গড়াই নদের আগ্রাসনে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম
jugantor
গড়াই নদের আগ্রাসনে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

  ঝিনাইদহ প্রতিনিধি  

০৮ অক্টোবর ২০২০, ২১:৪৪:২১  |  অনলাইন সংস্করণ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৬ গ্রামের শতাধিক পরিবারের ফসলের মাঠ, বাড়িঘর গড়াই নদের আগ্রাসনে বিলীন হয়ে গেছে।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৬ গ্রামের শতাধিক পরিবারের ফসলের মাঠ, বাড়িঘর গড়াই নদের আগ্রাসনে বিলীন হয়ে গেছে। পাল্টে যাচ্ছে এ উপজেলার মানচিত্র।

প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তাদের প্রতি সর্মথন জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বুরুলিয়া এলাকায় নদের পাড়ে সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। এ সময় ভাঙনকবলিত এলাকার শত শত মানুষ যোগ দেন তাদের সঙ্গে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান টুলু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মেহের আলী, যুদ্ধকালীন গেরিলা কমান্ডার লুৎফর রহমানসহ কুষ্টিয়া জেলার খোকসা ও কুমারখালীর মুক্তিযোদ্ধারা। তারা ভাঙনকবলিত দুই পাড়ে বসবাস করা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর পুনর্বাসনের দাবি জানান।

গ্রামবাসী জানান, উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বরুলিয়া, নাঙ্গলবাধ, কৃঞ্চনগর, হাকিমপুর ইউনিয়নের খুল্লমবাড়িয়া, সুবিদ্যা-গোবিন্দপুর, ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের মাঝদিয়া গ্রামের বাড়িঘর মসজিদ গাছপালা ফসলের মাঠ প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অভিযোগ করা হয়েছে অজ্ঞাত কারণে বাঁধ নির্মাণের জন্য স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা আজও গ্রহণ করা হয়নি। প্রতি বছর অস্থায়ী প্রতিরক্ষার নামে লাখ লাখ টাকা খরচ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

শৈলকুপা উপজেলা চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন সোনা সিকদার অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে সারুটিয়া ইউনিয়নের বরুলিয়া মৌজার সিংহভাগ নদীগর্ভে চলে গেছে। পাল্টে গেছে শৈলকুপা উপজেলার মানচিত্র। এ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো মাথা ব্যথা নেই। সভা করে চিঠি দিয়ে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বছরের পর বছর প্রকল্প তৈরির নামে পানি উন্নয়ন বোর্ড টালবাহানা করে আসছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মেদ যুগান্তরকে বলেন, গড়াই নদের ভাঙনে শৈলকুপা উপজেলার আন্তত শতাধিক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নি:স্ব হয়েছেন। নদের শৈলকুপা উপজেলা অংশের ৫ কিলোমিটারের বেশি এলাকা নদে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মাত্র ১৫০ মিটার অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এই কর্মকর্তার ভাষায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করা হলে ওই এলাকার অন্তত ৬টি গ্রাম সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করে ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।

গড়াই নদের আগ্রাসনে বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

 ঝিনাইদহ প্রতিনিধি 
০৮ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৪৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৬ গ্রামের শতাধিক পরিবারের ফসলের মাঠ, বাড়িঘর গড়াই নদের আগ্রাসনে বিলীন হয়ে গেছে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৬ গ্রামের শতাধিক পরিবারের ফসলের মাঠ, বাড়িঘর গড়াই নদের আগ্রাসনে বিলীন হয়ে গেছে।

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৬ গ্রামের শতাধিক পরিবারের ফসলের মাঠ, বাড়িঘর গড়াই নদের আগ্রাসনে বিলীন হয়ে গেছে। পাল্টে যাচ্ছে এ উপজেলার মানচিত্র। 

প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। তাদের প্রতি সর্মথন জানিয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বুরুলিয়া এলাকায় নদের পাড়ে সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। এ সময় ভাঙনকবলিত এলাকার শত শত মানুষ যোগ দেন তাদের সঙ্গে। 

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান টুলু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মেহের আলী, যুদ্ধকালীন গেরিলা কমান্ডার লুৎফর রহমানসহ কুষ্টিয়া জেলার খোকসা ও কুমারখালীর মুক্তিযোদ্ধারা। তারা ভাঙনকবলিত দুই পাড়ে বসবাস করা মুক্তিযোদ্ধা পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীর পুনর্বাসনের দাবি জানান।

গ্রামবাসী জানান, উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বরুলিয়া, নাঙ্গলবাধ, কৃঞ্চনগর, হাকিমপুর ইউনিয়নের খুল্লমবাড়িয়া, সুবিদ্যা-গোবিন্দপুর, ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের মাঝদিয়া গ্রামের বাড়িঘর মসজিদ গাছপালা ফসলের মাঠ প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

অভিযোগ করা হয়েছে অজ্ঞাত কারণে বাঁধ নির্মাণের জন্য স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা আজও গ্রহণ করা হয়নি। প্রতি বছর অস্থায়ী প্রতিরক্ষার নামে লাখ লাখ টাকা খরচ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

শৈলকুপা উপজেলা চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন সোনা সিকদার অভিযোগ করেন, ইতোমধ্যে সারুটিয়া ইউনিয়নের বরুলিয়া মৌজার সিংহভাগ নদীগর্ভে চলে গেছে। পাল্টে গেছে শৈলকুপা উপজেলার মানচিত্র। এ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো মাথা ব্যথা নেই। সভা করে চিঠি দিয়ে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বছরের পর বছর প্রকল্প তৈরির নামে পানি উন্নয়ন বোর্ড টালবাহানা করে আসছে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ফয়সাল আহম্মেদ যুগান্তরকে বলেন, গড়াই নদের ভাঙনে শৈলকুপা উপজেলার আন্তত শতাধিক পরিবার সর্বস্ব হারিয়ে নি:স্ব হয়েছেন। নদের শৈলকুপা উপজেলা অংশের ৫ কিলোমিটারের বেশি এলাকা নদে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে মাত্র ১৫০ মিটার অস্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এই কর্মকর্তার ভাষায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করা হলে ওই এলাকার অন্তত ৬টি গ্রাম সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করে ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করার কাজ হাতে নেয়া হয়েছে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন