২ হাত হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে কাঁদছে সাব্বির
jugantor
২ হাত হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে কাঁদছে সাব্বির

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

১৪ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৬:১৬  |  অনলাইন সংস্করণ

পল্লী বিদ্যুতের লাইন মেরামতের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ২ হাত হারিয়ে অল্প বয়সে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন পাবনার চাটমোহরের সাব্বির (২০)।

যে বয়সে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংসারের হাল ধরার কথা সেই বয়সে প্রাকৃতিক কাজ পর্যন্ত অন্যের সাহায্য ছাড়া করতে অক্ষম তিনি ।

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে এখন ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন সাব্বির।

দুর্ভাগা এই যুবকের বাড়ি চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দাঁথিয়া কয়রাপাড়া গ্রামে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিছানার এক কোণে শুয়ে অঝোরে কাঁদছেন সাব্বির। তার সব কিছু দেখভাল করছেন ভাবি চায়না খাতুন। সকালে ব্রাশ করে দেয়া, গোসল করানো থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক কাজ সারা পর্যন্ত সবই দেখতে হয় ভাবিকে। বাবা কামাল হোসেনও শারীরিকভাবে অসুস্থ। ছোট ছেলের এমন করুণ পরিণতিতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন।

সাব্বিরের এই দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তার বাবা কামাল হোসেন যুগান্তরকে জানান, আর্থিক দুরবস্থার কারণে পড়ালেখা ছেড়ে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমায় চট্টগ্রামে। সেখানে বিভিন্ন ঠিকাদারের আওতায় বিদ্যুতের লাইন মেরামতের কাজ শুরু করে। এর কিছুদিন পর ফিরে আসে বাড়িতে। পরে পাবনার মজনুর রহমান নামে এক সাব-ঠিকাদারের কাজে যোগ দেয় সাব্বির।

কামাল হোসেন বলেন, গত ২৬ জুলাই সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর লাইন মেরামত শেষে লাইনে সমস্যা দেখা দেয়ায় সাব-ঠিকাদার মজনুর রহমান রবি নামে এক লাইনম্যানকে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করার কথা বলে এবং সাব্বিরকে খুঁটিতে উঠতে বলে। কিন্তু রবি লাইন বন্ধ না করেই সাব্বিরকে জানায়,‘বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করা হয়েছে।’ খুঁটিতে ওঠার পরপরই বিদ্যুতায়িত হয়ে তারের সঙ্গে ঝুলে পড়ে সাব্বির। পরে অন্য শ্রমিকরা পালিয়ে গেলে সাব-ঠিকাদার মজনুর রহমানকে বেধড়ক মারধর করে স্থানীয়রা। পরে তাকে (সাব-ঠিকাদার) এবং সাব্বিরকে গুরুতর আহতাবস্থায় পাবনা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সাব্বিরের অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিট ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিটিউটে ভর্তি করার হয়। দীর্ঘ একমাস চিকিৎসা শেষে সাব্বিরের দুই হাত কেটে ফেলেন চিকিৎসক।

কান্নারত সাব্বিরের বাবা বলেন, এখন পর্যন্ত ছেলের চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় পৌনে ২ লাখ টাকা। ঠিকাদারের আর্থিক সহযোগিতায় ও ধারদেনা করে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।

সাব-ঠিকাদার মজনুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘রবি নামের ওই লাইনম্যানের ভুলের কারণেই এই দূর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা আমাকেও মারধর করে জখম করেছিল সে সময়। এছাড়া সাব্বিরের বাবার হাতে এখন পর্যন্ত বেতনসহ চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। তবে সাব্বিরকে একটা দোকান করে দেয়ায় ব্যাপারেও আশ্বাস দেন তিনি।

ভাবি চায়না খাতুন যুগান্তরকে বলেন, ‘মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই ভেঙ্গে পড়েছিল সাব্বির। এখন দেবরকে দেখে খুব খারাপ লাগে। অসহায়ের মতো সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকে। আমরা ওর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না।’

তবে সাব্বিরের জন্য কৃত্রিম হাতের ব্যবস্থা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার এমদাদুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অল্প বয়সী শ্রমিক কাজে নেয়া ঠিক হয়নি। ঠিকাদারদের এই বিষয়গুলো পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলীরা দেখে থাকেন। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গেকথা বলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সাব্বির ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে এই নাম্বারে-০১৭৩৮-১১৮৬৭২।

২ হাত হারিয়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে কাঁদছে সাব্বির

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
১৪ অক্টোবর ২০২০, ০১:৩৬ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পল্লী বিদ্যুতের লাইন মেরামতের কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে ২ হাত হারিয়ে অল্প বয়সে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন পাবনার চাটমোহরের সাব্বির (২০)।

যে বয়সে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সংসারের হাল ধরার কথা সেই বয়সে প্রাকৃতিক কাজ পর্যন্ত অন্যের সাহায্য ছাড়া করতে অক্ষম তিনি ।

অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে এখন ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন সাব্বির। 

দুর্ভাগা এই যুবকের বাড়ি চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দাঁথিয়া কয়রাপাড়া গ্রামে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিছানার এক কোণে শুয়ে অঝোরে কাঁদছেন সাব্বির। তার সব কিছু দেখভাল করছেন ভাবি চায়না খাতুন। সকালে ব্রাশ করে দেয়া, গোসল করানো থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক কাজ সারা পর্যন্ত সবই দেখতে হয় ভাবিকে। বাবা কামাল হোসেনও শারীরিকভাবে অসুস্থ। ছোট ছেলের এমন করুণ পরিণতিতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন।

সাব্বিরের এই দুর্ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তার বাবা কামাল হোসেন যুগান্তরকে জানান, আর্থিক দুরবস্থার কারণে পড়ালেখা ছেড়ে কাজের সন্ধানে পাড়ি জমায় চট্টগ্রামে। সেখানে বিভিন্ন ঠিকাদারের আওতায় বিদ্যুতের লাইন মেরামতের কাজ শুরু করে। এর কিছুদিন পর ফিরে আসে বাড়িতে। পরে পাবনার মজনুর রহমান নামে এক সাব-ঠিকাদারের কাজে যোগ দেয় সাব্বির।

কামাল হোসেন বলেন, গত ২৬ জুলাই সাঁথিয়া উপজেলার গৌরীগ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর লাইন মেরামত শেষে লাইনে সমস্যা দেখা দেয়ায় সাব-ঠিকাদার মজনুর রহমান রবি নামে এক লাইনম্যানকে বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করার কথা বলে এবং সাব্বিরকে খুঁটিতে উঠতে বলে। কিন্তু রবি লাইন বন্ধ না করেই সাব্বিরকে জানায়,‘বিদ্যুতের লাইন বন্ধ করা হয়েছে।’ খুঁটিতে ওঠার পরপরই বিদ্যুতায়িত হয়ে তারের সঙ্গে ঝুলে পড়ে সাব্বির। পরে অন্য শ্রমিকরা পালিয়ে গেলে সাব-ঠিকাদার মজনুর রহমানকে বেধড়ক মারধর করে স্থানীয়রা। পরে তাকে (সাব-ঠিকাদার) এবং সাব্বিরকে গুরুতর আহতাবস্থায় পাবনা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে সাব্বিরের অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ণ ইউনিট ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিটিউটে ভর্তি করার হয়। দীর্ঘ একমাস চিকিৎসা শেষে সাব্বিরের দুই হাত কেটে ফেলেন চিকিৎসক। 

কান্নারত সাব্বিরের বাবা বলেন, এখন পর্যন্ত ছেলের চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়েছে প্রায় পৌনে ২ লাখ টাকা। ঠিকাদারের আর্থিক সহযোগিতায় ও ধারদেনা করে চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছি।

সাব-ঠিকাদার মজনুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘রবি নামের ওই লাইনম্যানের ভুলের কারণেই এই দূর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা আমাকেও মারধর করে জখম করেছিল সে সময়। এছাড়া সাব্বিরের বাবার হাতে এখন পর্যন্ত বেতনসহ চিকিৎসা বাবদ প্রায় ৭০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। তবে সাব্বিরকে একটা দোকান করে দেয়ায় ব্যাপারেও আশ্বাস দেন তিনি। 

ভাবি চায়না খাতুন যুগান্তরকে বলেন, ‘মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই ভেঙ্গে পড়েছিল সাব্বির। এখন দেবরকে দেখে খুব খারাপ লাগে। অসহায়ের মতো সারাদিন বিছানায় শুয়ে থাকে। আমরা ওর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না।’

তবে সাব্বিরের জন্য কৃত্রিম হাতের ব্যবস্থা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার এমদাদুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ কাজে অল্প বয়সী শ্রমিক কাজে নেয়া ঠিক হয়নি। ঠিকাদারদের এই বিষয়গুলো পাবনার নির্বাহী প্রকৌশলীরা দেখে থাকেন। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। 

সাব্বির ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে এই নাম্বারে-০১৭৩৮-১১৮৬৭২।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন