বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন
jugantor
বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন

  গাজীপুর প্রতিনিধি  

১৮ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৫৪:৩২  |  অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন

বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন করেছে। যার বৈশিষ্ট্য হল একটি গাছও ফল ছাড়া থাকবে না। প্রতিটা গাছে ফলন হবে ৬০ থেকে ৭০ কেজি। ফলের মিষ্টতাও হবে অনেক বেশি। পাকার পরও সহজে পঁচন ধরবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএ খালেক মিয়া ও অধ্যাপক নাসরীন আক্তার আইভী পেঁপের এই নতুন জাত উদ্ভাবন করেন।

শনিবার গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বে একদল কৃষিবিদ ও সাংবাদিক সরেজমিন মাঠ পরিদর্শনে ভালুকার চাঁনপুর এলাকায় যান। সেখানে স্থানীয় পেঁপে চাষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হয়। পেঁপে চাষী খন্দকার রফিকুল ইসলাম ও খন্দকার রোমান হোসেন জানান, পূর্বে তারা দেড় একর জমিতে আঁখের চাষ করে বছরে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করতেন। এখন বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত নতুন জাতের পেঁপের চাষ করে একই পরিমাণ জমিতে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় করছেন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ফলের আড়তদার মো. নান্নু মিয়া জানান, ওই এলাকার রফিকুল ইসলাম, রোমান হোসেনসহ অনেকের বাগানের পেঁপে নিয়ে তিনি যাত্রাবাড়ীতে তার নিজ আড়ত থেকে পাইকারি বিক্রি করেন। এই নতুন জাতের পেঁপের একটি বৈশিষ্ট্য হল সহজে পচে না। পাকার পরও দুই-তিন দিন শক্ত থাকে। ফলে সুবিধা হল ব্যবসায় ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকে।

অধ্যাপক নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, বাণিজ্যিকভাবে পেঁপের কোনো জাত ছিল না, যাতে একজন কৃষক পেঁপে চাষ করতে পারেন। সেই ধারণাটা মাখায় নিয়ে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ ড. এমএ খালেক মিয়ার নেতৃত্বে আমরা গত পাঁচ বছর ধরে দেশীয় জামপ্লাজম ব্যবহার করে পেঁপের এ নতুন জাতটি উদ্ভোবন করেছি। যার মূল উদ্দেশ্য ও প্রধান বৈশিষ্ট্য হল একটি গাছও ফল ছাড়া থাকবে না। প্রতিটি গাছেই ফল ধরবে, প্রত্যেকটি গাছ বছবে ৬০ থেকে ৭০ কেজি পেঁপে ফলন দিবে। ফলে আমাদের কৃষকেরা পেঁপে চাষ করে লাভবান হবেন।
বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন মিয়া বলেন, আমরা আগে দেখেছি যে পেঁপের জাতগুলো কৃষকরা লাগাত সেই জাতগুলোর কমপক্ষে তিনটি করে চারা একসঙ্গে লাগাতে হতো। তারপরও দেখা যেত যে, এত সার-পানি ও শ্রম দেয়ার পরও ওই তিনটি গাছই কেটে ফেলতে হচ্ছে। কোন ফল ধরছে না।
সেটি মাথায় নিয়েই আমাদের বিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। মাঠ পর্যায়ে এ ফলটা বেচে থাকুক, কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে যাক, সেই কাজটুকু করার জন্য আমরা সুপ্রিম সিড কোম্পানির মাধ্যমে তাদের পরিচিত কৃষকদের মাঝে আগে বীজটা দেই। তাদের সুযোগ্য গবেষকরা এই বীজটাকে পিউরিফাই করেছেন এবং বীজের গুণগতমান যাতে ঠিক রাখে সেই ব্যাপারে আমরাও তাদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়- আমাদের কৃষক ভাইদের জন্য পেঁপে চাষের একটা সুন্দর দিন সামনে অপেক্ষা করছে।

বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন

 গাজীপুর প্রতিনিধি 
১৮ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৫৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন
বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন

বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নতুন জাতের পেঁপে উদ্ভাবন করেছে। যার বৈশিষ্ট্য হল একটি গাছও ফল ছাড়া থাকবে না। প্রতিটা গাছে ফলন হবে ৬০ থেকে ৭০ কেজি। ফলের মিষ্টতাও হবে অনেক বেশি। পাকার পরও সহজে পঁচন ধরবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএ খালেক মিয়া ও অধ্যাপক নাসরীন আক্তার আইভী পেঁপের এই নতুন জাত উদ্ভাবন করেন।

শনিবার গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন মিয়ার নেতৃত্বে একদল কৃষিবিদ ও সাংবাদিক সরেজমিন মাঠ পরিদর্শনে ভালুকার চাঁনপুর এলাকায় যান। সেখানে স্থানীয় পেঁপে চাষীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হয়। পেঁপে চাষী খন্দকার রফিকুল ইসলাম ও খন্দকার রোমান হোসেন জানান, পূর্বে তারা দেড় একর জমিতে আঁখের চাষ করে বছরে এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় করতেন। এখন বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত নতুন জাতের পেঁপের চাষ করে একই পরিমাণ জমিতে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় করছেন। 

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার ফলের আড়তদার মো. নান্নু মিয়া জানান, ওই এলাকার রফিকুল ইসলাম, রোমান হোসেনসহ অনেকের বাগানের পেঁপে নিয়ে তিনি যাত্রাবাড়ীতে তার নিজ আড়ত থেকে পাইকারি বিক্রি করেন। এই নতুন জাতের পেঁপের একটি বৈশিষ্ট্য হল সহজে পচে না। পাকার পরও দুই-তিন দিন শক্ত থাকে। ফলে সুবিধা হল ব্যবসায় ক্ষতির সম্ভাবনা কম থাকে।    

অধ্যাপক নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, বাণিজ্যিকভাবে পেঁপের কোনো জাত ছিল না, যাতে একজন কৃষক পেঁপে চাষ করতে পারেন। সেই ধারণাটা মাখায় নিয়ে বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ ড. এমএ খালেক মিয়ার নেতৃত্বে আমরা গত পাঁচ বছর ধরে দেশীয় জামপ্লাজম ব্যবহার করে পেঁপের এ নতুন জাতটি উদ্ভোবন করেছি। যার মূল উদ্দেশ্য ও প্রধান বৈশিষ্ট্য হল একটি গাছও ফল ছাড়া থাকবে না। প্রতিটি গাছেই ফল ধরবে, প্রত্যেকটি গাছ বছবে ৬০ থেকে ৭০ কেজি পেঁপে ফলন দিবে। ফলে আমাদের কৃষকেরা পেঁপে চাষ করে লাভবান হবেন। 
বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন মিয়া বলেন, আমরা আগে দেখেছি যে পেঁপের জাতগুলো কৃষকরা লাগাত সেই জাতগুলোর কমপক্ষে তিনটি করে চারা একসঙ্গে লাগাতে হতো। তারপরও দেখা যেত যে, এত সার-পানি ও শ্রম দেয়ার পরও ওই তিনটি গাছই কেটে ফেলতে হচ্ছে। কোন ফল ধরছে না।
সেটি মাথায় নিয়েই আমাদের বিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। মাঠ পর্যায়ে এ ফলটা বেচে থাকুক, কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে যাক, সেই কাজটুকু করার জন্য আমরা সুপ্রিম সিড কোম্পানির মাধ্যমে তাদের পরিচিত কৃষকদের মাঝে আগে বীজটা দেই। তাদের সুযোগ্য গবেষকরা এই বীজটাকে পিউরিফাই করেছেন এবং বীজের গুণগতমান যাতে ঠিক রাখে সেই ব্যাপারে আমরাও তাদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়- আমাদের কৃষক ভাইদের জন্য পেঁপে চাষের একটা সুন্দর দিন সামনে অপেক্ষা করছে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন