ভিক্ষা ছেড়ে গোলাপী এখন দোকানি
jugantor
ভিক্ষা ছেড়ে গোলাপী এখন দোকানি

  চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি  

১৯ অক্টোবর ২০২০, ১৮:৫৭:৫১  |  অনলাইন সংস্করণ

মহেলা গ্রামের যুবসমাজ। নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে গুয়াখড়া রেলস্টেশনের পাশে রেলের জায়গার ওপর তৈরি করা একটি ঘরে ‘ভ্যারাইটিজ দোকান’ করে দিয়ে মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করল তারা। সোমবার সকালে গোলাপী খাতুনের দোকান উদ্বোধন করা হয়।

জন্মপ্রতিবন্ধী গোলাপী খাতুন (৩৫)। পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুয়াখড়া রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত একটি কোয়ার্টারে তার বাস। স্বামী সোবাহান হোসেন দীর্ঘদিন আগে ছেড়ে চলে গেছেন। ভিক্ষা করে একমাত্র সন্তান গোলাম মোস্তফাকে নিয়ে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। হাঁটু ও দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে ভিক্ষা করতে গিয়ে পায়ে দগদগে ঘা হয়ে গেছে এই নারীর।

তার এমন কষ্ট দেখে অবশেষে পাশে দাঁড়াল উপজেলার মহেলা গ্রামের যুবসমাজ। নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে গুয়াখড়া রেলস্টেশনের পাশে রেলের জায়গার ওপর তৈরি করা একটি ঘরে ‘ভ্যারাইটিজ দোকান’ করে দিয়ে মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করল তারা। সোমবার সকালে গোলাপী খাতুনের দোকান উদ্বোধন করা হয়। প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক গোলাপী খাতুনকে পুনর্বাসন করায় প্রশংসায় ভাসছে ওই এলাকার যুবসমাজ।

সরেজমিন দেখা গেছে, কেউ কিনতে এসেছেন বিস্কুট-চকোলেট, কেউবা চা-চিনি। আবার কেউবা নানা ধরনের খাদ্যপণ্য। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নিজেরাই গোলাপী খাতুনের দোকান সাজিয়ে দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। দোকান শুরুর প্রথম বেলাতেই গোলাপী খাতুন প্রায় ১ হাজার টাকা বিক্রি করেন। হঠাৎ করে এমন পরিবেশ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গোলাপী খাতুন।

উদ্যোক্তাদের মধ্যে খাইরুল ইসলাম, রিপন রহমান, আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন যুবক জানান, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি গোলাপী আপা হাঁটু ও হাতের ওপর ভর করে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা করেন। জনপ্রতিনিধি বা বিত্তবানরা কেউ এগিয়ে আসেননি। তার কষ্ট দেখে আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেই তাকে (গোলাপী) পুনর্বাসন করার। সবার সহযোগিতায় আমরা একটি ছোট পরিসরে দোকান করে দিতে পেরেছি। আশা করছি আমাদের দেখাদেখি দেশের বিভিন্ন এলাকায় যুবসমাজ এভাবেই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াবে।

আবেগাপ্লুত হয়ে গোলাপী খাতুন যুগান্তরকে বলেন, ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে ‘ভিক্ষা করা মহাপাপ’। কিন্তু আমি নিরুপায় হয়ে ভিক্ষা করতাম। স্বামীর সুখও সয়নি। ছেলেটাও পড়াশোনা না করে ঘুরে বেড়ায়। জীবনের তাগিদে বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করতাম। তবে গ্রামের ভাইয়েরা যেভাবে আমার পাশে এসে দাঁড়াল তাতে আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আল্লাহ আমার প্রতি সদয় হয়েছেন বলেই আমার কষ্ট লাঘব হল।

ভিক্ষা ছেড়ে গোলাপী এখন দোকানি

 চাটমোহর (পাবনা) প্রতিনিধি 
১৯ অক্টোবর ২০২০, ০৬:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মহেলা গ্রামের যুবসমাজ। নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে গুয়াখড়া রেলস্টেশনের পাশে রেলের জায়গার ওপর তৈরি করা একটি ঘরে ‘ভ্যারাইটিজ দোকান’ করে দিয়ে মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করল তারা। সোমবার সকালে গোলাপী খাতুনের দোকান উদ্বোধন করা হয়।
সোমবার সকালে গোলাপী খাতুনের দোকান উদ্বোধন করা হয়।

জন্মপ্রতিবন্ধী গোলাপী খাতুন (৩৫)। পাবনার চাটমোহর উপজেলার গুয়াখড়া রেলস্টেশনের পরিত্যক্ত একটি কোয়ার্টারে তার বাস। স্বামী সোবাহান হোসেন দীর্ঘদিন আগে ছেড়ে চলে গেছেন। ভিক্ষা করে একমাত্র সন্তান গোলাম মোস্তফাকে নিয়ে কোনোমতে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। হাঁটু ও দুই হাতের ওপর ভর দিয়ে ভিক্ষা করতে গিয়ে পায়ে দগদগে ঘা হয়ে গেছে এই নারীর।

তার এমন কষ্ট দেখে অবশেষে পাশে দাঁড়াল উপজেলার মহেলা গ্রামের যুবসমাজ। নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে গুয়াখড়া রেলস্টেশনের পাশে রেলের জায়গার ওপর তৈরি করা একটি ঘরে ‘ভ্যারাইটিজ দোকান’ করে দিয়ে মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করল তারা। সোমবার সকালে গোলাপী খাতুনের দোকান উদ্বোধন করা হয়। প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক গোলাপী খাতুনকে পুনর্বাসন করায় প্রশংসায় ভাসছে ওই এলাকার যুবসমাজ। 

সরেজমিন দেখা গেছে, কেউ কিনতে এসেছেন বিস্কুট-চকোলেট, কেউবা চা-চিনি। আবার কেউবা নানা ধরনের খাদ্যপণ্য। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নিজেরাই গোলাপী খাতুনের দোকান সাজিয়ে দিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। দোকান শুরুর প্রথম বেলাতেই গোলাপী খাতুন প্রায় ১ হাজার টাকা বিক্রি করেন। হঠাৎ করে এমন পরিবেশ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গোলাপী খাতুন। 

উদ্যোক্তাদের মধ্যে খাইরুল ইসলাম, রিপন রহমান, আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন যুবক জানান, ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি গোলাপী আপা হাঁটু ও হাতের ওপর ভর করে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিক্ষা করেন। জনপ্রতিনিধি বা বিত্তবানরা কেউ এগিয়ে আসেননি। তার কষ্ট দেখে আমরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেই তাকে (গোলাপী) পুনর্বাসন করার। সবার সহযোগিতায় আমরা একটি ছোট পরিসরে দোকান করে দিতে পেরেছি। আশা করছি আমাদের দেখাদেখি দেশের বিভিন্ন এলাকায় যুবসমাজ এভাবেই অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াবে।

আবেগাপ্লুত হয়ে গোলাপী খাতুন যুগান্তরকে বলেন, ইসলাম ধর্মে বলা হয়েছে ‘ভিক্ষা করা মহাপাপ’। কিন্তু আমি নিরুপায় হয়ে ভিক্ষা করতাম। স্বামীর সুখও সয়নি। ছেলেটাও পড়াশোনা না করে ঘুরে বেড়ায়। জীবনের তাগিদে বাধ্য হয়ে ভিক্ষা করতাম। তবে গ্রামের ভাইয়েরা যেভাবে আমার পাশে এসে দাঁড়াল তাতে আমি কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আল্লাহ আমার প্রতি সদয় হয়েছেন বলেই আমার কষ্ট লাঘব হল।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন