অন্য এলাকা থেকে তুলে এনে মাদক মামলায় ‍যুবককে ‘ফাঁসালেন’ এসআই
jugantor
অন্য এলাকা থেকে তুলে এনে মাদক মামলায় ‍যুবককে ‘ফাঁসালেন’ এসআই

  রাজশাহী ব্যুরো  

২০ অক্টোবর ২০২০, ২০:২৪:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

এসআই

রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশের এক এসআই নিজের থানা এলাকার বাইরে থেকে এক যুবককে তুলে এনে অর্থের জন্য মাদকের মামলা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই যুবকের কাছে তিন প্যাকেটে তিনশ গ্রাম হেরোইন পাওয়া গেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বোয়ালিয়া থানার এসআই আবদুল মতিন এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

সম্প্রতি এসআই মতিন বিদেশ ফেরত দুই ব্যক্তির কাছ থেকে সোনার বার উদ্ধার করেন। মামলায় দুটি বার উদ্ধার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে সোনার বার ছিল চারটি। সোনা কেলেঙ্কারির এই ঘটনার রেশ না কাটতেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন এসআই মতিন।

হেরোইনসহ যে যুবককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তার নাম ইসমাইল হোসেন (২৫)। ইসমাইল গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মো. মন্টুর ছেলে। ইসমাইল নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন।

এসআই মতিন বাদী হয়ে মঙ্গলবার ইসমাইলের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে যে মামলা করেছেন তার এজাহারে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে রাজশাহী নগরীর রেলগেট এলাকা থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ ইসমাইলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ইসমাইলকে মঙ্গলবার দুপুরেই আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কারাগারে পাঠিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসআই মতিন এবং ফারুক নামের এক সাবেক পুলিশ কনস্টেবল (বাধ্যতামূলক অবসরে) নির্মাণ শ্রমিক ইসমাইলকে ফাঁসিয়েছেন। বহুল আলোচিত এই ফারুক রাজশাহীতে ‘ডিবি ফারুক’ নামে পরিচিত।

রাজশাহী জেলা ডিবিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় মাদক ব্যবসা, সেবন, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, সাধারণ মানুষকে মাদক মামলায় ফাঁসানোসহ নানা কেলেঙ্কারির কারণে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার সকালে মাটিকাটা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে ইসমাইলকে মাটিকাটা উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে তুলে আনেন এসআই মতিন ও সাবেক কনস্টেবল ফারুক হোসেন সরকার।

মাটিকাটা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেনের (৩০) মাধ্যমে ইসমাইলকে বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়। আলমগীর একজন মাদক কারবারি। ইসমাইলকে বাড়ি থেকে ডেকে আনার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন অনেকেই। আর ইসমাইলকে বাড়ি থেকে ডেকে আনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন আলমগীর হোসেন নিজেই। আলমগীরের সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ড যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত আছে।

আলমগীর বলেন, মাদক মামলায় তার এক ভাই বর্তমানে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সোমবার তিনি তার ভাইকে কারাগারে টাকা দিতে যান। তার সঙ্গে সাবেক পুলিশ কনস্টেবল ফারুকের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। সন্ধ্যায় ফারুক রাজশাহী নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।

ফারুক তাকে বলেন, প্রতিবেশী ইসমাইলকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। এই কাজটা করে না দিলে আলমগীরের সমস্যা হবে বলে তাকে হুমকি দেয়া হয়। ভয়ে তিনি ফারুকের কথায় রাজি হন।

আলমগীর আরও বলেন, রাতে বোয়ালিয়া থানার এসআই মতিন ও ফারুক মাইক্রোবাস নিয়ে তাদের গ্রামে যান। কথামতো তিনি তখন ইসমাইলকে তার বাড়ি থেকে ডেকে মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনেন। এ সময় ফারুক ও মতিন তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। ওই সময় ইসমাইলের কাছে কোনো হেরোইন দেখেননি বলেও স্বীকার করেন আলমগীর হোসেন।

মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই খাইরুল বাসার নামের এক ব্যক্তির মুদি দোকান। খাইরুল বলেন, রাত পৌনে ১২টার দিকে তার দোকান থেকে কিছুটা দূরে সালাম মল্লিকের বাড়ির সামনে তিনি একটি মাইক্রোবাস এসে থামতে দেখেন।

কিছুক্ষণ পর দোকানের সামনে দিয়ে ইসমাইলকে হেঁটে যেতে দেখেন। ইসমাইল কোথায় যাচ্ছেন তা তিনি জানতে চান। ইসমাইল তাকে জানান তিনি স্কুল মাঠে যাচ্ছেন।

এরপর তিনি দেখেন মাইক্রোবাসটা স্কুল মাঠে গেল এবং এতে ইসমাইলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। সকালে শুনছেন ইসমাইলকে রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানায় নিয়ে ৩০০ গ্রাম হেরোইনের মামলা দেয়া হয়েছে।

এভাবে তুলে নিয়ে মামলা দেয়ায় খাইরুল বাসার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খাইরুল যখন এসব কথা বলছিলেন তখন তার পাশে গ্রামের বিভিন্ন বয়সী আরও অন্তত ১৫-২০ জন ব্যক্তি জড়ো হন।

তারা বলেন, ইসমাইলকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে ফাঁসিয়েছে। তারাও তাকে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন।

গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, ইসমাইল ভালো ছেলে। কেন তাকে এভাবে ফাঁসানো হলো তা তারা বুঝতে পারছেন না। তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

এদিকে ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাকে আটকের পর তার জামিনের জন্য তাদের কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার ওসি খাইরুল ইসলাম বলেন, নিজের থানা এলাকার বাইরে গিয়ে অভিযান চালাতে হলে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করতে হবে। কিন্তু বোয়ালিয়া থানা পুলিশ তাকে এ ধরনের কোনো বিষয় জানায়নি। কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না তাও তিনি জানেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মতিন দাবি করেন, গোদাগাড়ী থানা এলাকা থেকে ইসমাইলকে তুলে আনার বিষয়টি ঠিক নয়। মঙ্গলবার সকালে ইসমাইলকে বোয়ালিয়া থানার রেলগেট এলাকাতেই আটক করা হয়। তার কাছে ৩০০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। আলমগীরের বক্তব্য সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, তিনি জানেন যে ইসমাইলকে রেলগেট থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয়েছে। এর বাইরে অন্য কিছু ঘটেছে কি না তা তিনি জানেন না।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, হেরোইনসহ গ্রেফতারের ঘটনায় থানায় একটা মামলা হয়েছে। সেটি তদন্তাধীন। এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে পারবেন না।

তবে ইসমাইলকে আটকের বিষয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তারা সেটি লিখিতভাবে আরএমপির পুলিশ কমিশনারকে দিতে পারবেন। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্য এলাকা থেকে তুলে এনে মাদক মামলায় ‍যুবককে ‘ফাঁসালেন’ এসআই

 রাজশাহী ব্যুরো 
২০ অক্টোবর ২০২০, ০৮:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
এসআই
এসআই আবদুল মতিন। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশের এক এসআই নিজের থানা এলাকার বাইরে থেকে এক যুবককে তুলে এনে অর্থের জন্য মাদকের মামলা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওই যুবকের কাছে তিন প্যাকেটে তিনশ গ্রাম হেরোইন পাওয়া গেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। বোয়ালিয়া থানার এসআই আবদুল মতিন এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

সম্প্রতি এসআই মতিন বিদেশ ফেরত দুই ব্যক্তির কাছ থেকে সোনার বার উদ্ধার করেন। মামলায় দুটি বার উদ্ধার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে সোনার বার ছিল চারটি। সোনা কেলেঙ্কারির এই ঘটনার রেশ না কাটতেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন এসআই মতিন।

হেরোইনসহ যে যুবককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে তার নাম ইসমাইল হোসেন (২৫)। ইসমাইল গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মো. মন্টুর ছেলে। ইসমাইল নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন।

এসআই মতিন বাদী হয়ে মঙ্গলবার ইসমাইলের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে যে মামলা করেছেন তার এজাহারে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে রাজশাহী নগরীর রেলগেট এলাকা থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ ইসমাইলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ ইসমাইলকে মঙ্গলবার দুপুরেই আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী কারাগারে পাঠিয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসআই মতিন এবং ফারুক নামের এক সাবেক পুলিশ কনস্টেবল (বাধ্যতামূলক অবসরে) নির্মাণ শ্রমিক ইসমাইলকে ফাঁসিয়েছেন। বহুল আলোচিত এই ফারুক রাজশাহীতে ‘ডিবি ফারুক’ নামে পরিচিত।

রাজশাহী জেলা ডিবিতে কর্মরত থাকা অবস্থায় মাদক ব্যবসা, সেবন, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, সাধারণ মানুষকে মাদক মামলায় ফাঁসানোসহ নানা কেলেঙ্কারির কারণে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার সকালে মাটিকাটা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে ইসমাইলকে মাটিকাটা উচ্চবিদ্যালয় মাঠ থেকে তুলে আনেন এসআই মতিন ও সাবেক কনস্টেবল ফারুক হোসেন সরকার।

মাটিকাটা গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেনের (৩০) মাধ্যমে ইসমাইলকে বাড়ি থেকে ডেকে আনা হয়। আলমগীর একজন মাদক কারবারি। ইসমাইলকে বাড়ি থেকে ডেকে আনার প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন অনেকেই। আর ইসমাইলকে বাড়ি থেকে ডেকে আনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন আলমগীর হোসেন নিজেই। আলমগীরের সঙ্গে কথোপকথনের রেকর্ড যুগান্তরের কাছে সংরক্ষিত আছে।

আলমগীর বলেন, মাদক মামলায় তার এক ভাই বর্তমানে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। সোমবার তিনি তার ভাইকে কারাগারে টাকা দিতে যান। তার সঙ্গে সাবেক পুলিশ কনস্টেবল ফারুকের আগে থেকেই পরিচয় ছিল। সন্ধ্যায় ফারুক রাজশাহী নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে তার সঙ্গে দেখা করেন।

ফারুক তাকে বলেন, প্রতিবেশী ইসমাইলকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। এই কাজটা করে না দিলে আলমগীরের সমস্যা হবে বলে তাকে হুমকি দেয়া হয়। ভয়ে তিনি ফারুকের কথায় রাজি হন।

আলমগীর আরও বলেন, রাতে বোয়ালিয়া থানার এসআই মতিন ও ফারুক মাইক্রোবাস নিয়ে তাদের গ্রামে যান। কথামতো তিনি তখন ইসমাইলকে তার বাড়ি থেকে ডেকে মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনেন। এ সময় ফারুক ও মতিন তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। ওই সময় ইসমাইলের কাছে কোনো হেরোইন দেখেননি বলেও স্বীকার করেন আলমগীর হোসেন।

মাটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশেই খাইরুল বাসার নামের এক ব্যক্তির মুদি দোকান। খাইরুল বলেন, রাত পৌনে ১২টার দিকে তার দোকান থেকে কিছুটা দূরে সালাম মল্লিকের বাড়ির সামনে তিনি একটি মাইক্রোবাস এসে থামতে দেখেন।

কিছুক্ষণ পর দোকানের সামনে দিয়ে ইসমাইলকে হেঁটে যেতে দেখেন। ইসমাইল কোথায় যাচ্ছেন তা তিনি জানতে চান। ইসমাইল তাকে জানান তিনি স্কুল মাঠে যাচ্ছেন।

এরপর তিনি দেখেন মাইক্রোবাসটা স্কুল মাঠে গেল এবং এতে ইসমাইলকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো। সকালে শুনছেন ইসমাইলকে রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানায় নিয়ে ৩০০ গ্রাম হেরোইনের মামলা দেয়া হয়েছে।

এভাবে তুলে নিয়ে মামলা দেয়ায় খাইরুল বাসার ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খাইরুল যখন এসব কথা বলছিলেন তখন তার পাশে গ্রামের বিভিন্ন বয়সী আরও অন্তত ১৫-২০ জন ব্যক্তি জড়ো হন।

তারা বলেন, ইসমাইলকে পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়ে ফাঁসিয়েছে। তারাও তাকে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন।

গ্রামবাসীর ভাষ্যমতে, ইসমাইল ভালো ছেলে। কেন তাকে এভাবে ফাঁসানো হলো তা তারা বুঝতে পারছেন না। তারা ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

এদিকে ইসমাইলের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাকে আটকের পর তার জামিনের জন্য তাদের কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে গোদাগাড়ী থানার ওসি খাইরুল ইসলাম বলেন, নিজের থানা এলাকার বাইরে গিয়ে অভিযান চালাতে হলে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করতে হবে। কিন্তু বোয়ালিয়া থানা পুলিশ তাকে এ ধরনের কোনো বিষয় জানায়নি। কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে কি না তাও তিনি জানেন না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই মতিন দাবি করেন, গোদাগাড়ী থানা এলাকা থেকে ইসমাইলকে তুলে আনার বিষয়টি ঠিক নয়। মঙ্গলবার সকালে ইসমাইলকে বোয়ালিয়া থানার রেলগেট এলাকাতেই আটক করা হয়। তার কাছে ৩০০ গ্রাম হেরোইন পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। আলমগীরের বক্তব্য সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ব্যাপারে বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন বলেন, তিনি জানেন যে ইসমাইলকে রেলগেট থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করা হয়েছে। এর বাইরে অন্য কিছু ঘটেছে কি না তা তিনি জানেন না।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, হেরোইনসহ গ্রেফতারের ঘটনায় থানায় একটা মামলা হয়েছে। সেটি তদন্তাধীন। এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে পারবেন না।

তবে ইসমাইলকে আটকের বিষয়ে কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তারা সেটি লিখিতভাবে আরএমপির পুলিশ কমিশনারকে দিতে পারবেন। এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন