ইছামতি নদী পারাপারে স্থানীয়দের দুর্ভোগ
jugantor
ইছামতি নদী পারাপারে স্থানীয়দের দুর্ভোগ

  বগুড়া ব্যুরো  

১৫ অক্টোবর ২০২০, ২২:৫৪:৪৫  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের মাদারভিটা গ্রামের ইছামতি নদীতে সেতু না থাকায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শুষ্ক মৌসুমে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে জনগণ যাতায়াত করলেও বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি বেড়ে যায়। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে একটি আরসিসি সেতু নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের বুকচিড়ে বয়ে গেছে ইছামতি নদী। নদীর পশ্চিমপাড়ে পারধুনট ও পূর্বপাড়ে মারভিটা গ্রাম।

এছাড়াও পাশ্ববর্তী ঘুঘরাপাড়া, মাদার ভিটা ও পারুলকান্দি গ্রামের হাজারও লোক প্রতিদিন এই নদী পারাপার হন। নদীতে সেতু না থাকায় কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ করা, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত, অসুস্থদের চিকিৎসাসেবা নিতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

যুগ যুগ ধরে ওই সব গ্রামের লোকজনকে নদীর পশ্চিম পাশে আসতে হলে তাদের সাঁতরিয়ে বা ১০ কিলোমিটার ঘুরে গিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়।

মাদারভিটা গ্রামের আলী আরমান রকি ও চাঁন মিয়া বলেন, শুষ্ক মৌসুমে লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াত করলেও বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি বেড়ে যায়। কখনও নৌকা না পেলে তাদের সাঁতরিয়ে নদী পার হতে হয়। নদীর পশ্চিম পাশের পারধুনট ও ঘুঘরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের অধিকাংশ ফসলি জমি রয়েছে পূর্ব পাশে।

ইছামতি নদীতে সেতু না থাকায় তারা তাদের ওইসব জমিতে ঠিকমতো চাষাবাদ করতে পারেন না। এতে তাদের অভাব চিরসঙ্গী হয়ে রয়েছে। কয়েক মাস আগে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াত করলেও সম্প্রতি ভারি বর্ষণে ও বন্যার পানিতে সাঁকো ভেসে গেছে।

বর্তমানে একটি ছোট নৌকা ভাড়া নিয়ে এসে প্রতিদিন ৪/৫টি গ্রামের হাজারো লোকজন যাতায়াত করে আসছেন। তাই তারা দীর্ঘদিন ধরে ইছামতি নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।

ভুক্তভোগীরা জানান, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তা ভুলে যান। তাই দীর্ঘদিন ধরে তাদের সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পারধুনট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী কল্পনা খাতুন ও রোকসানা খাতুন জানায়, নদীতে সেতু না থাকায় তারা সময়মতো স্কুলে যেতে পারে না। সারা বছরই কষ্ট করে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। আর শুষ্ক মৌসুমে হাঁটু পানি পার হতে হয়। আর বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেই যাতায়াতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ প্রসঙ্গে ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, যেসব নদীতে সেতুন নির্মাণ প্রয়োজন এমন তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামীতে ইছামতি নদীতে সেতুর জন্য বরাদ্দ পাওয়া যাবে।

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত ধুনট ও শেরপুর উপজেলায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও যদি কোনো নদীতে সেতু না থাকে সেখানে পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে।

ইছামতি নদী পারাপারে স্থানীয়দের দুর্ভোগ

 বগুড়া ব্যুরো 
১৫ অক্টোবর ২০২০, ১০:৫৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের মাদারভিটা গ্রামের ইছামতি নদীতে সেতু না থাকায় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 

শুষ্ক মৌসুমে স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে জনগণ যাতায়াত করলেও বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি বেড়ে যায়। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে একটি আরসিসি সেতু নির্মাণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের বুকচিড়ে বয়ে গেছে ইছামতি নদী। নদীর পশ্চিমপাড়ে পারধুনট ও পূর্বপাড়ে মারভিটা গ্রাম। 

এছাড়াও পাশ্ববর্তী ঘুঘরাপাড়া, মাদার ভিটা ও পারুলকান্দি গ্রামের হাজারও লোক প্রতিদিন এই নদী পারাপার হন। নদীতে সেতু না থাকায় কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চাষাবাদ করা, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত, অসুস্থদের চিকিৎসাসেবা নিতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। 

যুগ যুগ ধরে ওই সব গ্রামের লোকজনকে নদীর পশ্চিম পাশে আসতে হলে তাদের সাঁতরিয়ে বা ১০ কিলোমিটার ঘুরে গিয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়। 

মাদারভিটা গ্রামের আলী আরমান রকি ও চাঁন মিয়া বলেন, শুষ্ক মৌসুমে লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াত করলেও বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি বেড়ে যায়। কখনও নৌকা না পেলে তাদের সাঁতরিয়ে নদী পার হতে হয়। নদীর পশ্চিম পাশের পারধুনট ও ঘুঘরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের অধিকাংশ ফসলি জমি রয়েছে পূর্ব পাশে। 

ইছামতি নদীতে সেতু না থাকায় তারা তাদের ওইসব জমিতে ঠিকমতো চাষাবাদ করতে পারেন না। এতে তাদের অভাব চিরসঙ্গী হয়ে রয়েছে। কয়েক মাস আগে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে যাতায়াত করলেও সম্প্রতি ভারি বর্ষণে ও বন্যার পানিতে সাঁকো ভেসে গেছে। 

বর্তমানে একটি ছোট নৌকা ভাড়া নিয়ে এসে প্রতিদিন ৪/৫টি গ্রামের হাজারো লোকজন যাতায়াত করে আসছেন। তাই তারা দীর্ঘদিন ধরে ইছামতি নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। 

ভুক্তভোগীরা জানান, জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তা ভুলে যান। তাই দীর্ঘদিন ধরে তাদের সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

পারধুনট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী কল্পনা খাতুন ও রোকসানা খাতুন জানায়, নদীতে সেতু না থাকায় তারা সময়মতো স্কুলে যেতে পারে না। সারা বছরই কষ্ট করে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। আর শুষ্ক মৌসুমে হাঁটু পানি পার হতে হয়। আর বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলেই যাতায়াতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ প্রসঙ্গে ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, যেসব নদীতে সেতুন নির্মাণ প্রয়োজন এমন তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামীতে ইছামতি নদীতে সেতুর জন্য বরাদ্দ পাওয়া যাবে। 

বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত ধুনট ও শেরপুর উপজেলায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও যদি কোনো নদীতে সেতু না থাকে সেখানে পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন