শায়েস্তাগঞ্জে সবজির বাজার লাগামহীন, বেড়েই চলছে কাঁচামরিচের দাম
jugantor
শায়েস্তাগঞ্জে সবজির বাজার লাগামহীন, বেড়েই চলছে কাঁচামরিচের দাম

  শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি  

১০ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪০:২৫  |  অনলাইন সংস্করণ

শায়েস্তাগঞ্জে সবজির বাজার লাগামহীন, বেড়েই চলছে কাঁচামরিচের দাম

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বাজারগুলোতে আগাম শীতের সবজি আসতে শুরু করেছে। তবে বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।

অসময়ে অতিবৃষ্টির প্রভাবে বাজারে সব ধরনের শাকসবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব ধরনের সবজিই কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। দৃশ্যত কাঁচামরিচের সঙ্গী হয়েছে করলা ও আলু। কাঁচালঙ্কার মূল্য আবার ২শ' থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এক কথায় সবজির মূল্য নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে আগাম আসা শীতের সবজি শিম ও ফুলকপি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, পাতাকপি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় বেড়েছে ২শ' থেকে ৩শ' টাকা।

শনিবার উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজার সরেজমিন ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান বাজারে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আকাশছোঁয়া। দাউদনগর বাজারে কাঁচামালের মূল্য সপ্তাহের ব্যবধানে ২০-২৫ টাকা বেড়েছে। কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২৫০-২৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। ডায়মন্ড আলু ৪৫-৫০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৮৫-৯০ টাকা, কাকরুল ৫০-৫৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, দেশি টমেটো ৮০ টাকা, বিদেশি টমেটো ১২০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, দেশি আলু ৫৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ঝিঙা ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৫৫-৬০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লালশাক ৫০ ও পুঁইশাক ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

দাউদনগর বাজারের কাঁচামাল খুচরা বিক্রেতা রহমত আলী জানান, দেশের সবজি উৎপাদনের স্থানে বন্যায় সবজি বাগান তলিয়ে যাওয়ার কারণে বাজারে সবজির আমদানি কম। যে কারণে প্রতিদিন সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমদানি বৃদ্ধি পেলে বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজারের সবজি বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, সবজির দাম কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়তি চলছে। বন্যার কারণে সব ধরনের সবজি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

বাজারে আসা ক্রেতা হোসেন আলী জানান, করোনা প্রাদুর্ভাবকালে সবজির মূল্য ছিল নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে। এখন পরিবহনগুলো সচল হওয়ার কারণে এলাকার সবজি বিভিন্ন পাইকারি বাজারে চলে যাচ্ছে। তাই সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিনহাজুল ইসলাম বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখে আমি ইতোমধ্যে দুইবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। যাতে কোনোভাবেই ক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত মূল্য না রাখেন। এরপরও যদি কোনো বিক্রেতা অতিরিক্ত মূল্য রাখেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।

শায়েস্তাগঞ্জে সবজির বাজার লাগামহীন, বেড়েই চলছে কাঁচামরিচের দাম

 শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 
১০ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শায়েস্তাগঞ্জে সবজির বাজার লাগামহীন, বেড়েই চলছে কাঁচামরিচের দাম
শায়েস্তাগঞ্জে সবজির বাজার লাগামহীন, বেড়েই চলছে কাঁচামরিচের দাম

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বাজারগুলোতে আগাম শীতের সবজি আসতে শুরু করেছে। তবে বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম।

অসময়ে অতিবৃষ্টির প্রভাবে বাজারে সব ধরনের শাকসবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। সব ধরনের সবজিই কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। দৃশ্যত কাঁচামরিচের সঙ্গী হয়েছে করলা ও আলু। কাঁচালঙ্কার মূল্য আবার ২শ' থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এক কথায় সবজির মূল্য নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। বাজারে আগাম আসা শীতের সবজি শিম ও ফুলকপি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, পাতাকপি ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চালের দাম ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় বেড়েছে ২শ' থেকে ৩শ' টাকা। 

শনিবার উপজেলার বেশ কয়েকটি বাজার সরেজমিন ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান বাজারে সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য আকাশছোঁয়া। দাউদনগর বাজারে কাঁচামালের মূল্য সপ্তাহের ব্যবধানে ২০-২৫ টাকা বেড়েছে। কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২৫০-২৮০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। ডায়মন্ড আলু ৪৫-৫০ টাকা, করলা ৮০-১০০ টাকা, পেঁয়াজ ৮৫-৯০ টাকা, কাকরুল ৫০-৫৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ টাকা, দেশি টমেটো ৮০ টাকা, বিদেশি টমেটো ১২০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, দেশি আলু ৫৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ঝিঙা ৭০ টাকা, ঢেঁড়স ৫৫-৬০ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লালশাক ৫০ ও পুঁইশাক ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। 

দাউদনগর বাজারের কাঁচামাল খুচরা বিক্রেতা রহমত আলী জানান, দেশের সবজি উৎপাদনের স্থানে বন্যায় সবজি বাগান তলিয়ে যাওয়ার কারণে বাজারে সবজির আমদানি কম। যে কারণে প্রতিদিন সবজির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমদানি বৃদ্ধি পেলে বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

শায়েস্তাগঞ্জ পুরান বাজারের সবজি বিক্রেতা আলী হোসেন বলেন, সবজির দাম কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়তি চলছে। বন্যার কারণে সব ধরনের সবজি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

বাজারে আসা ক্রেতা হোসেন আলী জানান, করোনা প্রাদুর্ভাবকালে সবজির মূল্য ছিল নিম্নআয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে। এখন পরিবহনগুলো সচল হওয়ার কারণে এলাকার সবজি বিভিন্ন পাইকারি বাজারে চলে যাচ্ছে। তাই সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিনহাজুল ইসলাম বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি দেখে আমি ইতোমধ্যে দুইবার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। যাতে কোনোভাবেই ক্রেতাদের কাছ থেকে নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত মূল্য না রাখেন। এরপরও যদি কোনো বিক্রেতা অতিরিক্ত মূল্য রাখেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করা হবে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন