‘আনিছুর নিজের হাতে আমাকে হত্যা করবে’ ডায়েরিতে লিখে গেছেন সেই ধর্ষিতা
jugantor
‘আনিছুর নিজের হাতে আমাকে হত্যা করবে’ ডায়েরিতে লিখে গেছেন সেই ধর্ষিতা

  মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো  

০৮ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৮:৩৫  |  অনলাইন সংস্করণ

মেয়ে রুখিয়া রাউৎকে হারিয়ে মায়ের আহাজারি

আর দশজনের মতোই স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে পরিবারের হাল ধরবেন রুখিয়া রাউৎ। কিন্তু হঠাৎ কী হল যে, লাশ হওয়ার আগে নিজেই ডায়েরিতে খুন হওয়ার কথা লিখে গেছেন।

গত মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পাঁচপুকুরিয়া শালবাগান থেকে হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর রুখিয়া রাউৎকে হত্যা করে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন।

দুপুরের দিকে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের খোর্দবাগবাড় মিশনপাড়ায় শতশত আদীবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ বিক্ষোভসহ গণ মিছিল করে। সেখানে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন।

এসময় বক্তব্য রাখেন নিহত রুখিয়ার বাবা দিনেশ রাউৎ, মা সুমতি রাউৎ, বদরগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শ্যামল টুডু, সাধারণ সম্পাদক জনপল মিনজী, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শিবলন হেমরণ ও হেলালুস টুডুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ।

মিশনপাড়ায় বাড়তি সতর্কতার জন্য গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত বুধবার দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর লাশ বুধবার রাতে নিজ গ্রাম বদরগঞ্জে সাঁওতাল ধর্মীয় রীতিনীতিতে কবরস্থ করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন।

এসময় ইউএনও মেহেদী হাসান সাঁওতাল পরিবারের নারী-পুরুষদের শান্ত থাকার অনুরোধ করে বলেন, ‘মিশনপাড়ায় সতর্কতা জারি করে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। যাতে সেখানে কেউ কোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত করতে না পারে। এ সময় নিহতের পরিবারে নগদ অর্থসহ খাদ্য সহায়তা দেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন রুখিয়া। বান্ধবীদের সঙ্গে একরাত থেকে পরের দিন তার ফিরে আসার কথা ছিল। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ওইদিন সে আর বাড়িতে ফিরে না আসলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। পরের দিন মঙ্গলবার ভোরের দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ঘুনুরঘাট এলাকার পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়ার শালবাগান থেকে অজ্ঞাত একটি লাশটি উদ্ধার করে মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি।

উদ্ধারের সময় নিজের ওড়না দিয়ে তার হাত-পা গলায় সঙ্গে বাঁধা ছিল ওই তরুণীর। দাঁতগুলো ভেঙে দেয় দুর্বৃত্তরা। রক্তাক্ত ও ক্ষত-বিক্ষত ছিল মুখ। দুর্বৃত্তরা নির্দয়ভাবে হত্যার পর অটোচালিত গাড়িতে করে সেখানে লাশটি ফেলে যায়।

নিখোঁজ হওয়ার দিনে রুখিয়া রাউৎ ডায়েরিতে লিখে গেছেন- তাকে হত্যা করা হতে পারে। এর জন্য দায়ী হবে তারই প্রতিবেশী যুবক আনিছুর রহমান।

এ ঘটনায় বুধবার ভোরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির খোর্দবাগবাড় এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী প্রেমিক খুনি আনিছুর রহমান, অটোচালক রাজ মিয়া ও আশিকুজ্জামানকে। বুধবার বিকেলে খুনের দায় স্বীকার করে দিনাজপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আনিছুর রহমান।

রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন রুখিয়া রাউৎ। বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির মিশনপাড়ায়। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে পার্বতীপুর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা।

এদিকে, লাশের পরিচয় জানতে ওই দিন সন্ধ্যায় দিনাজপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি তদন্তদল মৃতের হাতের আঙুলের ছাপ নেয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে চেহারার ছবি মিলে যাওয়ায় তার পরিচয় নিশ্চিত হন তারা। পরে জানতে পারেন তার বাড়ি বদরগঞ্জে। এতে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ সার্বিকভাবে জড়িতদের গ্রেফতারে সহায়তা করে।

এ ঘটনার পর দিনাজপুরের অ্যাডিশনাল এসপির (ফুলবাড়ী সার্কেল) নির্দেশে পার্বতীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। তারা বদরগঞ্জের রামনাথপুর ইউপির খোর্দবাগবাড় এলাকার মূলহোতা আবদুল গফুরের ছেলে আনিছুর রহমান তার ভগ্নীপতি অটোচালক বাবু মিয়ার ছেলে রাজ মিয়া ও পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউপির দুর্গাপুর এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে আশিকুজ্জামানকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

এদিকে রুখিয়া রাউৎ-এর বাবা বলেন, একই এলাকার আবদুল গফুরের ছেলে আনিছুল প্রায় সময় রুখিয়া রাউৎকে উত্ত্যক্ত করতো। হোস্টেল থেকে বাড়িতে এলে সে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। একপর্যায়ে সে প্রেমের প্রস্তাব দেয় আমার মেয়েকে। সোমবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে রুখিয়া রাউৎ তার ডায়েরিতে লিখে গেছে ‘আত্মহত্যা করতে গিয়ে কোনোভাবে বেঁচে গেলাম। আজ ৫/১০/২০২০ আমাকে আনিছুর দূরে কোথাও ডেকেছে। যেখানে ও নিজের হাতে আমাকে হত্যা করবে। এ কথা ও নিজে বলেছে যে ও আমাকে নিজের হাতে হত্যা করবে। আমার সবকিছুর জন্য আনিছুর দায়ী’।

তিনি বলেন, বাড়ি থেকে যাওয়ার কোনো এক সময় রুখিয়া রাউৎ ডায়েরিতে এসব লিখে যায়। বুধবার সকালে পড়ার টেবিল থেকে রুখিয়া রাউৎতের ডায়েরি উদ্ধার করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বদরগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শ্যামল টুডু বলেন, ‘অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি চাই। তা না হলে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, নির্দয়ভাবে মেয়েটিকে হত্যার পর লাশ ফেলে যায়। এ ঘটনায় আনিছুরসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানতে তদন্ত চলছে। দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

‘আনিছুর নিজের হাতে আমাকে হত্যা করবে’ ডায়েরিতে লিখে গেছেন সেই ধর্ষিতা

 মাহবুব রহমান, রংপুর ব্যুরো 
০৮ অক্টোবর ২০২০, ১০:২৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মেয়ে রুখিয়া রাউৎকে হারিয়ে মায়ের আহাজারি
মেয়ে রুখিয়া রাউৎকে হারিয়ে মায়ের আহাজারি

আর দশজনের মতোই স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষ করে পরিবারের হাল ধরবেন রুখিয়া রাউৎ। কিন্তু হঠাৎ কী হল যে, লাশ হওয়ার আগে নিজেই ডায়েরিতে খুন হওয়ার কথা লিখে গেছেন।

গত মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পাঁচপুকুরিয়া শালবাগান থেকে হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর রুখিয়া রাউৎকে হত্যা করে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বদরগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন।

দুপুরের দিকে উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের খোর্দবাগবাড় মিশনপাড়ায় শতশত আদীবাসী সাঁওতাল সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ বিক্ষোভসহ গণ মিছিল করে। সেখানে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন।

এসময় বক্তব্য রাখেন নিহত রুখিয়ার বাবা দিনেশ রাউৎ, মা সুমতি রাউৎ, বদরগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শ্যামল টুডু, সাধারণ সম্পাদক জনপল মিনজী, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শিবলন হেমরণ ও হেলালুস টুডুসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ।

মিশনপাড়ায় বাড়তি সতর্কতার জন্য গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গত বুধবার দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের পর লাশ বুধবার রাতে নিজ গ্রাম বদরগঞ্জে সাঁওতাল ধর্মীয় রীতিনীতিতে কবরস্থ করা হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বদরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলে রাব্বি সুইট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ও ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন স্তরের লোকজন।

এসময় ইউএনও মেহেদী হাসান সাঁওতাল পরিবারের নারী-পুরুষদের শান্ত থাকার অনুরোধ করে বলেন, ‘মিশনপাড়ায় সতর্কতা জারি করে বাড়তি নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। যাতে সেখানে কেউ কোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত করতে না পারে। এ সময় নিহতের পরিবারে নগদ অর্থসহ খাদ্য সহায়তা দেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন রুখিয়া। বান্ধবীদের সঙ্গে একরাত থেকে পরের দিন তার ফিরে আসার কথা ছিল। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ওইদিন সে আর বাড়িতে ফিরে না আসলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের লোকজন। পরের দিন মঙ্গলবার ভোরের দিকে বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়া ইউনিয়নের ঘুনুরঘাট এলাকার পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের পাঁচপুকুরিয়ার শালবাগান থেকে অজ্ঞাত একটি লাশটি উদ্ধার করে মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়ি।

উদ্ধারের সময় নিজের ওড়না দিয়ে তার হাত-পা গলায় সঙ্গে বাঁধা ছিল ওই তরুণীর। দাঁতগুলো ভেঙে দেয় দুর্বৃত্তরা। রক্তাক্ত ও ক্ষত-বিক্ষত ছিল মুখ। দুর্বৃত্তরা নির্দয়ভাবে হত্যার পর অটোচালিত গাড়িতে করে সেখানে লাশটি ফেলে যায়।

নিখোঁজ হওয়ার দিনে রুখিয়া রাউৎ ডায়েরিতে লিখে গেছেন- তাকে হত্যা করা হতে পারে। এর জন্য দায়ী হবে তারই প্রতিবেশী যুবক আনিছুর রহমান। 

এ ঘটনায় বুধবার ভোরে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির খোর্দবাগবাড় এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী প্রেমিক খুনি আনিছুর রহমান, অটোচালক রাজ মিয়া ও আশিকুজ্জামানকে। বুধবার বিকেলে খুনের দায় স্বীকার করে দিনাজপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আনিছুর রহমান।

রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স ইতিহাস বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন রুখিয়া রাউৎ। বাড়ি রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির মিশনপাড়ায়। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে পার্বতীপুর থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা।

এদিকে, লাশের পরিচয় জানতে ওই দিন সন্ধ্যায় দিনাজপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি তদন্তদল মৃতের হাতের আঙুলের ছাপ নেয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে চেহারার ছবি মিলে যাওয়ায় তার পরিচয় নিশ্চিত হন তারা। পরে জানতে পারেন তার বাড়ি বদরগঞ্জে। এতে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ সার্বিকভাবে জড়িতদের গ্রেফতারে সহায়তা করে।

এ ঘটনার পর দিনাজপুরের অ্যাডিশনাল এসপির (ফুলবাড়ী সার্কেল) নির্দেশে পার্বতীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সোহেল রানার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। তারা বদরগঞ্জের রামনাথপুর ইউপির খোর্দবাগবাড় এলাকার মূলহোতা আবদুল গফুরের ছেলে আনিছুর রহমান তার ভগ্নীপতি অটোচালক বাবু মিয়ার ছেলে রাজ মিয়া ও পার্শ্ববর্তী পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউপির দুর্গাপুর এলাকার জয়নাল আবেদীনের ছেলে আশিকুজ্জামানকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।

এদিকে রুখিয়া রাউৎ-এর বাবা বলেন, একই এলাকার আবদুল গফুরের ছেলে আনিছুল প্রায় সময় রুখিয়া রাউৎকে উত্ত্যক্ত করতো। হোস্টেল থেকে বাড়িতে এলে সে নানাভাবে উত্ত্যক্ত করা শুরু করে। একপর্যায়ে সে প্রেমের প্রস্তাব দেয় আমার মেয়েকে। সোমবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে রুখিয়া রাউৎ তার ডায়েরিতে লিখে গেছে ‘আত্মহত্যা করতে গিয়ে কোনোভাবে বেঁচে গেলাম। আজ ৫/১০/২০২০ আমাকে আনিছুর দূরে কোথাও ডেকেছে। যেখানে ও নিজের হাতে আমাকে হত্যা করবে। এ কথা ও নিজে বলেছে যে ও আমাকে নিজের হাতে হত্যা করবে। আমার সবকিছুর জন্য আনিছুর দায়ী’।

তিনি বলেন, বাড়ি থেকে যাওয়ার কোনো এক সময় রুখিয়া রাউৎ ডায়েরিতে এসব লিখে যায়। বুধবার সকালে পড়ার টেবিল থেকে রুখিয়া রাউৎতের ডায়েরি উদ্ধার করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

বদরগঞ্জ উপজেলা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সমাজ উন্নয়ন সমিতির সভাপতি শ্যামল টুডু বলেন, ‘অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি চাই। তা না হলে বৃহৎ আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল ইসলাম জানান, নির্দয়ভাবে মেয়েটিকে হত্যার পর লাশ ফেলে যায়। এ ঘটনায় আনিছুরসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা জানতে তদন্ত চলছে। দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন