বিএসএফের গুলিতে নিহত নুরুদ্দীনের লাশ ৭ দিন পর উদ্ধার
jugantor
বিএসএফের গুলিতে নিহত নুরুদ্দীনের লাশ ৭ দিন পর উদ্ধার

  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি  

০৭ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৩:৩০  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএসএফের গুলিতে নিহত নুরুদ্দীনের গুলিবিদ্ধ অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। সাত দিন পর বুধবার ঘটনাস্থল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার বালুগ্রাম তেকোনা গ্রামে মহানন্দা নদীর ভাটি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

লাশ উদ্ধারের পর সন্ধ্যায় ভোলাহাট উপজেলার নামোপাঁচটিকরী গ্রামের দুরুল হুদা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে এসে লাশটি তার নিখোঁজ সন্তান নুরু মোহাম্মদ ওরফে নুরুদ্দীনের বলে শনাক্ত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে গোসল করার সময় মহানন্দা নদীতে একটি লাশ দেখেতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুরা। লাশটি অর্ধগলিত এবং গায়ে পোকা ধরেছে। বুকের মধ্যখানে গুলির একটি বড় ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। বন্যার কারণে স্রোতে পশ্চিমের উজান থেকে আমাদের এদিকে এসেছে।

তারা জানান, মঙ্গলবার সংবাদে দেখেছি ভোলাহাটে বিএসএফের গুলিতে নিহতদের লাশ মহানন্দা নদীতে ভাসছে, হয়ত সেই লাশই স্রোতের টানে আমাদের এখানে এসেছে।

গত ১ অক্টোবর গভীর রাতে ভারতের সুখনগর সীমান্তে গরু আনতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় নুরুদ্দীন। গত রোববার মহানন্দা নদীতে মাছ ধরা জাল আনতে গিয়ে ভারত সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের কাছে তিনটি লাশ দেখেন বাংলাদেশি জেলেরা। এ নিয়ে যুগান্তরে ‘মহানন্দায় বিএসএফের গুলিতে নিহত তিন বাংলাদেশির লাশ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

নিহত নুরুদ্দীনের পিতা দুরুল হুদা ও ভাই দেলোয়ার হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে নুরুদ্দীনসহ কয়েকজন চোরাচালানি পণ্য আনতে ভোলাহাটের জেকে পোল্লাডাঙ্গা সীমান্তে দিয়ে ভারতে যায়। সেদিন গভীর রাতে মহানন্দা নদীর ওপারে ভারত সীমান্তে গুলির শব্দ শোনেন এলাকাবাসী। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল নুরুদ্দীন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান জানান, সদর উপজেলার বালুগ্রাম তেকোনা গ্রামের মহানন্দা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। এরপর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আমারা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করার সময় দেখা গেছে লাশটির বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে আমরা এটিকে হত্যামামলা হিসেবে নিয়েছি। তদন্তের পর আমরা বিস্তারিত জানাতে পারব।

এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে জানালে সীমান্তে হত্যার ঘটনা অস্বীকার করে তারা।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৫৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় নুরুদ্দীনের পরিবার এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে প্রতিবাদ জানানো হবে।

বিএসএফের গুলিতে নিহত নুরুদ্দীনের লাশ ৭ দিন পর উদ্ধার

 চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 
০৭ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিএসএফের গুলিতে নিহত নুরুদ্দীনের গুলিবিদ্ধ অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ। সাত দিন পর বুধবার ঘটনাস্থল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার বালুগ্রাম তেকোনা গ্রামে মহানন্দা নদীর ভাটি থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

লাশ উদ্ধারের পর সন্ধ্যায় ভোলাহাট উপজেলার নামোপাঁচটিকরী গ্রামের দুরুল হুদা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে এসে লাশটি তার নিখোঁজ সন্তান নুরু মোহাম্মদ ওরফে নুরুদ্দীনের বলে শনাক্ত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকালে গোসল করার সময় মহানন্দা নদীতে একটি লাশ দেখেতে পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে শিশুরা। লাশটি অর্ধগলিত এবং গায়ে পোকা ধরেছে। বুকের মধ্যখানে গুলির একটি বড় ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। বন্যার কারণে স্রোতে পশ্চিমের উজান থেকে আমাদের এদিকে এসেছে।

তারা জানান, মঙ্গলবার সংবাদে দেখেছি ভোলাহাটে বিএসএফের গুলিতে নিহতদের লাশ মহানন্দা নদীতে ভাসছে, হয়ত সেই লাশই স্রোতের টানে আমাদের এখানে এসেছে।

গত ১ অক্টোবর গভীর রাতে ভারতের সুখনগর সীমান্তে গরু আনতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত হয় নুরুদ্দীন। গত রোববার মহানন্দা নদীতে মাছ ধরা জাল আনতে গিয়ে ভারত সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের কাছে তিনটি লাশ দেখেন বাংলাদেশি জেলেরা। এ নিয়ে যুগান্তরে ‘মহানন্দায় বিএসএফের গুলিতে নিহত তিন বাংলাদেশির লাশ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

নিহত নুরুদ্দীনের পিতা দুরুল হুদা ও ভাই দেলোয়ার হোসেন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে নুরুদ্দীনসহ কয়েকজন চোরাচালানি পণ্য আনতে ভোলাহাটের জেকে পোল্লাডাঙ্গা সীমান্তে দিয়ে ভারতে যায়। সেদিন গভীর রাতে মহানন্দা নদীর ওপারে ভারত সীমান্তে গুলির শব্দ শোনেন এলাকাবাসী। এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল নুরুদ্দীন। 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম খান জানান, সদর উপজেলার বালুগ্রাম তেকোনা গ্রামের মহানন্দা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। এরপর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আমারা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করার সময় দেখা গেছে লাশটির বুকে গুলির চিহ্ন রয়েছে। এ কারণে আমরা এটিকে হত্যামামলা হিসেবে নিয়েছি। তদন্তের পর আমরা বিস্তারিত জানাতে পারব।

এ ঘটনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে জানালে সীমান্তে হত্যার ঘটনা অস্বীকার করে তারা।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৫৯ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহমুদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় নুরুদ্দীনের পরিবার এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে প্রতিবাদ জানানো হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন