‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে’
jugantor
‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে’

  পিরোজপুর প্রতিনিধি  

১৯ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪৫:৪২  |  অনলাইন সংস্করণ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে- বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে এ দেশের হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। রাম ও রহিমের রক্তে এ দেশের সবুজ প্রান্তর রঞ্জিত হয়েছিল। আজ যদি আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ তৈরি করতে না পারি তাহলে কেন সেদিন ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছিল।

সোমবার পিরোজপুরের জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সদর উপজেলার দুর্গা মন্দিরের সভাপতি-সম্পাদকের মাঝে ব্যক্তিগত তহবিলের অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আয়োজনে ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহযোগিতায় মঠ মন্দিরের অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমল চন্দ্র মণ্ডলের সভাপতিত্বে সভায় জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. হায়াতুল ইসলাম খান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের বরিশাল অঞ্চলের ট্রাস্টি সুরঞ্জিত দত্ত লিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাহান খান তালুকদার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক গৌতম চৌধুরী, জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী মনিকা মণ্ডল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল বসু বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহী কবি নজরুল হামদ, নাত ও শ্যামা সংগীত রচনা করেছেন। আজ পর্যন্ত কোন কবি তাকে অতিক্রম করতে পারেনি। স্বাধীন দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি বিশ্বসেরা সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। সেই সংবিধানে সব মানুষের সমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে মিশে বিএনপি এবং পরবর্তীতে জামায়াত-বিএনপি সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নানাভাবে হেনস্তা করে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কুখ্যাত শাহ আজিজ, আবদুল আলিম, সাকা চৌধুরী, মুজাহিদদের মন্ত্রী বানিয়ে শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জাতীয় পতাকা তাদের গাড়িতে তুলে দেয়া হয়। গোলাম আযমসহ রাজাকার-আলবদরদের অভয়ারণ্য হয় বাংলাদেশ।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার করেছেন, ৭১-এর খুনিদের দাম্ভিকতা চূর্ণ করে বাংলাদেশকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের করে এনেছেন। আমরা সবাই হিন্দু ও মুসলমান স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করি।

তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ ১ কোটি টাকা থেকে ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। মন্দিরভিত্তিক শিশুশিক্ষা ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চলছে সারা দেশব্যাপী। এ কার্যক্রমও শুরু করেছে শেখ হাসিনার সরকার। শেখ হাসিনা মনে করেন- এদেশ সবার, তাই তিনি সেইরূপ ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। দেশ ত্যাগের মানসিকতা পরিত্যাগ ও আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদযাপনের জন্য তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্য শেষে মন্ত্রী জেলার বিভিন্ন মঠ-মন্দির সংস্কারের জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার চেক মন্দির কমিটির হাতে তুলে দেন। এছাড়া নিজ তহবিলের অর্থও এ সময় তিনি পূজারীদের মাঝে বিতরণ করেন।

এর আগে মন্ত্রী পিরোজপুর টাউন ক্লাব মিলনায়তনে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে বেসরকারি সংস্থাসমূহের আয়োজনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

এ সময় তিনি বলেন, খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, খাদ্য বলতে শুধু ধান, চাল, আটা, ময়দা আর ভুট্টাকে বোঝায় না- বরং মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি এসবকেও বোঝায়।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে মৎস্য ও প্রাণিজাত খাদ্যের নিরবচ্ছিন্ন জোগানের মাধ্যমে সবার জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিম্পদ মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করছে।

তিনি বলেন, করোনা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেও ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৩৮৬.৯৫ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে এখন তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

তিনি উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষজনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- দেশের ১ ইঞ্চি জমিও পতিত থাকবে না। আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমিকে ক্ষুদামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, নিরক্ষরতামুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত করি। আমাদের সবার মনে রাখতে হবে- বিএনপি-জামায়াত সরকার সার চাওয়ার অপরাধে, সেচের জন্য বিদ্যুৎ চাওয়ার অপরাধে গুলি করে কৃষকদের হত্যা করেছে। আর আজ কৃষকের দোরগোড়ায় সারসহ সব কৃষি সরঞ্জাম ও কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে’

 পিরোজপুর প্রতিনিধি 
১৯ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টাকারীদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে- বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে এ দেশের হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রিস্টান কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। রাম ও রহিমের রক্তে এ দেশের সবুজ প্রান্তর রঞ্জিত হয়েছিল। আজ যদি আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ তৈরি করতে না পারি তাহলে কেন সেদিন ৩০ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছিল।

সোমবার পিরোজপুরের জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সদর উপজেলার দুর্গা মন্দিরের সভাপতি-সম্পাদকের মাঝে ব্যক্তিগত তহবিলের অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের আয়োজনে ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহযোগিতায় মঠ মন্দিরের অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বিমল চন্দ্র মণ্ডলের সভাপতিত্বে সভায় জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. হায়াতুল ইসলাম খান, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের বরিশাল অঞ্চলের ট্রাস্টি সুরঞ্জিত দত্ত লিটু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহজাহান খান তালুকদার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক গৌতম চৌধুরী, জেলা মহিলা পরিষদের সভানেত্রী মনিকা মণ্ডল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোপাল বসু বক্তব্য রাখেন।

মন্ত্রী বলেন, বিদ্রোহী কবি নজরুল হামদ, নাত ও শ্যামা সংগীত রচনা করেছেন। আজ পর্যন্ত কোন কবি তাকে অতিক্রম করতে পারেনি। স্বাধীন দেশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের একটি বিশ্বসেরা সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। সেই সংবিধানে সব মানুষের সমতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে মিশে বিএনপি এবং পরবর্তীতে জামায়াত-বিএনপি সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নানাভাবে হেনস্তা করে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী কুখ্যাত শাহ আজিজ, আবদুল আলিম, সাকা চৌধুরী, মুজাহিদদের মন্ত্রী বানিয়ে শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জাতীয় পতাকা তাদের গাড়িতে তুলে দেয়া হয়। গোলাম আযমসহ রাজাকার-আলবদরদের অভয়ারণ্য হয় বাংলাদেশ।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচার করেছেন, ৭১-এর খুনিদের দাম্ভিকতা চূর্ণ করে বাংলাদেশকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের করে এনেছেন। আমরা সবাই হিন্দু ও মুসলমান স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করি।

তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ ১ কোটি টাকা থেকে ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। মন্দিরভিত্তিক শিশুশিক্ষা ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চলছে সারা দেশব্যাপী। এ কার্যক্রমও শুরু করেছে শেখ হাসিনার সরকার। শেখ হাসিনা মনে করেন- এদেশ সবার, তাই তিনি সেইরূপ ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন। দেশ ত্যাগের মানসিকতা পরিত্যাগ ও আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব স্বাস্থ্যবিধি মেনে উদযাপনের জন্য তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্য শেষে মন্ত্রী জেলার বিভিন্ন মঠ-মন্দির সংস্কারের জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার চেক মন্দির কমিটির হাতে তুলে দেন। এছাড়া নিজ তহবিলের অর্থও এ সময় তিনি পূজারীদের মাঝে বিতরণ করেন।

এর আগে মন্ত্রী পিরোজপুর টাউন ক্লাব মিলনায়তনে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে বেসরকারি সংস্থাসমূহের আয়োজনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

এ সময় তিনি বলেন, খাদ্য অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, খাদ্য বলতে শুধু ধান, চাল, আটা, ময়দা আর ভুট্টাকে বোঝায় না- বরং মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি এসবকেও বোঝায়।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে মৎস্য ও প্রাণিজাত খাদ্যের নিরবচ্ছিন্ন জোগানের মাধ্যমে সবার জন্য নিরাপদ, পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিম্পদ মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করছে।

তিনি বলেন, করোনা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝেও ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে ৩৮৬.৯৫ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে এখন তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

তিনি উপস্থিত বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষজনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- দেশের ১ ইঞ্চি জমিও পতিত থাকবে না। আসুন আমরা সবাই মিলে আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমিকে ক্ষুদামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, নিরক্ষরতামুক্ত বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত করি। আমাদের সবার মনে রাখতে হবে- বিএনপি-জামায়াত সরকার সার চাওয়ার অপরাধে, সেচের জন্য বিদ্যুৎ চাওয়ার অপরাধে গুলি করে কৃষকদের হত্যা করেছে। আর আজ কৃষকের দোরগোড়ায় সারসহ সব কৃষি সরঞ্জাম ও কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন