স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে, ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি
jugantor
স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে, ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি

  মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি  

১৪ অক্টোবর ২০২০, ১৪:৩১:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে, ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় রাতের আঁধারে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরীর পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়। পরে স্থানীয়রা দুই যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের গুলগুলিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক মোহাম্মদ এবাদউল্লাহ একই এলাকার নবাব আলী মিস্ত্রির ছেলে। তিনি ওই কিশোরীর প্রেমিক নুরুল হাকিমের বন্ধু।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের গুলগুলিয়াপাড়া এলাকায় আলী আহমদের ছেলে নুরুল হাকিম পার্শ্ববর্তী এলাকায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে গত কয়েক মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

এ সম্পর্কের সূত্র ধরে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ওই কিশোরীর সঙ্গে জরুরি কথা আছে বলে কিশোরীকে ফোন করে ঘর থেকে ডেকে নেয়।

পরে তাকে পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেতে নিয়ে দুই বন্ধু মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। পরে কিশোরী বাড়িতে ফিরে অভিভাবকদের বিষয়টি জানায়। মেয়েটি বাড়িতে ফেরার পর পরই ধর্ষকরা মেয়ের অভিভাবকদের ফোন করে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করতে থাকে।

দাবির টাকা না দিলে তারা ধর্ষণের এ ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। পরে বিষয়টি পাড়ার লোকজন জানতে পেরে দাবির টাকা দেয়ার কথা বলে তাদের ডেকে আনে। এ সময় কথিত প্রেমিক নুরুল হাকিমের বন্ধু মোহাম্মদ এবাদউল্লাহকে আটক করে রাখে।

একই সময় ওই এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে অপর ধর্ষক খাইরুল আমিনকেও আটক করেন স্থানীয়রা। তবে পরে একটি প্রভাবশালী মহল তাকে ছাড়িয়ে নেয়।

আটক ধর্ষক এবাদউল্লাহকে মহেশখালী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন ধর্ষককে আসামি করে ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় মামলা করেছেন।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার ইরফান উদ্দিন জানান, রাতে ওই কিশোরী ও তার পরিবারের মুখ থেকে এমন ঘটনার বিবরণ শোনার পর দাবিকৃত চাঁদার টাকা দেয়ার কথা বলে ধর্ষকদের কৌশলে ডেকে আনা হয়। এ সময় দুই যুবককে আটক করা গেলেও পরে একজনকে প্রভাবশালীরা জনতার হাত থেকে কেড়ে নেন।

তিনি জানান, ধর্ষক এবাদউল্লাহকে তিনি নিজেই আটক করেছেন। এ সময় ধর্ষকের ছুরির আঘাতে তিনি সামান্য আহত হন বলেও জানান।

মহেশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইমরানুল কবির জানান, এ গণধর্ষণের ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে কথিত প্রেমিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছেন। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করে আটক এবাদউল্লাহকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন তিনি নিজেই।

স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে, ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি

 মহেশখালী (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 
১৪ অক্টোবর ২০২০, ০২:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের ভিডিও মোবাইলে, ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার হুমকি
ফাইল ছবি

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় রাতের আঁধারে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে কিশোরীর পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করা হয়। পরে স্থানীয়রা দুই যুবককে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের গুলগুলিয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক মোহাম্মদ এবাদউল্লাহ একই এলাকার নবাব আলী মিস্ত্রির ছেলে। তিনি ওই কিশোরীর প্রেমিক নুরুল হাকিমের বন্ধু।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের গুলগুলিয়াপাড়া এলাকায় আলী আহমদের ছেলে নুরুল হাকিম পার্শ্ববর্তী এলাকায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে গত কয়েক মাস আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

এ সম্পর্কের সূত্র ধরে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ওই কিশোরীর সঙ্গে জরুরি কথা আছে বলে কিশোরীকে ফোন করে ঘর থেকে ডেকে নেয়।

পরে তাকে পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেতে নিয়ে দুই বন্ধু মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

এ সময় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। পরে কিশোরী বাড়িতে ফিরে অভিভাবকদের বিষয়টি জানায়। মেয়েটি বাড়িতে ফেরার পর পরই ধর্ষকরা মেয়ের অভিভাবকদের ফোন করে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করতে থাকে।

দাবির টাকা না দিলে তারা ধর্ষণের এ ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেবে বলে হুমকি দেয়। পরে বিষয়টি পাড়ার লোকজন জানতে পেরে দাবির টাকা দেয়ার কথা বলে তাদের ডেকে আনে। এ সময় কথিত প্রেমিক নুরুল হাকিমের বন্ধু মোহাম্মদ এবাদউল্লাহকে আটক করে রাখে।

একই সময় ওই এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে অপর ধর্ষক খাইরুল আমিনকেও আটক করেন স্থানীয়রা। তবে পরে একটি প্রভাবশালী মহল তাকে ছাড়িয়ে নেয়।

আটক ধর্ষক এবাদউল্লাহকে মহেশখালী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিন ধর্ষককে আসামি করে ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় মামলা করেছেন।

স্থানীয় ইউপি মেম্বার ইরফান উদ্দিন জানান, রাতে ওই কিশোরী ও তার পরিবারের মুখ থেকে এমন ঘটনার বিবরণ শোনার পর দাবিকৃত চাঁদার টাকা দেয়ার কথা বলে ধর্ষকদের কৌশলে ডেকে আনা হয়। এ সময় দুই যুবককে আটক করা গেলেও পরে একজনকে প্রভাবশালীরা জনতার হাত থেকে কেড়ে নেন।

তিনি জানান, ধর্ষক এবাদউল্লাহকে তিনি নিজেই আটক করেছেন। এ সময় ধর্ষকের ছুরির আঘাতে তিনি সামান্য আহত হন বলেও জানান।

মহেশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইমরানুল কবির জানান, এ গণধর্ষণের ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে কথিত প্রেমিকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছেন। ভিকটিমের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করে আটক এবাদউল্লাহকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন তিনি নিজেই।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন