নোয়াখালীতে নিজ ঘরে দেয়া আগুনে মৃত ১, দগ্ধ ৪
jugantor
নোয়াখালীতে নিজ ঘরে দেয়া আগুনে মৃত ১, দগ্ধ ৪

  নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি  

১৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৩:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে নিজ ঘরে আগুন দেয়ায় মা-ছেলেসহ পাঁচজন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে আসমা বেগম (৩২) নামে একজনের মৃত্যু হয়। বাকি দগ্ধ চারজনের মধ্যে দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শামী হোসেন (১৯) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে রামহরিতালুক গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, অগ্নিদগ্ধ ইসমাইল হোসেন বাবুলের ছেলে কামাল উদ্দিনের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে সৎমা আসমা বেগমের বিরোধ ছিল।

দগ্ধরা হচ্ছেন- ওই গ্রামের ইসমাইল হোসেন বাবুলের ছেলে কামাল উদ্দিন (৩৫), রহুল আমিনের ছেলে মান্না (২২), আবদুস শহিদের ছেলে সুমন (৩০) ও সালেহপুর শিবপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে তারেক হোসেন (২২)। দগ্ধ আসমা বেগম ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান বলে তার বাবা আবুল কাশেম নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ইসমাইল হোসেন বাবুলের ঘরে আগুন জ্বলতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তারা ছুটে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ঘরের ভেতর আটকে পড়া আসমা বেগম ও কামাল উদ্দিনকে উদ্ধার করেন প্রতিবেশীরা। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে মান্না, সুমন ও তারেক আহত হন। আগুনে দগ্ধ পাঁচজনকে দ্রুত উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিদগ্ধ পাঁচজনের মধ্যে আসমার শরীরের প্রায় ৯০ ভাগ, কামালের ৩০ ভাগ ও তারেকের ১৫ ভাগ পুড়ে গেছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কামাল উদ্দিন বলেন, মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা আসমা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে আসমা ও তার বাবা তাকে ও তার দুই ভাইকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। তাদের ঠিকমতো ঘরে ঢুকতে দিত না, খাবার দিত না। ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে সকালে তিনি নিজ কক্ষটি অকটেন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে গিয়ে নিজে অগ্নিদগ্ধ হন। সকালে স্থানীয় খলিপারহাট বাজার থেকে একটি বোতলসহ অকটেনগুলো তিনি ক্রয় করে আনেন।

অগ্নিদগ্ধ আসমার বাবা আবুল কাশেম বলেন, তার মেয়ের সুখ সহ্য করতে না পেরে সৎ ছেলে কামাল আসমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ঘরে রেখে অকটেন দিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি আসমাকে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে সে মারা যায়।

সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া জানান, কামালের সঙ্গে তার সৎমা আসমার জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সকালে ওই জায়গা জমির দলিলগুলো পুড়িয়ে দেয়ার জন্য অকটেন ক্রয় করে আনে কামাল। পরে ঘরে এসে সেগুলোতে আগুন দিতে গিয়ে পুরো ঘরে আগুন লেগে কামালসহ বাকিরা দগ্ধ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এ ঘটনায় কামালের শ্যালক শামীমকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

নোয়াখালীতে নিজ ঘরে দেয়া আগুনে মৃত ১, দগ্ধ ৪

 নোয়াখালী ও কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি 
১৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নে নিজ ঘরে আগুন দেয়ায় মা-ছেলেসহ পাঁচজন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে আসমা বেগম (৩২) নামে একজনের মৃত্যু হয়। বাকি দগ্ধ চারজনের মধ্যে দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হয়েছে। 

এদিকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শামী হোসেন (১৯) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার সকাল ৯টার দিকে রামহরিতালুক গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা বলছেন, অগ্নিদগ্ধ ইসমাইল হোসেন বাবুলের ছেলে কামাল উদ্দিনের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে সৎমা আসমা বেগমের বিরোধ ছিল।

দগ্ধরা হচ্ছেন- ওই গ্রামের ইসমাইল হোসেন বাবুলের ছেলে কামাল উদ্দিন (৩৫), রহুল আমিনের ছেলে মান্না (২২), আবদুস শহিদের ছেলে সুমন (৩০) ও সালেহপুর শিবপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে তারেক হোসেন (২২)। দগ্ধ আসমা বেগম ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান বলে তার বাবা আবুল কাশেম নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ইসমাইল হোসেন বাবুলের ঘরে আগুন জ্বলতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। তারা ছুটে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ঘরের ভেতর আটকে পড়া আসমা বেগম ও কামাল উদ্দিনকে উদ্ধার করেন প্রতিবেশীরা। তাদের উদ্ধার করতে গিয়ে মান্না, সুমন ও তারেক আহত হন। আগুনে দগ্ধ পাঁচজনকে দ্রুত উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিদগ্ধ পাঁচজনের মধ্যে আসমার শরীরের প্রায় ৯০ ভাগ, কামালের ৩০ ভাগ ও তারেকের ১৫ ভাগ পুড়ে গেছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কামাল উদ্দিন বলেন, মায়ের মৃত্যুর পর তার বাবা আসমা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে আসমা ও তার বাবা তাকে ও তার দুই ভাইকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। তাদের ঠিকমতো ঘরে ঢুকতে দিত না, খাবার দিত না। ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে সকালে তিনি নিজ কক্ষটি অকটেন দিয়ে জ্বালিয়ে দিতে গিয়ে নিজে অগ্নিদগ্ধ হন। সকালে স্থানীয় খলিপারহাট বাজার থেকে একটি বোতলসহ অকটেনগুলো তিনি ক্রয় করে আনেন।

অগ্নিদগ্ধ আসমার বাবা আবুল কাশেম বলেন, তার মেয়ের সুখ সহ্য করতে না পেরে সৎ ছেলে কামাল আসমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাকে ঘরে রেখে অকটেন দিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি আসমাকে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে সে মারা যায়। 

সুধারাম মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া জানান, কামালের সঙ্গে তার সৎমা আসমার জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। সকালে ওই জায়গা জমির দলিলগুলো পুড়িয়ে দেয়ার জন্য অকটেন ক্রয় করে আনে কামাল। পরে ঘরে এসে সেগুলোতে আগুন দিতে গিয়ে পুরো ঘরে আগুন লেগে কামালসহ বাকিরা দগ্ধ হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

এ ঘটনায় কামালের শ্যালক শামীমকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন