বৈরী আবহাওয়া: নতুন জাতের আগাম ধানে কৃষকের মুখে হাসি
jugantor
বৈরী আবহাওয়া: নতুন জাতের আগাম ধানে কৃষকের মুখে হাসি

  মো. আবদুর রাজ্জাক, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি  

১২ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৭:০৬  |  অনলাইন সংস্করণ

বৈরী আবহাওয়া: নতুন জাতের আগাম ধানে কৃষকের মুখে হাসি

এবার বৈরী আবহাওয়ায় নতুন জাতের ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে এ বছর দফায় দফায় টানা বর্ষণে সর্বস্বান্ত হয়েছে দেশের বেশিরভাগ সবজি চাষি।

এত সব বৈরিতার পরও ব্রি ধান-৭৫ আগাম জাতের ধানে ভরে গেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ। এই আগাম জাতের ধানের প্রদর্শনী প্লটে সোনালি শীষের দোলায় কৃষকের চোখে নতুন স্বপ্নের ঝিলিক।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যোগে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রদর্শনী প্লটের ধান কর্তন করা হয় সোমবার সকালে।

কর্তনকৃত ৩৩ শতক জমিতে ধান হয়েছে ১৮ মণ। প্রতিমণ ধান বিক্রয় হয়েছে ৯০০ টাকা। ধানের খড় বিক্রয় হয়েছে চার হাজার টাকা। লিজসহ ওই জমিতে খরচ হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এতে ৩৩ শতক জমিতে কৃষকের লাভ হয়েছে ৭ হাজার ৭০০ টাকা।

প্রদর্শনী প্লটের উদ্যোক্তা কৃষকরা মনে করেন এই জাতের ধান চাষ ছড়িয়ে দিতে পারলে পাল্টে যেতে পারে দেশে কৃষি অর্থনীতি।

এ বছর বীরগঞ্জ উপজেলায় ২৯ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি ধান-৭৫ আগাম জাতের ধান ৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

কম সময়ে ফলন এবং কম খরচে এ নতুন জাতের ধান চাষ করে সফলতা লাভ করেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা সুজালপুর ইউনিয়নের জগদল গ্রামের কৃষক মো. রায়হান আলী।

প্রদর্শনী প্লটের উদ্যোক্তা কৃষক মো. রায়হান আলী জানান, এ জাতের ধান চাষে সময় কম লাগে। পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় কিটনাশক স্প্রে করতে হয় না বলেই চলে। পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকার কারণে ফলন ভালো হয়। এই ধান আগাম বাজারে আসায় দাম বেশ পাওয়া যায়।

তা ছাড়া এই জমির ধান তোলার পর সবজি চাষ করে বেশ লাভবান হওয়া যায়। এ জাতের ধান চাষ ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষি অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, আমন মৌসুমে ব্রি ধান-৭৫ একটি উচ্চফলনশীল জাত। ২৫ হতে ৩০ দিনের মধ্যে চারা রোপণ করতে হয়। মাত্র ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে এ ধান ঘরে তোলা যায়।

এ ধানের কাণ্ড শক্ত বলে গাছ হেলে পড়ে না। শীষ হতে ধান ঝরে পড়ে না। জাতটি আগাম হওয়ায় রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম। বিশেষ করে বাদামি গাছ ফড়িং (কারেন্ট পোকা) অথবা মাজরা পোকার আক্রমণ হওয়ার আগের এই জাতটির ফলন কর্তন শুরু হয়।

এ জাতের ধানের ফলন বেশি হয় অর্থাৎ হেক্টরপ্রতি সাড়ে ৪ টন হতে ৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। তা ছাড়া এজান স্বপ্লকালীন হওয়ায় রবি মৌসুমের আগাম শাকসজবিসহ একই জমিতে ৩-৪টি ফসল চাষ করা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার আবুরেজা মো. আসাদুজ্জামান জানান, এ ধানের চাল মাঝারি চিকন ও সামান্য সুগন্ধি। তবে রান্নার পর ভাত হতে বেশ সুগন্ধি ছড়ায়। এ কারণে চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক চাহিদা থাকায় আগামীতে উপজেলায় এ জাতের ধানের চাষ বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এই ধানের জাতটি স্বল্পকালীন হওয়ায় কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিসহ আগাম শাকসবজি চাষ করে সাফল্য লাভ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈরী আবহাওয়া: নতুন জাতের আগাম ধানে কৃষকের মুখে হাসি

 মো. আবদুর রাজ্জাক, বীরগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
১২ অক্টোবর ২০২০, ১১:৩৭ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বৈরী আবহাওয়া: নতুন জাতের আগাম ধানে কৃষকের মুখে হাসি
ছবি: যুগান্তর

এবার বৈরী আবহাওয়ায় নতুন জাতের ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে এ বছর দফায় দফায় টানা বর্ষণে সর্বস্বান্ত হয়েছে দেশের বেশিরভাগ সবজি চাষি।

এত সব বৈরিতার পরও ব্রি ধান-৭৫ আগাম জাতের ধানে ভরে গেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ। এই আগাম জাতের ধানের প্রদর্শনী প্লটে সোনালি শীষের দোলায় কৃষকের চোখে নতুন স্বপ্নের ঝিলিক।

বীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উদ্যোগে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রদর্শনী প্লটের ধান কর্তন করা হয় সোমবার সকালে।

কর্তনকৃত ৩৩ শতক জমিতে ধান হয়েছে ১৮ মণ। প্রতিমণ ধান বিক্রয় হয়েছে ৯০০ টাকা। ধানের খড় বিক্রয় হয়েছে চার হাজার টাকা। লিজসহ ওই জমিতে খরচ হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এতে ৩৩ শতক জমিতে কৃষকের লাভ হয়েছে ৭ হাজার ৭০০ টাকা।

প্রদর্শনী প্লটের উদ্যোক্তা কৃষকরা মনে করেন এই জাতের ধান চাষ ছড়িয়ে দিতে পারলে পাল্টে যেতে পারে দেশে কৃষি অর্থনীতি।

এ বছর বীরগঞ্জ উপজেলায় ২৯ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি ধান-৭৫ আগাম জাতের ধান ৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

কম সময়ে ফলন এবং কম খরচে এ নতুন জাতের ধান চাষ করে সফলতা লাভ করেছে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলা সুজালপুর ইউনিয়নের জগদল গ্রামের কৃষক মো. রায়হান আলী।

প্রদর্শনী প্লটের উদ্যোক্তা কৃষক মো. রায়হান আলী জানান, এ জাতের ধান চাষে সময় কম লাগে। পোকা মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় কিটনাশক স্প্রে করতে হয় না বলেই চলে। পোকামাকড়ের আক্রমণ না থাকার কারণে ফলন ভালো হয়। এই ধান আগাম বাজারে আসায় দাম বেশ পাওয়া যায়।

তা ছাড়া এই জমির ধান তোলার পর সবজি চাষ করে বেশ লাভবান হওয়া যায়। এ জাতের ধান চাষ ছড়িয়ে দিতে পারলে কৃষি অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, আমন মৌসুমে ব্রি ধান-৭৫ একটি উচ্চফলনশীল জাত। ২৫ হতে ৩০ দিনের মধ্যে চারা রোপণ করতে হয়। মাত্র ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে এ ধান ঘরে তোলা যায়।

এ ধানের কাণ্ড শক্ত বলে গাছ হেলে পড়ে না। শীষ হতে ধান ঝরে পড়ে না। জাতটি আগাম হওয়ায় রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম। বিশেষ করে বাদামি গাছ ফড়িং (কারেন্ট পোকা) অথবা মাজরা পোকার আক্রমণ হওয়ার আগের এই জাতটির ফলন কর্তন শুরু হয়।

এ জাতের ধানের ফলন বেশি হয় অর্থাৎ হেক্টরপ্রতি সাড়ে ৪ টন হতে ৫ টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। তা ছাড়া এজান স্বপ্লকালীন হওয়ায় রবি মৌসুমের আগাম শাকসজবিসহ একই জমিতে ৩-৪টি ফসল চাষ করা যায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার আবুরেজা মো. আসাদুজ্জামান জানান, এ ধানের চাল মাঝারি চিকন ও সামান্য সুগন্ধি। তবে রান্নার পর ভাত হতে বেশ সুগন্ধি ছড়ায়। এ কারণে চালের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক চাহিদা থাকায় আগামীতে উপজেলায় এ জাতের ধানের চাষ বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এই ধানের জাতটি স্বল্পকালীন হওয়ায় কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিসহ আগাম শাকসবজি চাষ করে সাফল্য লাভ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন