ঘোড়াঘাট ইউএনওর ওপর হামলা: বাসভবনের নৈশপ্রহরীর জামিন
jugantor
ঘোড়াঘাট ইউএনওর ওপর হামলা: বাসভবনের নৈশপ্রহরীর জামিন

  দিনাজপুর প্রতিনিধি  

১১ অক্টোবর ২০২০, ২৩:০০:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (তৎকালীন) ওয়াহিদা খানম ও তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলা মামলায় গ্রেফতারকৃত ৫ আসামির মধ্যে ইউএনওর বাসভবনের নৈশপ্রহরী নাদিম হোসেন পলাশকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

গ্রেফতার দেখানোর এক মাস পর রোববার দিনাজপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আঞ্জুমান আরা এ জামিন মঞ্জুর করেন।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক ইসরাইল হোসেন।

নাদিম হোসেন পলাশ (২৬) দিনাজপুর সদর উপজেলার পরজপুর গ্রামের সুলতান মাহমুদের ছেলে ও ঘোড়াঘাট ইউএনওর বাসভবনের নৈশপ্রহরী। ঘোড়াঘাট ইউএনও ও তার পিতার ওপর হামলার মামলায় তাকে গত ১২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার দেখায় দিনাজপুর ডিবি পুলিশ।

যদিও পরিবারের দাবি নাদিম হোসেন পলাশকে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘোড়াঘাট ইউএনও অফিস থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

ঘোড়াঘাট ইউএনও ও তার পিতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মোট পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করে দিনাজপুর ডিবি পুলিশ। তারা হচ্ছে-ঘোড়াঘাট ইউএনও অফিসের বরখাস্তকৃত মালি রবিউল ইসলাম, ঘোড়াঘাট পৌর যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আসাদুল ইসলাম, রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম, সান্টু কুমার দাস ও ইউএনওর বাসভবনের নৈশপ্রহরী নাদিম হোসেন পলাশ।

এদের মধ্যে র‌্যাবের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দেয়া আসাদুল ইসলামকে গত ৬ সেপ্টেম্বর সাত দিনের রিমান্ডে নেয় দিনাজপুর ডিবি পুলিশ। এর আগের দিন ৫ সেপ্টেম্বর রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। এই তিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড শেষে কোনোরকম জবানবন্দি ছাড়াই আসামি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে ১১ সেপ্টেম্বর এবং আসামি আসাদুল ইসলামকে পরের দিন শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। নতুন কোনো আবেদন না থাকায় তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করেন আদালত।

ইউএনওর বাসভবনের নৈশপ্রহরী আসামি নাদিম হোসেন পলাশকে গত ১২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার দেখিয়ে কোনোরূপ রিমান্ড আবেদন ছাড়াই আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। একই দিন ইউএনও অফিসের বরখাস্তকৃত কর্মচারী রবিউল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করে ৬ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। ৬ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দেয়ায় ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করে দ্বিতীয় দফায় আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ।

অবশেষে ২ দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ড শেষে গত ২০ সেপ্টেম্বর রবিউল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন রবিউল ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তার স্বীকারোক্তি এবং পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত পাঁচ আসামির মধ্যে তিনিই একমাত্র এ হামলা ঘটনার সঙ্গে জড়িত; বাকিরা নয়।

এ হামলার ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষায় রবিউলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর আন-অফিসিয়ালি জানালেও অফিসিয়ালি বলতে চাননি।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে নির্মমভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড়ভাই শেখ ফরিদ উদ্দীন বাদী হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঘোড়াঘাট থানা থেকে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘোড়াঘাট ইউএনওর ওপর হামলা: বাসভবনের নৈশপ্রহরীর জামিন

 দিনাজপুর প্রতিনিধি 
১১ অক্টোবর ২০২০, ১১:০০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (তৎকালীন) ওয়াহিদা খানম ও তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলা মামলায় গ্রেফতারকৃত ৫ আসামির মধ্যে ইউএনওর বাসভবনের নৈশপ্রহরী নাদিম হোসেন পলাশকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

গ্রেফতার দেখানোর এক মাস পর রোববার দিনাজপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আঞ্জুমান আরা এ জামিন মঞ্জুর করেন।

এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক ইসরাইল হোসেন।

নাদিম হোসেন পলাশ (২৬) দিনাজপুর সদর উপজেলার পরজপুর গ্রামের সুলতান মাহমুদের ছেলে ও ঘোড়াঘাট ইউএনওর বাসভবনের নৈশপ্রহরী। ঘোড়াঘাট ইউএনও ও তার পিতার ওপর হামলার মামলায় তাকে গত ১২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার দেখায় দিনাজপুর ডিবি পুলিশ।

যদিও পরিবারের দাবি নাদিম হোসেন পলাশকে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঘোড়াঘাট ইউএনও অফিস থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়।

ঘোড়াঘাট ইউএনও ও তার পিতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মোট পাঁচজন আসামিকে গ্রেফতার করে দিনাজপুর ডিবি পুলিশ। তারা হচ্ছে-ঘোড়াঘাট ইউএনও অফিসের বরখাস্তকৃত মালি রবিউল ইসলাম, ঘোড়াঘাট পৌর যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আসাদুল ইসলাম, রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম, সান্টু কুমার দাস ও ইউএনওর বাসভবনের নৈশপ্রহরী নাদিম হোসেন পলাশ।

এদের মধ্যে র‌্যাবের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দেয়া আসাদুল ইসলামকে গত ৬ সেপ্টেম্বর সাত দিনের রিমান্ডে নেয় দিনাজপুর ডিবি পুলিশ। এর আগের দিন ৫ সেপ্টেম্বর রংমিস্ত্রি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। এই তিন আসামির সাত দিনের রিমান্ড শেষে কোনোরকম জবানবন্দি ছাড়াই আসামি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে ১১ সেপ্টেম্বর এবং আসামি আসাদুল ইসলামকে পরের দিন শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। নতুন কোনো আবেদন না থাকায় তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করেন আদালত।

ইউএনওর বাসভবনের নৈশপ্রহরী আসামি নাদিম হোসেন পলাশকে গত ১২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার দেখিয়ে কোনোরূপ রিমান্ড আবেদন ছাড়াই আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। একই দিন ইউএনও অফিসের বরখাস্তকৃত কর্মচারী রবিউল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করে ৬ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। ৬ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দেয়ায় ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করে দ্বিতীয় দফায় আবার তিন দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ।

অবশেষে ২ দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ড শেষে গত ২০ সেপ্টেম্বর রবিউল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। সেদিন রবিউল ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তার স্বীকারোক্তি এবং পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত পাঁচ আসামির মধ্যে তিনিই একমাত্র এ হামলা ঘটনার সঙ্গে জড়িত; বাকিরা নয়।

এ হামলার ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষায় রবিউলের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার কথা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিনাজপুর ডিবি পুলিশের ওসি ইমাম জাফর আন-অফিসিয়ালি জানালেও অফিসিয়ালি বলতে চাননি।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার পিতা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে নির্মমভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড়ভাই শেখ ফরিদ উদ্দীন বাদী হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঘোড়াঘাট থানা থেকে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

ঘটনাপ্রবাহ : ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলা

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন