কনডেম সেলে কয়েদির পোশাকে মিন্নিসহ ছয় আসামি
jugantor
কনডেম সেলে কয়েদির পোশাকে মিন্নিসহ ছয় আসামি

  যুগান্তর রিপোর্ট, বরগুনা  

০১ অক্টোবর ২০২০, ১৯:২৩:৩৩  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার চাঞ্চল্যকর শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নিসহ ছয় আসামিকে বরগুনা জেলা কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। মিন্নিকে দেয়া হয়েছে দুইটি শাড়ি, পেটিকোট ও ব্লাউজ। অন্য আসামিদের দুই সেট করে কয়েদির পোশাক দেয়া হয়েছে।

বরগুনা জেলা কারাগারের কনডেম সেলে এই ছয় বন্দি ব্যতীত অন্য কোনো ফাঁসির আসামি নেই বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হল- রিফাত ফরাজি, রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, টিকটক হৃদয়, মো. হাসান ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী ছয় বন্দিকেই কনডেম সেলে থালা, বাটি ও কম্বল দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতি আসামিকে কারাগারের পক্ষ থেকে দুই সেট পোশাক দেয়া হয়েছে। এ পোশাক তারা পরিধান করেছেন।

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারের যে বিশেষ কক্ষে রাখা হয় সেটাকে কনডেম সেল বলা হয়। কনডেম সেলের বন্দিরা কখনও বাইরে বের হতে পারে না। তবে সেলের সামনে হাঁটাচলা করতে পারে। এসব বন্দি মাসে একবার তার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পারে। এছাড়াও সপ্তাহে একবার তারা ফোনে তাদের স্বজনদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কথা বলতে পারে। তবে করোনাকালে এখন দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ।

রিফাত হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিই কনডেম সেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, মিন্নি ব্যতীত বরগুনা কারাগারের কনডেম সেলে এখন অন্য কোনো নারীবন্দি নেই। এছাড়াও রিফাত হত্যা মামলার অপর পাঁচজন দণ্ডপ্রাপ্ত পুরুষ আসামিকেও কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই পাঁচজন পুরুষ বন্দি ব্যতীত বরগুনা কারাগারের কনডেম সেলে অন্য কোনো বন্দিও নেই।

মিন্নিসহ এ মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিকে দেশের অন্য কোনো কারাগারে স্থানান্তর করা হবে কিনা- জানতে চাইলে জেল সুপার বলেন, এ বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। আপাতত আসামিদের উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী, আয়শা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নিসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। এ মামলায় চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ভুবন চন্দ্র হালদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রায় ঘোষণার পর বুধবার বিকাল ৩টার দিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নি ছাড়া অন্য পাঁচজনকে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে নেয়া হয়। প্রিজনভ্যানে তোলার সময় মামলার প্রধান আসামি রিফাত ফরাজী, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম ওরফে সিফাত ও রেজওয়ান আলী খান ওরফে টিকটক হৃদয়কে হাসতে দেখা যায়। তবে হাসানকে কিছুটা মলিন দেখা গেছে। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নিকে আলাদা একটি মাইক্রোবাসে কারাগারে নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ডের গড়া কিশোর গ্যাং বন্ড গ্রুপ। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ২ জুলাই মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড নিহত হন। রিফাত হত্যা মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে দুটি ভাগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৪ জন শিশু আসামি।

কনডেম সেলে কয়েদির পোশাকে মিন্নিসহ ছয় আসামি

 যুগান্তর রিপোর্ট, বরগুনা 
০১ অক্টোবর ২০২০, ০৭:২৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার চাঞ্চল্যকর শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নিসহ ছয় আসামিকে বরগুনা জেলা কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। মিন্নিকে দেয়া হয়েছে দুইটি শাড়ি, পেটিকোট ও ব্লাউজ। অন্য আসামিদের দুই সেট করে কয়েদির পোশাক দেয়া হয়েছে।

বরগুনা জেলা কারাগারের কনডেম সেলে এই ছয় বন্দি ব্যতীত অন্য কোনো ফাঁসির আসামি নেই বলে যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হল- রিফাত ফরাজি, রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, টিকটক হৃদয়, মো. হাসান ও আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি।

জেল সুপার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী ছয় বন্দিকেই কনডেম সেলে থালা, বাটি ও কম্বল দেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতি আসামিকে কারাগারের পক্ষ থেকে দুই সেট পোশাক দেয়া হয়েছে। এ পোশাক তারা পরিধান করেছেন।

তিনি আরও  বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারের যে বিশেষ কক্ষে রাখা হয় সেটাকে কনডেম সেল বলা হয়। কনডেম সেলের বন্দিরা কখনও বাইরে বের হতে পারে না। তবে সেলের সামনে হাঁটাচলা করতে পারে। এসব বন্দি মাসে একবার তার স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে পারে। এছাড়াও সপ্তাহে একবার তারা ফোনে তাদের স্বজনদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কথা বলতে পারে। তবে করোনাকালে এখন দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ।

রিফাত হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিই কনডেম সেলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেটাই স্বাভাবিক।

তিনি বলেন, মিন্নি ব্যতীত বরগুনা কারাগারের কনডেম সেলে এখন অন্য কোনো নারীবন্দি নেই। এছাড়াও রিফাত হত্যা মামলার অপর পাঁচজন দণ্ডপ্রাপ্ত পুরুষ আসামিকেও কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই পাঁচজন পুরুষ বন্দি ব্যতীত বরগুনা কারাগারের কনডেম সেলে অন্য কোনো বন্দিও নেই।

মিন্নিসহ এ মামলার ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয় আসামিকে দেশের অন্য কোনো কারাগারে স্থানান্তর করা হবে কিনা- জানতে চাইলে জেল সুপার বলেন, এ বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। আপাতত আসামিদের উচ্চ আদালতে আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী, আয়শা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নিসহ ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রিফাত শরীফ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। এ মামলায় চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ভুবন চন্দ্র হালদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রায় ঘোষণার পর বুধবার বিকাল ৩টার দিকে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নি ছাড়া অন্য পাঁচজনকে প্রিজনভ্যানে করে কারাগারে নেয়া হয়। প্রিজনভ্যানে তোলার সময় মামলার প্রধান আসামি রিফাত ফরাজী, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম ওরফে সিফাত ও রেজওয়ান আলী খান ওরফে টিকটক হৃদয়কে হাসতে দেখা যায়। তবে হাসানকে কিছুটা মলিন দেখা গেছে। আর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নিকে আলাদা একটি মাইক্রোবাসে কারাগারে নেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ডের গড়া কিশোর গ্যাং বন্ড গ্রুপ। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ২ জুলাই মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড নিহত হন। রিফাত হত্যা মামলায় ২৪ জনকে আসামি করে দুটি ভাগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে ১০ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৪ জন শিশু আসামি।

 

ঘটনাপ্রবাহ : রিফাতকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন