বড় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মা ও ছোট ছেলের
jugantor
বড় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মা ও ছোট ছেলের

  রংপুর ব্যুরো  

০১ অক্টোবর ২০২০, ২১:৪৯:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুর নগরীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বৃষ্টির পানিতে ভরাট হওয়া কেডি (কৃষ্ণ ধন ঘোষ) খালে পড়ে যাওয়া বড় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে মা ও ছোট ছেলের মৃত্যু হয়েছে।

মৃতরা হলেন- শালবন মিস্ত্রিপাড়ার জমির উদ্দিনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৫২) ও ছেলে রিপন ইসলাম (৮)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর নিউ জুম্মাপাড়ার তসলিমের খামার সংলগ্ন দোলাপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশিদ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রংপুরে সম্প্রতি রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নগরীর মিস্ত্রিপাড়া থেকে জুম্মাপাড়া যাওয়ার প্রায় চার কিলোমিটারের রাস্তাটি এখনো হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এর মাঝে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে নিচু এলাকা হওয়ায় একবুক সমান পানি জমে আছে।

বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে বেশি সময় লাগার কারণে স্থানীয়রা মাত্র চার ফিট প্রশস্ত এই সরু রাস্তা দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যার পাশের কেডি খালে এখনও ৭/৮ ফুট পানি রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নিউ জুম্মাপাড়া করিমিয়া মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলে শফিকুল ইসলামকে নিতে তার মা রোকেয়া বেগম ও ছোট ছেলে রিপন ইসলাম মাদ্রাসায় যান। সেখানে থেকে মা ও দুই ছেলে বাসায় ফেরার পথে আল-হেরা স্কুলের কাছে পা পিছলে বড় ছেলে কেডি খালে পরে ডুবে যায়।

তাকে বাঁচাতে তার ছোট ভাই রিপন পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়লে সেও ডুবে যায়। এ সময় মা রোকেয়া বেগম তার দুই ছেলেকে উদ্ধার করার জন্য খালের পানিতে ঝাঁপ দেয়। বড় ছেলে শফিকুল কোনো রকমে উঠতে সক্ষম হলেও মা রোকেয়া ও ছোট ছেলে রিপন পানিতে তলিয়ে যান।

পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা মা-ছেলেকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। তবে বড় ছেলে শফিকুল ইসলামকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মা-ছেলের অকাল মৃত্যু হয়েছে। তারা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কেডি খাল ও শ্যামা সুন্দরী খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরন্নবী ফুলু জানান, মা-ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বড় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল মা ও ছোট ছেলের

 রংপুর ব্যুরো 
০১ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

রংপুর নগরীতে স্মরণকালের ভয়াবহ বৃষ্টির পানিতে ভরাট হওয়া কেডি (কৃষ্ণ ধন ঘোষ) খালে পড়ে যাওয়া বড় ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে পানিতে ডুবে মা ও ছোট ছেলের মৃত্যু হয়েছে। 

মৃতরা হলেন- শালবন মিস্ত্রিপাড়ার জমির উদ্দিনের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৫২) ও ছেলে রিপন ইসলাম (৮)। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর নিউ জুম্মাপাড়ার তসলিমের খামার সংলগ্ন দোলাপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রশিদ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রংপুরে সম্প্রতি রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় নগরীর মিস্ত্রিপাড়া থেকে জুম্মাপাড়া যাওয়ার প্রায় চার কিলোমিটারের রাস্তাটি এখনো হাঁটু পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। এর মাঝে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তার দুই পাশে নিচু এলাকা হওয়ায় একবুক সমান পানি জমে আছে। 

বিকল্প রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে বেশি সময় লাগার কারণে স্থানীয়রা মাত্র চার ফিট প্রশস্ত এই সরু রাস্তা দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যার পাশের কেডি খালে এখনও ৭/৮ ফুট পানি রয়েছে। 

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে নিউ জুম্মাপাড়া করিমিয়া মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলে শফিকুল ইসলামকে নিতে তার মা রোকেয়া বেগম ও ছোট ছেলে রিপন ইসলাম মাদ্রাসায় যান। সেখানে থেকে মা ও দুই ছেলে বাসায় ফেরার পথে আল-হেরা স্কুলের কাছে পা পিছলে বড় ছেলে কেডি খালে পরে ডুবে যায়। 

তাকে বাঁচাতে তার ছোট ভাই রিপন পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়লে সেও ডুবে যায়। এ সময় মা রোকেয়া বেগম তার দুই ছেলেকে উদ্ধার করার জন্য খালের পানিতে ঝাঁপ দেয়। বড় ছেলে শফিকুল কোনো রকমে উঠতে সক্ষম হলেও মা রোকেয়া ও ছোট ছেলে রিপন পানিতে তলিয়ে যান।

পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা মা-ছেলেকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। তবে বড় ছেলে শফিকুল ইসলামকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থার বেহাল দশার কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মা-ছেলের অকাল মৃত্যু হয়েছে। তারা দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে কেডি খাল ও শ্যামা সুন্দরী খাল পুনঃখনন ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরন্নবী ফুলু জানান, মা-ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন