কাউন্সিলরের বাড়িতে চার বছর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ
jugantor
কাউন্সিলরের বাড়িতে চার বছর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ

  যশোর ব্যুরো  

০৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:০৯:২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

যশোরের চৌগাছায় বৈধভাবে সংযোগ না নিয়েও প্রায় চার বছর ধরে তিনতলা আলিশান বাসভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে চৌগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে। এতে বিদ্যুৎ বিভাগের দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম প্রকৌশলী কামাল জিয়াউল ইসলাম লেলিন। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ পায়।

তবে কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম মোস্তফা দাবি করছেন, ৪ বছর নয়, চলতি বছরেই তিনি ওই বাড়িতে উঠেছেন।

চৌগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সরকারি (ডিগ্রি) কলেজের পিছনে কলেজের প্রাচীর ঘেঁষেই রয়েছে পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফার একটি তিনতলা বাড়ি। অভিযোগ উঠেছে, প্রায় চার বছর ধরে এই বাড়িতে বৈধভাবে কোনো সংযোগ নেয়া হয়নি। কিন্তু তিনি রীতিমত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছেন। পল্লী বিদ্যুতের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীদের সহায়তায় তিনি এই অনৈতিক কাজ করে আসছেন। যার ফলে সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

জানতে চাইলে পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, তিন-চার বছর নয়, সম্প্রতি কলেজের পাশে আমার নতুন বাড়িতে উঠেছি। বিদ্যুতের মিটারের আবেদনও করা হয়েছে। ঘরের ভেতরে লাইনের কাজ কমপ্লিট রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের সঙ্গে কথা বলেছি। যে কোনো সময় মিটার লেগে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ‘মিটার বাদেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি-এটি খুবই সামান্য একটি ব্যাপার। আমি পৌর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি। তুচ্ছ এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিপক্ষ মিথ্যাচার করছে।’

জানতে চাইলে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম প্রকৌশলী কামাল জিয়াউল ইসলাম বলেন, পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তার তিনতলা বাড়িতে অনৈতিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগটি সত্য। আমরা তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের সভায় জানিয়েছি। সভা থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া পৌর মেয়র সাহেবকেও ইনডিভিজুয়ালি বলা হয়েছে। দেখা যাক, তিনি কী ব্যবস্থা নেন।

তিনি বলেন, প্রায় চার বছর ধরে তিনি এভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। তার বাড়ির অবয়ব অনুযায়ী প্রতিমাসে কমবেশি তিন হাজার টাকার মতো বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চার বছরের হিসেবে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের।

এতদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে ইতোপূর্বে কোনও ব্যবস্থা কেন নেয়া হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। সে কারণে বিষয়টি আমার জানা ছিল না।

জানতে চাইলে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রকৌশলী এম. এনামুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় বিষয়টি উঠেছে। ১০ অক্টোবর এখানে একটি উপ-নির্বাচন রয়েছে। সেটি শেষেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি যেহেতু একজন জনপ্রতিনিধি, বিষয়টি ভালভাবে দেখেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা নন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হলেন ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মুজিদ।

কাউন্সিলরের বাড়িতে চার বছর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ

 যশোর ব্যুরো 
০৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

যশোরের চৌগাছায় বৈধভাবে সংযোগ না নিয়েও প্রায় চার বছর ধরে তিনতলা আলিশান বাসভবনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে চৌগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে। এতে বিদ্যুৎ বিভাগের দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ মাসিক সমন্বয় সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম প্রকৌশলী কামাল জিয়াউল ইসলাম লেলিন। এরপরই বিষয়টি প্রকাশ পায়।

তবে কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম মোস্তফা দাবি করছেন, ৪ বছর নয়, চলতি বছরেই তিনি ওই বাড়িতে উঠেছেন।

চৌগাছা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সরকারি (ডিগ্রি) কলেজের পিছনে কলেজের প্রাচীর ঘেঁষেই রয়েছে পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফার একটি তিনতলা বাড়ি।  অভিযোগ উঠেছে, প্রায় চার বছর ধরে এই বাড়িতে বৈধভাবে কোনো সংযোগ নেয়া হয়নি। কিন্তু তিনি রীতিমত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছেন। পল্লী বিদ্যুতের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারীদের সহায়তায় তিনি এই অনৈতিক কাজ করে আসছেন। যার ফলে সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

জানতে চাইলে পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, তিন-চার বছর নয়, সম্প্রতি কলেজের পাশে আমার নতুন বাড়িতে উঠেছি। বিদ্যুতের মিটারের আবেদনও করা হয়েছে। ঘরের ভেতরে লাইনের কাজ কমপ্লিট রয়েছে। পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের সঙ্গে কথা বলেছি।  যে কোনো সময় মিটার লেগে যাবে।

তিনি আরও বলেন, ‘মিটার বাদেই বিদ্যুৎ ব্যবহার করছি-এটি খুবই সামান্য একটি ব্যাপার। আমি পৌর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি। তুচ্ছ এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিপক্ষ মিথ্যাচার করছে।’ 

জানতে চাইলে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম প্রকৌশলী কামাল জিয়াউল ইসলাম বলেন, পৌর কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে তার তিনতলা বাড়িতে অনৈতিকভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগটি সত্য। আমরা তদন্ত করে এর সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের সভায় জানিয়েছি। সভা থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। এছাড়া পৌর মেয়র সাহেবকেও ইনডিভিজুয়ালি বলা হয়েছে। দেখা যাক, তিনি কী ব্যবস্থা নেন।
  
তিনি বলেন, প্রায় চার বছর ধরে তিনি এভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন। তার বাড়ির অবয়ব অনুযায়ী প্রতিমাসে কমবেশি তিন হাজার টাকার মতো বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চার বছরের হিসেবে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের।

এতদিন ধরে ব্যবহৃত হচ্ছে ইতোপূর্বে কোনও ব্যবস্থা কেন নেয়া হয়নি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সম্প্রতি এখানে যোগদান করেছি। সে কারণে বিষয়টি আমার জানা ছিল না।

জানতে চাইলে চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রকৌশলী এম. এনামুল হক বলেন, বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় বিষয়টি উঠেছে। ১০ অক্টোবর এখানে একটি উপ-নির্বাচন রয়েছে। সেটি শেষেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি যেহেতু একজন জনপ্রতিনিধি, বিষয়টি ভালভাবে দেখেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা নন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হলেন ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবদুল মুজিদ।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন