‘ফোয়ারা ও আলোকসজ্জা দিয়ে কী হবে, আগে রাস্তা ঠিক করে দিন’
jugantor
‘ফোয়ারা ও আলোকসজ্জা দিয়ে কী হবে, আগে রাস্তা ঠিক করে দিন’

  একরাম তালুকদার, দিনাজপুর   

১৪ অক্টোবর ২০২০, ১৯:২৪:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা আর আলোকসজ্জা দিয়ে কী হবে? আগে আমাদের রাস্তাগুলো ঠিক করে দেয়া হোক। দীর্ঘদিন থেকে শহরের রাস্তাগুলোর যে দুরবস্থা, চলাচল করাটাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব রাস্তায় চলাচল করতে ঝাঁকুনি খাওয়ার পর শহরের এসব আলোকসজ্জা আর পানির ফোয়ারা আমাদের চোখে সর্ষের ফুলের মতো দেখাচ্ছে।

দিনাজপুর শহরের জেলরোড মোড়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা দেখে এমন কথাই জানাচ্ছিলেন দিনাজপুর পৌরসভার অধিবাসী মামুনুর রহমান।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর থেকে সংস্কার না করায় দিনাজপুর শহরের বেশিরভাগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দকে পরিণত হয়েছে সড়কগুলো। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্তের। সড়ক আছে বলে মনেই হয় না। মানুষ চরম কষ্টে এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করছে কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের সেদিকে নজর নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর পৌরসভায় সড়ক আছে প্রায় ২শ' কিলোমিটার। কিন্তু এসব সড়ক পৌর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

শহরের প্রধান দু-একটি সড়ক বাদ দিয়ে অধিকাংশ সড়কেরই বেহাল দশা। কোথাও সড়কের কার্পেটিংসহ উপরের অংশ উঠে গেছে; অনেক স্থানেই খানাখন্দক ও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

দিনাজপুর শহরের গুরুত্বপুর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা বাহাদুরবাজার, শহরের বালুয়াডাঙ্গা, চাউলিয়াপট্টি, ঘাসিপাড়া, মুদিপাড়া, পাহাড়পুর, ক্ষেত্রীপাড়া, লালবাগ, গোলাপবাগ, সুইহারী, নয়নপুর, বালুবাড়ী, মিশন রোড, রামনগর, মুন্সীপাড়া, উপশহর, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা পুলহাট, রাজবাটীসহ শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকার সড়কের এ বেহাল দশা।

বছরের পর বছর সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এসব সড়ক। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পৌরবাসী। ভাঙ্গা ও খানাখন্দকে ভরা এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

পৌরবাসীর এ দুর্দশার মধ্যে দিনাজপুর পৌর কার্যালয় চত্বরে একটি সুসজ্জিত আলোকসজ্জার টাওয়ার এবং শহরের জেলরোড মোড়ে দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা স্থাপন করায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে পৌরবাসীর মধ্যে। এতে অনেকেই টিপ্পনি কাটছেন।

দিনাজপুর শহরের অটোরিকশাচালক আমিনুল ইসলাম জানান, শহরের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচলই করা যাচ্ছে না। খানাখন্দকে পড়ে প্রায়ই অটোরিকশা বিকল হয়ে যাচ্ছে ও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। আর সড়কের সংস্কার না করে পৌর কর্তৃপক্ষ আলোকসজ্জার টাওয়ার আর পানির ফোয়ারা নির্মাণ করেছে। তার মানে উপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট।

এ ব্যাপারে দিনাজপুর নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গেলে সত্যিই মনে হচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে হাঁটছে। কিন্তু দিনাজপুর শহরে তার বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই। এত জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট বাংলাদেশের কোথাও আছে বলে মনে হয় না। রাস্তাঘাট, ময়লা-আবর্জনা আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে পৌরবাসী মহাদুর্ভোগে রয়েছেন। এরই মধ্যে মেয়র সাহেব আলোকসজ্জা সম্বলিত টাওয়ার ও ফোয়ারা স্থাপন করেছেন। এটা দিনাজপুর শহরের জন্য বেমানান ও পৌরবাসীর সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এসব করার আগে তিনি শহরের রাস্তাঘাটগুলো সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে তোলার আহ্বান জানান।

দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম পৌর এলাকার রাস্তাঘাটের দুর্দশার কথা স্বীকার করে বলেন, পৌর এলাকার রাস্তা ও ড্রেন সংস্কারের জন্য পঞ্চাশ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। অতি দ্রুত কাজ শুরু হবে। কাজ শেষ হলেই জনদুর্ভোগ কমবে বলে জানান তিনি।

‘ফোয়ারা ও আলোকসজ্জা দিয়ে কী হবে, আগে রাস্তা ঠিক করে দিন’

 একরাম তালুকদার, দিনাজপুর  
১৪ অক্টোবর ২০২০, ০৭:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা আর আলোকসজ্জা দিয়ে কী হবে? আগে আমাদের রাস্তাগুলো ঠিক করে দেয়া হোক। দীর্ঘদিন থেকে শহরের রাস্তাগুলোর যে দুরবস্থা, চলাচল করাটাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব রাস্তায় চলাচল করতে ঝাঁকুনি খাওয়ার পর শহরের এসব আলোকসজ্জা আর পানির ফোয়ারা আমাদের চোখে সর্ষের ফুলের মতো দেখাচ্ছে।

দিনাজপুর শহরের জেলরোড মোড়ে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা দেখে এমন কথাই জানাচ্ছিলেন দিনাজপুর পৌরসভার অধিবাসী মামুনুর রহমান। 

তিনি বলেন, বছরের পর বছর থেকে সংস্কার না করায় দিনাজপুর শহরের বেশিরভাগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। খানাখন্দকে পরিণত হয়েছে সড়কগুলো। কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্তের। সড়ক আছে বলে মনেই হয় না। মানুষ চরম কষ্টে এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করছে কিন্তু পৌর কর্তৃপক্ষের সেদিকে নজর নেই। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দিনাজপুর পৌরসভায় সড়ক আছে প্রায় ২শ' কিলোমিটার। কিন্তু এসব সড়ক পৌর কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

শহরের প্রধান দু-একটি সড়ক বাদ দিয়ে অধিকাংশ সড়কেরই বেহাল দশা। কোথাও সড়কের কার্পেটিংসহ উপরের অংশ উঠে গেছে; অনেক স্থানেই খানাখন্দক ও গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। 

দিনাজপুর শহরের গুরুত্বপুর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা বাহাদুরবাজার, শহরের বালুয়াডাঙ্গা, চাউলিয়াপট্টি, ঘাসিপাড়া, মুদিপাড়া, পাহাড়পুর, ক্ষেত্রীপাড়া, লালবাগ, গোলাপবাগ, সুইহারী, নয়নপুর, বালুবাড়ী, মিশন রোড, রামনগর, মুন্সীপাড়া, উপশহর, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা পুলহাট, রাজবাটীসহ শহরের প্রায় প্রতিটি এলাকার সড়কের এ বেহাল দশা। 

বছরের পর বছর সংস্কার না করায় জরাজীর্ণ হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এসব সড়ক। এ অবস্থায় বাধ্য হয়েই এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন পৌরবাসী। ভাঙ্গা ও খানাখন্দকে ভরা এসব সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। 

পৌরবাসীর এ দুর্দশার মধ্যে দিনাজপুর পৌর কার্যালয় চত্বরে একটি সুসজ্জিত আলোকসজ্জার টাওয়ার এবং শহরের জেলরোড মোড়ে দৃষ্টিনন্দন পানির ফোয়ারা স্থাপন করায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে পৌরবাসীর মধ্যে। এতে অনেকেই টিপ্পনি কাটছেন।

দিনাজপুর শহরের অটোরিকশাচালক আমিনুল ইসলাম জানান, শহরের বিভিন্ন সড়ক দিয়ে চলাচলই করা যাচ্ছে না। খানাখন্দকে পড়ে প্রায়ই অটোরিকশা বিকল হয়ে যাচ্ছে ও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। আর সড়কের সংস্কার না করে পৌর কর্তৃপক্ষ আলোকসজ্জার টাওয়ার আর পানির ফোয়ারা নির্মাণ করেছে। তার মানে উপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট। 

এ ব্যাপারে দিনাজপুর নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ জানান, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে গেলে সত্যিই মনে হচ্ছে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে হাঁটছে। কিন্তু দিনাজপুর শহরে তার বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই। এত জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট বাংলাদেশের কোথাও আছে বলে মনে হয় না। রাস্তাঘাট, ময়লা-আবর্জনা আর ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে পৌরবাসী মহাদুর্ভোগে রয়েছেন। এরই মধ্যে মেয়র সাহেব আলোকসজ্জা সম্বলিত টাওয়ার ও ফোয়ারা স্থাপন করেছেন। এটা দিনাজপুর শহরের জন্য বেমানান ও পৌরবাসীর সঙ্গে প্রতারণার শামিল। এসব করার আগে তিনি শহরের রাস্তাঘাটগুলো সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করে তোলার আহ্বান জানান।

দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম পৌর এলাকার রাস্তাঘাটের দুর্দশার কথা স্বীকার করে বলেন, পৌর এলাকার রাস্তা ও ড্রেন সংস্কারের জন্য পঞ্চাশ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। অতি দ্রুত কাজ শুরু হবে। কাজ শেষ হলেই জনদুর্ভোগ কমবে বলে জানান তিনি।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন