়ে আছি, দোকান খুলতে পারছি না। বাড়ির বিছানার ওপরেও এখনও পানি। কেউ কোনো খোঁজ নিচ্ছে না। অসহায় হয়ে এখানে পড়ে রয়েছি।

এমন জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে নগরীর শ্যামাসুন্দরী খালের ভরাট হওয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে আবর্জনায় ভরে গেছে এসব ড্রেনেজ। ফলে পানি নেমে যেতে পারছে না।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় ২০টি স্থানে আশ্রিত পরিবারগুলোর মাঝে ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, প্রতিটি পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য মোট ৩০ টন চাল ও ১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেগুলো এখন বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এখনও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তালিকা জানাতে পারেনি। তাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা জেলা প্রশাসকের দফতর বলতে পারছে না।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, তাদের ৮০টি টিম আটকে থাকা পানি নিরসনে কাজ করছে। শ্যামা সুন্দরী খাল ভরাট ও ঘাঘটের পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় আবদ্ধ পানি নামতে সময় লাগছে।

চার দিন ধরে পানিতে ভাসছে রংপুর নগরী

 মাহবুব রহমান, রংপুর 
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুরের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর সিংহভাগ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। চার দিনেও পানি কমেনি। ফলে চার দিন ধরে পানিতে ভাসছে রংপুর নগরী। নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও সড়কে অনেক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

নগরীর বর্ধিত এলাকা ও জেলার নিম্নাঞ্চলে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। আশ্রিত পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার ও চাল বিতরণ করা হয়েছে।

পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে এখনও ১২টি ওয়ার্ডের হাজার হাজার মানুষ। স্কুল-কলেজ, রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া পরিবারগুলোর মাঝে খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। সাথে বাড়ছে মানুষজনের ক্ষোভ। নগরবাসী অনেকেই সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি কর্পোরেশনের অবহেলাকেই দায়ী করেছেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা প্রাঙ্গণেও হাঁটু পরিমাণ পানি রয়েছে। তবে পুলিশ কমিশনার মোহা. আব্দুল আলীম মাহমুদ জানিয়েছেন, জলাবদ্ধতার কারণে কোতোয়ালি থানার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে অন্য থানা ও সার্ভিস ডেলিভারি সেন্টার থেকে।

নগরীর নিচু এলাকা, পাড়া-মহল্লা-গলি, বস্তি ও বাসা-বাড়ির পানি নেমে না যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। অনেকেই বাড়িতে রান্না করতে পারছেন না। কেউ কেউ রাস্তায় গিয়ে রান্না করছেন। আবার কেউ কেউ হালকা শুকনো খাবার খেয়ে দিন পার করছেন।

অন্যদিকে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারেরও তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে শিশু ও বৃদ্ধরা। গবাদিপশুর খামারিরাও দুর্ভোগে রয়েছেন।

জানা গেছে, গত শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টার রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির পানিতে নগরীর অধিকাংশ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় বলে জানা গেছে; যা রংপুরের ইতিহাসে প্রথম জলাবদ্ধতা বলে আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে।

বুধবার সরেজিমন দেখা গেছে, নগরীর মুলাটোল, কোতোয়ালি থানা এলাকা, মুন্সিপাড়া, গোমস্তপাড়া, গুপ্তপাড়া, খামারপাড়া, বাবুখা, নীলকণ্ঠ, কুকরুল, খেরবাড়ি, বাবুপাড়া নুরপুর, বৈরাগীপাড়া, তাঁতীপাড়া, দর্শনা, পাঠানপাড়া, খাসবাগ, নাছনিয়া, পাটবাড়ি, পালপাড়া, কেরানীপাড়া, ধাপ, ইসলামবাগ, পর্যটনপাড়া, শালবন মিস্ত্রীপাড়া, হনুমানতলা, বোতলা, খলিফাটারি, পাবর্তীপুর, উপশহর, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সর্দারপাড়া, ঈদগাহপাড়া, চকবাজার বাবুর বস্তি, আলমনগর লিচুবাগান, হোসেননগর, মেকুড়া, শেখপাড়া, বনগ্রাম, পানবাড়ি, সিলিমপুর, লক্ষণপাড়া, মোগলেরবাগ, ডিমলা কানুনগোটলাসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায় এখনও হাঁটু পরিমাণ পানি জমে রয়েছে।

অনেক স্থানে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। অনেক রাস্তা, বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এখনও পানি রয়েছে। ফলে এসব এলাকার অনেক পরিবার আশপাশের স্কুল-কলেজের উঁচু ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই আত্মীয়দের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন।

নগরীর কেরামতিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, সমাজ কল্যাণ বিদ্যাপীঠ, মুলাটোল প্রাথমিক বিদ্যালয়, গুটিঘর, রাধাবল্লভ, শালবন, হোসেননগর স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে আশ্রয় নেয়া এসব পরিবারকে স্বেচ্ছাসেবীরা নিজ উদ্যোগে খিচুড়িসহ শুকনো খাবার বিতরণ করছেন। তবে নগরীর বেশকিছু এলাকা থেকে পানি নেমে যাওয়ায় ঘরে ফিরেছেন স্থানীয়রা। নষ্ট হয়ে যাওয়া আসবাবপত্র শুকিয়ে নিচ্ছেন তারা। তবে ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তারা।

এবারের বন্যায় নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডসহ জেলার বিভিন্ন স্থানের অধিকাংশ পুকুর, শাকসবজি ক্ষেত ও ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। এতে মৎস্য ও কৃষি খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পানিবন্দি মানুষের অভিযোগ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বা কেউ তাদের খোঁজখবর নিচ্ছেন না। অনেকেই কোনো সহায়তা পাননি। তারা সিটি মেয়র ও কাউন্সিলরদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ আবার তাদের পদত্যাগও দাবি করেন।

নগরীর ৩৩নং ওয়ার্ডের হোসেননগর বগুড়াপাড়ার মমিনুল ইসলাম ও আজমল মিয়া জানান, তাদের এলাকায় এখনও পানি কমেনি; বরং বাড়ছে। ঘাঘট নদীর তীরবর্তী এলাকা হওয়াতে তাদের প্রতি বন্যায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

তারা আরও জানান, তাদের মহল্লাসহ হোসেননগর, মেকুড়া, মুসলিমপাড়া, মোগলেরবাগ, হিন্দুপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী পায়রাবন্দ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে এখনও কোথাও হাঁটু পর্যন্ত, কোথাও কোমর পর্যন্ত পানি রয়েছে। অনেকের বাড়িতে রান্না হচ্ছে না। শুকনো খাবার খেয়েই থাকতে হচ্ছে।

নগরীর মুলাটোলা থানা এলাকার ব্যবসায়ী মোয়াজ্জেমসহ বেশ কয়েকজন বলেন, রোববার থেকে স্কুলে পরিবার নিয়ে আছি, দোকান খুলতে পারছি না। বাড়ির বিছানার ওপরেও এখনও পানি। কেউ কোনো খোঁজ নিচ্ছে না। অসহায় হয়ে এখানে পড়ে রয়েছি।

এমন জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে নগরীর শ্যামাসুন্দরী খালের ভরাট হওয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এছাড়াও নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা থাকলেও তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে আবর্জনায় ভরে গেছে এসব ড্রেনেজ। ফলে পানি নেমে যেতে পারছে না।

রংপুর জেলা প্রশাসক আসিব আহসান জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় ২০টি স্থানে আশ্রিত পরিবারগুলোর মাঝে ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, প্রতিটি পরিবারের জন্য ১০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্য মোট ৩০ টন চাল ও ১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেগুলো এখন বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এখনও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে ক্ষয়ক্ষতির কোনো তালিকা জানাতে পারেনি। তাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা জেলা প্রশাসকের দফতর বলতে পারছে না।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা জানান, তাদের ৮০টি টিম আটকে থাকা পানি নিরসনে কাজ করছে। শ্যামা সুন্দরী খাল ভরাট ও ঘাঘটের পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় আবদ্ধ পানি নামতে সময় লাগছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন