দাগনভূঞায় যুবলীগ সভাপতিকে পিটিয়ে জখম করল কর্মীরা
jugantor
দাগনভূঞায় যুবলীগ সভাপতিকে পিটিয়ে জখম করল কর্মীরা

  দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি  

২০ অক্টোবর ২০২০, ১৮:০৬:৪৪  |  অনলাইন সংস্করণ

দাগনভূঞায় সন্ত্রাসী হামলায় সিন্দুরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও জেলা যুবলীগের শ্রম ও কর্মসংস্থান সেক্রেটারি আজাদুল ইসলাম আজাদের (৩৬) ওপর হামলা করেছে নিজ দলের কর্মীরা।

সোমবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় চুন্দারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে দোকানের সামনে নিজদলীয় কর্মীরা তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

আজাদুল ইসলাম আজাদকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার পরিবার জানায়, আজাদুল ইসলাম আজাদের অবস্থা আশংকাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন বিকালে স্থানীয় চুন্দারপুর গ্রামে একটি ইট চুরির ঘটনায় দলীয় লোকদের আহ্বানে সালিশে যায় আজাদ। সালিশ থেকে ফিরে চুন্দারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সন্নিকটে চায়ের দোকানে ওই এলাকার স্বপনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ওই সময় নিজদলীয় ও অঙ্গসংগঠনের কতিপয় কর্মীরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে যুবলীগ নেতা আজাদ ও স্বপনকে রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

ওইদিন রাতে আজাদের ঘনিষ্ঠরা স্থানীয় দরবেশের হাটে সন্ত্রাসী হামলার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

আহত আজাদের বন্ধু স্বপন বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি আছে। আজাদ উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিন মন্তুর ছেলে।

আহতের চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন ও সিন্দুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক জানান, যুবলীগ নেতা আজাদ স্থানীয় চুন্দারপুর গ্রামের একটি চায়ের দোকানে যুবলীগকর্মী স্বপনসহ কথা বলছিল। ওইসময় পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের তার বিরোধী একটি গ্রুপ সাইফ উদ্দিন লিটু, মাওলা, ফারুক ও ছদর বাহিনী আজাদের পর অতর্কিত হামলা চালায়।

জেলা যুবলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান যুগান্তরকে জানান, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আজাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে ধর্ষণ, মাদক ব্যবসায়ীসহ বহু মামলার আসামি সন্ত্রাসী লিটু বাহিনী। যুবলীগ নেতা আজাদ স্থানীয় সন্ত্রাসী লিটু বাহিনীর বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। লিটু উপজেলা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি জয়নাল আবদিন মামুনের সহোদর।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবদিন মামুন যুগান্তরকে জানান, যুবলীগ নেতা আজাদের ওপর হামলায় আমার ভাই লিটুর কোনো সম্পর্ক নেই। আজাদ সিন্দুরপুর ইউনিয়নের আর আমার বাড়ি রাজাপুর ইউনিয়নে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশত: আমার সুনাম নষ্টের জন্য এ অপবাদ দেয়া হয়েছে।

তবে আজাদের ওপর হামলায় প্রকৃত ঘটনা রহস্য উন্মোচন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি করেন তিনি। একইসঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল ফোরকান বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন যুবলীগ নেতা আজাদের ওপর হামলার নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানান। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

আজাদের ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি নূর নবী বলেন, প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।

স্থানীয় কোরেশমুন্সী পুলিশ ফাঁড়ি থানার ইনচার্জ মোজাম্মেল হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ ফেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দাগনভূঞা থানার ওসি মো. আসলাম সিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দাগনভূঞায় যুবলীগ সভাপতিকে পিটিয়ে জখম করল কর্মীরা

 দাগনভূঞা (ফেনী) প্রতিনিধি 
২০ অক্টোবর ২০২০, ০৬:০৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

দাগনভূঞায় সন্ত্রাসী হামলায় সিন্দুরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও জেলা যুবলীগের শ্রম ও কর্মসংস্থান সেক্রেটারি আজাদুল ইসলাম আজাদের (৩৬) ওপর হামলা করেছে নিজ দলের কর্মীরা।

সোমবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় চুন্দারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে দোকানের সামনে নিজদলীয় কর্মীরা তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

আজাদুল ইসলাম আজাদকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার পরিবার জানায়, আজাদুল ইসলাম আজাদের অবস্থা আশংকাজনক।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওইদিন বিকালে স্থানীয় চুন্দারপুর গ্রামে একটি ইট চুরির ঘটনায় দলীয় লোকদের আহ্বানে সালিশে যায় আজাদ। সালিশ থেকে ফিরে চুন্দারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সন্নিকটে চায়ের দোকানে ওই এলাকার স্বপনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। ওই সময় নিজদলীয় ও অঙ্গসংগঠনের কতিপয় কর্মীরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে যুবলীগ নেতা আজাদ ও স্বপনকে রড দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।

ওইদিন রাতে আজাদের ঘনিষ্ঠরা স্থানীয় দরবেশের হাটে সন্ত্রাসী হামলার বিচার চেয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

আহত আজাদের বন্ধু স্বপন বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি আছে। আজাদ উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের কোরবানপুর গ্রামের মমতাজ উদ্দিন মন্তুর ছেলে।

আহতের চাচাতো ভাই শাহাদাত হোসেন ও সিন্দুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক জানান, যুবলীগ নেতা আজাদ স্থানীয় চুন্দারপুর গ্রামের একটি চায়ের দোকানে যুবলীগকর্মী স্বপনসহ কথা বলছিল। ওইসময় পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের তার বিরোধী একটি গ্রুপ সাইফ উদ্দিন লিটু, মাওলা, ফারুক ও ছদর বাহিনী আজাদের পর অতর্কিত হামলা চালায়।

জেলা যুবলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান যুগান্তরকে জানান, ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি আজাদকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালিয়েছে ধর্ষণ, মাদক ব্যবসায়ীসহ বহু মামলার আসামি সন্ত্রাসী লিটু বাহিনী। যুবলীগ নেতা আজাদ স্থানীয় সন্ত্রাসী লিটু বাহিনীর বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে। লিটু উপজেলা আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি জয়নাল আবদিন মামুনের সহোদর।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জয়নাল আবদিন মামুন যুগান্তরকে জানান, যুবলীগ নেতা আজাদের ওপর হামলায় আমার ভাই লিটুর কোনো সম্পর্ক নেই। আজাদ সিন্দুরপুর ইউনিয়নের আর আমার বাড়ি রাজাপুর ইউনিয়নে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বশত: আমার সুনাম নষ্টের জন্য এ অপবাদ দেয়া হয়েছে।

তবে আজাদের ওপর হামলায় প্রকৃত ঘটনা রহস্য উন্মোচন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি করেন তিনি। একইসঙ্গে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবুল ফোরকান বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন যুবলীগ নেতা আজাদের ওপর হামলার নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানান। অবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তারা।

আজাদের ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি নূর নবী বলেন, প্রকৃত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।

স্থানীয় কোরেশমুন্সী পুলিশ ফাঁড়ি থানার ইনচার্জ মোজাম্মেল হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ ফেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দাগনভূঞা থানার ওসি মো. আসলাম সিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন