ধর্ষণ প্রতিরোধে ৮ দফা দাবি পিজিএস বাংলাদেশের
jugantor
ধর্ষণ প্রতিরোধে ৮ দফা দাবি পিজিএস বাংলাদেশের

  যুগান্তর রিপোর্ট  

১৩ অক্টোবর ২০২০, ২১:১৩:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

পজিটিভ জেনারেশন অব সোসাইটি বাংলাদেশ

ধর্ষণ প্রতিরোধে আট দফা দাবি জানিয়েছে অরাজনৈতিক সংগঠন পজিটিভ জেনারেশন অব সোসাইটি বাংলাদেশ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ধর্ষণ ও নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ শিরোনামে রংপুর ডিসি মোড়ে দুইদিন ব্যাপী মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সোমবার দুপুর ২ টা থেকে ৫ টা এবং মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রতিবাদকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদী গান, মৌন মিছিল, স্লোগান, পথনাট্যের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক ঝর্ণা চৌধুরীর পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে প্রধান সমন্বয়ক তার বক্তব্যে বলেন, ধর্ষণের জন্য পোশাক কখনো দায়ী না। মানসিক বিকারগ্রস্ত পুরুষরা এর জন্য দায়ী, ধর্ষিতা দায়ী নয়। ধর্ষণের জন্য দায়ী বিকৃত মনের মানুষের পাশবিক চিন্তা। এর জন্য দায়ী বিচারহীনতা, রাজনৈতিক শক্তি। ধর্ষণের জন্য দায়ী নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক অনুশাসন।

ঠাকুরগাঁও সভাপতি আলী আকবর বলেন, আইনের কিছু ধারা সুস্পষ্ট করতে সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পাওয়া ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং ধর্ষণ মামলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান। এ সময় সিলেটসহ সারাদেশে ধর্ষণের দ্রুত বিচারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

সদস্য মার্গারেট রিমি বলেন, সমগ্র দেশ যেন আজ ধর্ষকদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এই করোনা মহাদুর্যোগেও একের পর এক ধর্ষণ কাণ্ডে জাতি আজ চরম আতঙ্কিত, লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ। মা-বোনরা আজ ঘর থেকে বের হতেও আতঙ্কবোধ করছে, এ যেন করোনার চেয়েও বড় মহামারী। এটার সমাধান এখনই হোক।

সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাবেদ সানি, আবু সায়াদ, জান্নাত হাসান, উম্মুল খায়ের, শেখ ফরিদ, সোহেল আহমেদ, সাদিয়া আহসান প্রমুখ ।

এ সময় সংগঠনটির পরক্ষ থেকে আট দফা দাবি জানানো হয়, এগুলো হচ্ছে-

>> বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞা পরিবর্তন বা সংস্কার করতে হবে। এটি বর্তমানে ১৬০ বছরের পুরনো ব্রিটিশ আমলের সংজ্ঞা দিয়ে চলছে।

>>১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারা বাতিল করতে হবে। এই ধারায় নারীকে দুশ্চরিত্রা প্রমাণ করতে পারলে ধর্ষক মুক্তি পেয়ে যায়।

>>দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের লিঙ্গভিত্তিক সংজ্ঞা বাতিল করতে হবে। এই ধারায় শুধু পুরুষ নারীকে ধর্ষণের কথা বলা হয়েছে। আমরা দেখেছি পুরুষ নারীকে যেমন ধর্ষণ করছে তেমনি পুরুষও পুরুষকে ধর্ষণ করছে। আবার নারীও পুরুষকে ধর্ষণ করতে পারে। তাই লিঙ্গভিত্তিক সংজ্ঞা বাতিল করতে হবে।

>>বৈবাহিক ধর্ষণকে ধর্ষণ বলে স্বীকৃতি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করতে হবে।

>>বিদ্যমান আইনে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অন্যান্য শাস্তিও রাখতে হবে। কারণ অনেক সময় বিচারক মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো গুরুদণ্ড দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রমাণ চান। অনেক সময় অনেক ধর্ষণে ধর্ষিতা/নির্যাতিত/নির্যাতিতা অনেক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে না। ফলে ধর্ষক ছাড়া পেয়ে যায়।

>>যেকোনো ধর্মীয় সভা সমাবেশে নারীদের প্রতি শালিনভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে।

>> দ্রুত বিচার আইনে ধর্ষণের বিচার করতে হবে।

>>নারীকে রাস্তাঘাটে, যানবাহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কর্মস্থলে হয়রানিবিহীন স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে আট দফা দাবির সঠিক বাস্তবায়ন ও আইনের কঠিন এবং কঠোর প্রয়োগসহ মনিটরিং নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

ধর্ষণ প্রতিরোধে ৮ দফা দাবি পিজিএস বাংলাদেশের

 যুগান্তর রিপোর্ট 
১৩ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
পজিটিভ জেনারেশন অব সোসাইটি বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণ প্রতিরোধে আট দফা দাবি জানিয়েছে অরাজনৈতিক সংগঠন পজিটিভ জেনারেশন অব সোসাইটি বাংলাদেশ। সংগঠনটির পক্ষ থেকে ধর্ষণ ও নারী সহিংসতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ শিরোনামে রংপুর ডিসি মোড়ে দুইদিন ব্যাপী মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সোমবার দুপুর ২ টা থেকে ৫ টা এবং মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত প্রতিবাদকারীরা বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদী গান, মৌন মিছিল, স্লোগান, পথনাট্যের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়। সংগঠনটির প্রধান সমন্বয়ক ঝর্ণা চৌধুরীর পাঠানো প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

এতে প্রধান সমন্বয়ক তার বক্তব্যে বলেন, ধর্ষণের জন্য পোশাক কখনো দায়ী না। মানসিক বিকারগ্রস্ত পুরুষরা এর জন্য দায়ী, ধর্ষিতা দায়ী নয়। ধর্ষণের জন্য দায়ী বিকৃত মনের মানুষের পাশবিক চিন্তা। এর জন্য দায়ী বিচারহীনতা, রাজনৈতিক শক্তি। ধর্ষণের জন্য দায়ী নৈতিক অবক্ষয়, পারিবারিক অনুশাসন।

ঠাকুরগাঁও সভাপতি আলী আকবর বলেন, আইনের কিছু ধারা সুস্পষ্ট করতে সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পাওয়া ধর্ষণ ও নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং ধর্ষণ মামলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানান। এ সময় সিলেটসহ সারাদেশে ধর্ষণের দ্রুত বিচারের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

সদস্য মার্গারেট রিমি বলেন, সমগ্র দেশ যেন আজ ধর্ষকদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এই করোনা মহাদুর্যোগেও একের পর এক ধর্ষণ কাণ্ডে জাতি আজ চরম আতঙ্কিত, লজ্জিত ও ক্ষুব্ধ। মা-বোনরা আজ ঘর থেকে বের হতেও আতঙ্কবোধ করছে, এ যেন করোনার চেয়েও বড় মহামারী। এটার সমাধান এখনই হোক।

সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাবেদ সানি, আবু সায়াদ, জান্নাত হাসান, উম্মুল খায়ের, শেখ ফরিদ, সোহেল আহমেদ, সাদিয়া আহসান প্রমুখ ।

এ সময় সংগঠনটির পরক্ষ থেকে আট দফা দাবি জানানো হয়, এগুলো হচ্ছে-

>> বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনে ধর্ষণের সংজ্ঞা পরিবর্তন বা সংস্কার করতে হবে। এটি বর্তমানে ১৬০ বছরের পুরনো ব্রিটিশ আমলের সংজ্ঞা দিয়ে চলছে।

>>১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারা বাতিল করতে হবে। এই ধারায় নারীকে দুশ্চরিত্রা প্রমাণ করতে পারলে ধর্ষক মুক্তি পেয়ে যায়।

>>দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের লিঙ্গভিত্তিক সংজ্ঞা বাতিল করতে হবে। এই ধারায় শুধু পুরুষ নারীকে ধর্ষণের কথা বলা হয়েছে। আমরা দেখেছি পুরুষ নারীকে যেমন ধর্ষণ করছে তেমনি পুরুষও পুরুষকে ধর্ষণ করছে। আবার নারীও পুরুষকে ধর্ষণ করতে পারে। তাই লিঙ্গভিত্তিক সংজ্ঞা বাতিল করতে হবে।

>>বৈবাহিক ধর্ষণকে ধর্ষণ বলে স্বীকৃতি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করতে হবে।

>>বিদ্যমান আইনে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অন্যান্য শাস্তিও রাখতে হবে। কারণ অনেক সময় বিচারক মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো গুরুদণ্ড দেয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি প্রমাণ চান। অনেক সময় অনেক ধর্ষণে ধর্ষিতা/নির্যাতিত/নির্যাতিতা অনেক প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে না। ফলে ধর্ষক ছাড়া পেয়ে যায়।

>>যেকোনো ধর্মীয় সভা সমাবেশে নারীদের প্রতি শালিনভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করতে হবে।

>> দ্রুত বিচার আইনে ধর্ষণের বিচার করতে হবে।

>>নারীকে রাস্তাঘাটে, যানবাহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কর্মস্থলে হয়রানিবিহীন স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় সংগঠনটির পক্ষ থেকে আট দফা দাবির সঠিক বাস্তবায়ন ও আইনের কঠিন এবং কঠোর প্রয়োগসহ মনিটরিং নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

 

 
জেলার খবর