কাজে আসছে না কোটি টাকার ড্রেন, সেচযন্ত্রে রাস্তার পানি নিষ্কাশন
jugantor
কাজে আসছে না কোটি টাকার ড্রেন, সেচযন্ত্রে রাস্তার পানি নিষ্কাশন

  রাজশাহী ব্যুরো  

০১ অক্টোবর ২০২০, ১৯:১৩:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা সদরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই ড্রেন কোনো কাজেই আসছে না। অপরিকল্পিতভাবে সড়কের চেয়ে উঁচু করে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এখন স্থানীয় জনগণের তোপের মুখে সেচযন্ত্র বসিয়ে রাস্তার পানি তুলে ফেলা হচ্ছে ড্রেনে। ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকরা বালতিতে করেও এই বৃষ্টির পানি সরাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গাপুর উপজেলা সদরে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, নতুন এই ড্রেন তাদের উপকারের বদলে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে থাকছে পানি।

তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনটি নির্মাণ করেছে। আর রাজশাহী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কোনো নজরদারি না থাকায় ড্রেন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী।

স্থানীয়রা জানান, গত জুন মাসে দুর্গাপুর উপজেলা সদর টেলিফোন এক্সচেঞ্জ থেকে প্রধান সড়কের পাশ দিয়ে শুরু হয় ড্রেন নির্মাণের কাজ। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে উপজেলা মোড় হয়ে বাজার ব্রিজ এবং সিংগা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় গেট থেকে কাদেরের ওয়ার্কশপ পর্যন্ত খণ্ডখণ্ডভাবে প্রায় ৮০০ ফুট লম্বা ড্রেন নির্মাণ করা হয়। এ কাজটি করেছে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

দুর্গাপুর হাসপাতাল মোড়ের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তা থেকে প্রায় তিন ফুট উঁচু করে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে ড্রেনটি পানি নিষ্কাশনের কোনো কাজেই আসছে না। ফলে হাসপাতাল মোড়ে একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে থাকছে। এতে রোগীরা দুর্ভোগে পড়ছেন।

অটোরিকশাচালক ইকবাল হোসেন বলেন, রাস্তার উপরে জমে থাকা পানির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ এই পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ড্রেন। কিন্তু ড্রেনগুলো কোন কাজেই আসছে না আমাদের।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণ মানুষের তোপের মুখে বৃহস্পতিবার সকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা সেচযন্ত্র বসিয়ে এবং বালতিতে করে রাস্তার পানি তুলে ড্রেনে ফেলেছেন। তখন রাস্তার পানি কমে কিন্তু এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আবার বৃষ্টি হয়। ফলে আবারও রাস্তায় পানি জমে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ড্রেনটি নির্মাণ করেছে রাজশাহী সওজ বিভাগ। কিন্তু সওজ কাজের কিছুই দেখেনি। সওজের পক্ষ থেকে কাজটি দেখাশোনার জন্য দুর্গাপুর পৌরসভাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরাও কাজটি ঠিকমতো দেখভাল করেননি। ফলে যাচ্ছেতাইভাবে কাজ করেছেন ঠিকাদার।

জানতে চাইলে ঠিকাদার মো. শাহিন বলেন, দুর্গাপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা যথানিয়মেই ড্রেনের কাজ সম্পন্ন করেছি। এই ড্রেন নির্মাণে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি।

দুর্গাপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শাহাবুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ড্রেনের কাজ করেছে। আমরা শুধু সার্বিক সহযোগিতা করেছি। সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল সওজের।

যোগাযোগ করা হলে সওজ রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামসুজ্জোহা বলেন, আমরা একটা অংশের ড্রেন নির্মাণ করেছি। পৌরসভার পক্ষ থেকে এখন ড্রেনের বহির্মুখ নির্মাণ করা হবে। সেই ড্রেনের সঙ্গে বর্তমানের ড্রেনটির সংযোগ করে দেয়ার পর সুন্দরভাবেই পানি নামবে।

কাজে আসছে না কোটি টাকার ড্রেন, সেচযন্ত্রে রাস্তার পানি নিষ্কাশন

 রাজশাহী ব্যুরো 
০১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা সদরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০০ মিটার ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সেই ড্রেন কোনো কাজেই আসছে না। অপরিকল্পিতভাবে সড়কের চেয়ে উঁচু করে ড্রেনটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এখন স্থানীয় জনগণের তোপের মুখে সেচযন্ত্র বসিয়ে রাস্তার পানি তুলে ফেলা হচ্ছে ড্রেনে। ঠিকাদারের নিয়োজিত শ্রমিকরা বালতিতে করেও এই বৃষ্টির পানি সরাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গাপুর উপজেলা সদরে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, নতুন এই ড্রেন তাদের উপকারের বদলে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জমে থাকছে পানি।

তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সঠিক পরিকল্পনা ছাড়াই তড়িঘড়ি করে অপরিকল্পিতভাবে ড্রেনটি নির্মাণ করেছে। আর রাজশাহী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কোনো নজরদারি না থাকায় ড্রেন নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের সামগ্রী।

স্থানীয়রা জানান, গত জুন মাসে দুর্গাপুর উপজেলা সদর টেলিফোন এক্সচেঞ্জ থেকে প্রধান সড়কের পাশ দিয়ে শুরু হয় ড্রেন নির্মাণের কাজ। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে উপজেলা মোড় হয়ে বাজার ব্রিজ এবং সিংগা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় গেট থেকে কাদেরের ওয়ার্কশপ পর্যন্ত খণ্ডখণ্ডভাবে প্রায় ৮০০ ফুট লম্বা ড্রেন নির্মাণ করা হয়। এ কাজটি করেছে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

দুর্গাপুর হাসপাতাল মোড়ের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, রাস্তা থেকে প্রায় তিন ফুট উঁচু করে ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। এ কারণে ড্রেনটি পানি নিষ্কাশনের কোনো কাজেই আসছে না। ফলে হাসপাতাল মোড়ে একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু পানি জমে থাকছে। এতে রোগীরা দুর্ভোগে পড়ছেন।

অটোরিকশাচালক ইকবাল হোসেন বলেন, রাস্তার উপরে জমে থাকা পানির কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। অথচ এই পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ড্রেন। কিন্তু ড্রেনগুলো কোন কাজেই আসছে না আমাদের।

স্থানীয়রা জানান, সাধারণ মানুষের তোপের মুখে বৃহস্পতিবার সকালে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা সেচযন্ত্র বসিয়ে এবং বালতিতে করে রাস্তার পানি তুলে ড্রেনে ফেলেছেন। তখন রাস্তার পানি কমে কিন্তু এর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আবার বৃষ্টি হয়। ফলে আবারও রাস্তায় পানি জমে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ড্রেনটি নির্মাণ করেছে রাজশাহী সওজ বিভাগ। কিন্তু সওজ কাজের কিছুই দেখেনি। সওজের পক্ষ থেকে কাজটি দেখাশোনার জন্য দুর্গাপুর পৌরসভাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরাও কাজটি ঠিকমতো দেখভাল করেননি। ফলে যাচ্ছেতাইভাবে কাজ করেছেন ঠিকাদার।

জানতে চাইলে ঠিকাদার মো. শাহিন বলেন, দুর্গাপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী আমরা যথানিয়মেই ড্রেনের কাজ সম্পন্ন করেছি। এই ড্রেন নির্মাণে কোনো প্রকার অনিয়ম হয়নি।

দুর্গাপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শাহাবুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ড্রেনের কাজ করেছে। আমরা শুধু সার্বিক সহযোগিতা করেছি। সম্পূর্ণ দায়িত্ব ছিল সওজের।

যোগাযোগ করা হলে সওজ রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামসুজ্জোহা বলেন, আমরা একটা অংশের ড্রেন নির্মাণ করেছি। পৌরসভার পক্ষ থেকে এখন ড্রেনের বহির্মুখ নির্মাণ করা হবে। সেই ড্রেনের সঙ্গে বর্তমানের ড্রেনটির সংযোগ করে দেয়ার পর সুন্দরভাবেই পানি নামবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন