আ'লীগ নেতার বাড়িতে স্কুলছাত্রকে রাতভর নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায়
jugantor
আ'লীগ নেতার বাড়িতে স্কুলছাত্রকে রাতভর নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায়

  কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি  

১৭ অক্টোবর ২০২০, ২১:৫৩:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

কুস্টিয়া, অপহরণ

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে কামরুজ্জামান (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রকে রড ও লাঠি দিয়ে রাতভর পেটানোর পর ইয়াবাসহ পুলিশে দেয়ার হুমকি দিয়ে দশ হাজার টাকা মুক্তিপণের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ঘটনাটি উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে ঘটেছে। আওয়ামী লীগ নেতার নাম আনছার মিস্ত্রি। তিনি ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। ঘটনার শিকার ওই স্কুলছাত্র পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বুরুলিয়া গ্রামের কৃষক সমসের আলীর ছেলে ও কাতলাগাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় ও ঘটনার শিকার স্কুলছাত্রের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কামরুজ্জামান আত্মীয় বাড়ির উদ্দেশে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মসজিদের সামনে পৌঁছলে ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার মিস্ত্রির ছেলে শুকুর আলী, বাবলু মোল্লার ছেলে রানা ও মৃত মসলেম মোল্লার ছেলে তাইজাল তাকে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি আনছার মিস্ত্রির বাড়িতে আটকে রাখে। এরপর বেধড়ক পিটিয়ে স্কুলছাত্রের পরিবারকে ফোন দেয়। ফজরের আজানের সময় ফোন পেয়ে ছাত্রের চাচা বাদশা ও সোহেল রিক্সাযোগে দ্রুত সভাপতির বাড়িতে পৌঁছলে তারা জানায়- ৫০ হাজার টাকা না দিলে মেরে ফেলব, না হয় পুলিশের হাতে তুলে দেব। এ সময় টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে চাঁদাবাজরা তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিলে বৃহস্পতিবার ১টা ১০ মিনিটের দিকে ১০ হাজার টাকা শুকুরকে দিয়ে স্কুলছাত্রকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তার চাচা সোহেল।

এ বিষয়ে ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিস্ত্রি বলেন, ফজরের নামাজ পড়তে উঠে জানতে পারলাম আমার ছেলে শুকুর একটা ছেলেকে ধরে নিয়ে রুমে আটকে রেখেছে। এরপর ওই ছেলের সঙ্গে কথা বললে সে বলে- তাকে খুব মারধর করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার ব্যস্ততা থাকায় জামাই বাড়ি চলে যাই। পরে কী হয়েছে আমার জানা নেই।

বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত শুকুর আলীর বাড়িতে গিয়ে পাওয়া না গেলে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি টিপু মিঞা বলেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে ঘটে যাওয়া বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও দলীয় শৃঙ্খলা বহির্ভূত। এ বিষয়ে অবশ্যই সভাপতির বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, এ বিষয়ে এখনও অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আ'লীগ নেতার বাড়িতে স্কুলছাত্রকে রাতভর নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায়

 কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 
১৭ অক্টোবর ২০২০, ০৯:৫৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কুস্টিয়া, অপহরণ
কুস্টিয়া

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে কামরুজ্জামান (১৬) নামের এক স্কুলছাত্রকে রড ও লাঠি দিয়ে রাতভর পেটানোর পর ইয়াবাসহ পুলিশে দেয়ার হুমকি দিয়ে দশ হাজার টাকা মুক্তিপণের মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

ঘটনাটি উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে ঘটেছে। আওয়ামী লীগ নেতার নাম আনছার মিস্ত্রি। তিনি ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। ঘটনার শিকার ওই স্কুলছাত্র পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের বুরুলিয়া গ্রামের কৃষক সমসের আলীর ছেলে ও কাতলাগাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় ও ঘটনার শিকার স্কুলছাত্রের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে কামরুজ্জামান আত্মীয় বাড়ির উদ্দেশে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মসজিদের সামনে পৌঁছলে ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার মিস্ত্রির ছেলে শুকুর আলী, বাবলু মোল্লার ছেলে রানা ও মৃত মসলেম মোল্লার ছেলে তাইজাল তাকে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি আনছার মিস্ত্রির বাড়িতে আটকে রাখে। এরপর বেধড়ক পিটিয়ে স্কুলছাত্রের পরিবারকে ফোন দেয়। ফজরের আজানের সময় ফোন পেয়ে ছাত্রের চাচা বাদশা ও সোহেল রিক্সাযোগে দ্রুত সভাপতির বাড়িতে পৌঁছলে তারা জানায়- ৫০ হাজার টাকা না দিলে মেরে ফেলব, না হয় পুলিশের হাতে তুলে দেব।  এ সময় টাকা দিতে অপারগতা  প্রকাশ করলে চাঁদাবাজরা তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিলে বৃহস্পতিবার ১টা ১০ মিনিটের দিকে ১০ হাজার টাকা শুকুরকে  দিয়ে স্কুলছাত্রকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তার চাচা সোহেল।

এ বিষয়ে ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিস্ত্রি বলেন, ফজরের নামাজ পড়তে উঠে জানতে পারলাম আমার ছেলে শুকুর একটা ছেলেকে ধরে নিয়ে রুমে আটকে রেখেছে। এরপর ওই ছেলের সঙ্গে কথা বললে সে বলে- তাকে খুব মারধর করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার ব্যস্ততা থাকায় জামাই বাড়ি চলে যাই। পরে কী হয়েছে আমার জানা নেই।

বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত শুকুর আলীর বাড়িতে গিয়ে পাওয়া না গেলে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পান্টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি টিপু মিঞা বলেন, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির বাড়িতে ঘটে যাওয়া বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক ও দলীয় শৃঙ্খলা বহির্ভূত। এ বিষয়ে অবশ্যই সভাপতির বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ বলেন, এ বিষয়ে এখনও অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন