পিরোজপুরে বিল অঞ্চলে ভাসমান সবজি চাষ
jugantor
পিরোজপুরে বিল অঞ্চলে ভাসমান সবজি চাষ

  এস এম পারভেজ, পিরোজপুর  

১০ অক্টোবর ২০২০, ২২:০৪:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

কৃষি

দক্ষিণাঞ্চলের নদীবেষ্টিত জেলা পিরোজপুর। এখানকার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় রয়েছে জলাবদ্ধতা সমস্যা। সমুদ্র উপকূলীয় জেলাটির কিছু কিছু জমিতে পানি আটকে থাকে প্রায় সারা বছরই। প্রকৃতির সঙ্গে আপস করেই প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বছর ধরে বিকল্প পদ্ধতিতে পানির ওপর কচুরিপানার ধাপ তৈরি করে চাষাবাদ করে আসছেন ভূমিহীন কষকরা।

নাজিরপুর উপজেলায় ১৫০ বছর পূর্বেও ভাসমান পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও চারা উৎপাদন শুরুর পর থেকে তা ক্রমশ বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে পার্শ্ববর্তী নেছারাবাদ উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে। কেবল নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলাতে এই পদ্ধতিতে চাষ হয় অন্তত ২শ’ হেক্টর জমি। স্থানীয় ভাষায় এটি ‘ধাপ’ নামেও পরিচিত। নাজিরপুরের দেউলবাড়ি, মুগারেজোর, মালিখালী, গাওখালী, দোবড়া, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়া এবং নেছারাবাদের বলদিয়া, পদ্মডুবির এসব স্থানের জলাভূমিতে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে।

জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা ২০১৫ সালে ভাসমান পদ্ধতির সবজি চাষকে বিশ্ব ঐতিহ্যভুক্ত করে “প্লোবালি ইনটেক্ট এগ্রিকালচার হেরিটেজ সিস্টেম” বলে অভিহিত করা হয়েছে।

এ চাষাবাদে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষীরা আগের মতো এখন আর লাভ করতে পারছেন না। এমনকি মিলছে না সম্ভাবনাময় কৃষি ক্ষেত্রের কোনো সহযোগিতাও। ফলে অনেকটাই হতাশ স্থানীয় ভূমিহীন চাষীরা। তবে কৃষি শিল্পের বিকাশ ও উন্নতি করতে চাষীদের প্রশিক্ষণের কথা বলছে কৃষি বিভাগ। সম্পূর্ণ জৈবপদ্ধতি এবং সার ও কীটনাশকমুক্ত এই চারা ও সবজি আবাদ হওয়ায় কৃষকদের অর্থনেতিক চাপ হ্রাস পাওয়ায় বেজায় খুশি তারা।

প্রথমত কচুরিপানা আটকে স্তর স্তর করে ৫ ফুট উঁচু, সাড়ে ৪ ফুট প্রশস্ত এবং ৬০ থেকে ৮০ ফুট দৈর্ঘের একেকটি ধাপ তৈরি করতে হয়। ৪ থেকে ৫ জন লোক প্রতিদিন একটি করে ধাপ তৈরি করতে পারেন। পরে ধাপের ওপর টোপাপানা ও দুলালী লতা দিয়ে ছোট বল আকৃতির তৈরি করে গড়া হয় দৌল্লা। দলা দলা করে এগুলো বানানো হয় বলেই একে দৌল্লা বা স্থানীয় ভাষায় ট্যামাও বলা হয়।

বলের মাঝখানে অঙ্কুরোদগম বীজ বসিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে ৫ থেকে ৭ দিন রেখে দিলে বীজ থেকে অঙ্কুর বের হয়। পরে এগুলো ধাপের নরম অংশে বসিয়ে দিতে হয়। কৃষক পরিবারের নারীরাও এ কাজে সমপরিমাণ সহায়তা করেন। এখানকার উৎপাদিত সতেজ চারা মাদারীপুর, বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসে নিয়ে যান।

নাজিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা কৃষিবিদ দিগ্বিজয় হাজরা বলেন, এ পেশার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে অন্তত ৬ থেকে ৭ হাজার চাষী জড়িত। সরকারের কৃষি প্রণোদনার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সুদবিহীন ঋণসুবিধা প্রদান করলে ভূমিহীন কৃষকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। পিরোজপুর তথা দক্ষিণাঞ্চলে সবজির চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি লাভবান হতে পারবেন এ জনপদের ভূমিহীন চাষীরা।

পিরোজপুরে বিল অঞ্চলে ভাসমান সবজি চাষ

 এস এম পারভেজ, পিরোজপুর 
১০ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কৃষি
বীজতলা

দক্ষিণাঞ্চলের নদীবেষ্টিত জেলা পিরোজপুর। এখানকার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় রয়েছে জলাবদ্ধতা সমস্যা। সমুদ্র উপকূলীয় জেলাটির কিছু কিছু জমিতে পানি আটকে থাকে প্রায় সারা বছরই। প্রকৃতির সঙ্গে আপস করেই প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বছর ধরে বিকল্প পদ্ধতিতে পানির ওপর কচুরিপানার ধাপ তৈরি করে চাষাবাদ করে আসছেন ভূমিহীন কষকরা। 

নাজিরপুর উপজেলায় ১৫০ বছর পূর্বেও ভাসমান পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও চারা উৎপাদন শুরুর পর থেকে তা ক্রমশ বিস্তৃতি লাভ করতে থাকে পার্শ্ববর্তী নেছারাবাদ উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে। কেবল নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলাতে এই পদ্ধতিতে চাষ হয় অন্তত ২শ’ হেক্টর জমি। স্থানীয় ভাষায় এটি ‘ধাপ’ নামেও পরিচিত। নাজিরপুরের দেউলবাড়ি, মুগারেজোর, মালিখালী, গাওখালী, দোবড়া, বৈঠাকাটা ও বিলডুমুরিয়া এবং নেছারাবাদের বলদিয়া, পদ্মডুবির এসব স্থানের জলাভূমিতে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে।

জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থা ২০১৫ সালে ভাসমান পদ্ধতির সবজি চাষকে বিশ্ব ঐতিহ্যভুক্ত করে “প্লোবালি ইনটেক্ট এগ্রিকালচার হেরিটেজ সিস্টেম” বলে অভিহিত করা হয়েছে।

এ চাষাবাদে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় চাষীরা আগের মতো এখন আর লাভ করতে পারছেন না। এমনকি মিলছে না সম্ভাবনাময় কৃষি ক্ষেত্রের কোনো সহযোগিতাও। ফলে অনেকটাই হতাশ স্থানীয় ভূমিহীন চাষীরা। তবে কৃষি শিল্পের বিকাশ ও উন্নতি করতে চাষীদের প্রশিক্ষণের কথা বলছে কৃষি বিভাগ। সম্পূর্ণ জৈবপদ্ধতি এবং সার ও কীটনাশকমুক্ত এই চারা ও সবজি আবাদ হওয়ায় কৃষকদের অর্থনেতিক চাপ হ্রাস পাওয়ায় বেজায় খুশি তারা। 

প্রথমত কচুরিপানা আটকে স্তর স্তর করে ৫ ফুট উঁচু, সাড়ে ৪ ফুট প্রশস্ত এবং ৬০ থেকে ৮০ ফুট দৈর্ঘের একেকটি ধাপ তৈরি করতে হয়। ৪ থেকে ৫ জন লোক প্রতিদিন একটি করে ধাপ তৈরি করতে পারেন। পরে ধাপের ওপর টোপাপানা ও দুলালী লতা দিয়ে ছোট বল আকৃতির তৈরি করে গড়া হয় দৌল্লা। দলা দলা করে এগুলো বানানো হয় বলেই একে দৌল্লা বা স্থানীয় ভাষায় ট্যামাও বলা হয়। 

বলের মাঝখানে অঙ্কুরোদগম বীজ বসিয়ে ছায়াযুক্ত স্থানে ৫ থেকে ৭ দিন রেখে দিলে বীজ থেকে অঙ্কুর বের হয়। পরে এগুলো ধাপের নরম অংশে বসিয়ে দিতে হয়। কৃষক পরিবারের নারীরাও এ কাজে সমপরিমাণ সহায়তা করেন। এখানকার উৎপাদিত সতেজ চারা মাদারীপুর, বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসে নিয়ে যান।

নাজিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা কৃষিবিদ দিগ্বিজয় হাজরা বলেন, এ পেশার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে অন্তত ৬ থেকে ৭ হাজার চাষী জড়িত।  সরকারের কৃষি প্রণোদনার পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সুদবিহীন ঋণসুবিধা প্রদান করলে ভূমিহীন কৃষকরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন। পিরোজপুর তথা দক্ষিণাঞ্চলে সবজির চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি লাভবান হতে পারবেন এ জনপদের ভূমিহীন চাষীরা।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন