বড় ভাইসহ পরিবারের চারজনকে একাই হত্যা করে রায়হানুল
jugantor
বড় ভাইসহ পরিবারের চারজনকে একাই হত্যা করে রায়হানুল

  সাতক্ষীরা ও কলারোয়া প্রতিনিধি  

২১ অক্টোবর ২০২০, ২০:৫৭:০৮  |  অনলাইন সংস্করণ

এনার্জি ড্রিংকসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভাই ও ভাবিসহ তাদের দুই শিশুকে হত্যা করে রায়হানুল।

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারে সংঘটিত চার খুন ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে দাবি করে সিআইডি কর্মকর্তারা এ তথ্য তুলে ধরেন।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সাতক্ষীরার সিআইডির জেলা অফিসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির খুলনার অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

ডিআইজি বলেন, ভাবি সাবিনা খাতুন এবং তাদের দুই শিশু সন্তান মাহি ও তাসনিম সুলতানাকে একাই ধারালো চাপাতি দিয়ে জবাই করে রায়হানুল। এর আগে সে বাজার থেকে ঘুমের ওষুধ ও এনার্জি ড্রিংক কিনে আনে। ১৪ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে সে তার দুই ভাতিজা-ভাতিজি এবং ভাবিকে ওষুধ মেশানো ওই ড্রিংকস খাওয়ায়। পরে রাত দেড়টার দিকে তার ভাই শাহিনুর মাছের ঘের থেকে বাড়ি এলে তাকেও ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিংকস খাওয়ায়।

রায়হানুলের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে তিনি জানান, সে নিজে ঘরের ছাদের কার্নিশ বেয়ে উপরে উঠে খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে। প্রথমে তার ভাই শাহিনুরকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে হাতের রগ কেটে পায়ে রশি বেঁধে দেয়। এরপরই সে পাশের কক্ষে ভাবি সাবিনাকে গলা কেটে হত্যা করে।

তার চিৎকারে শিশুরা জেগে গেলে সে তাদেরও একইভাবে জবাই করে। সে সিআইডিকে জানিয়েছে, তার ওপর শয়তান ভর করেছিল। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও শিশু দুটিকে হত্যা করে।

খালি গায়ে হত্যার পর সে রক্তমাখা তোয়ালে ও চাপাতি মাছের ঘেরে ফেলে দেয়। পরে ঘের থেকে তার দেখানো মতে তা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ডিআইজি।

কেন সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে- তার জবাবে রায়হানুলের বরাতে সিআইডি অফিসার জানান, রায়হানুল বর্তমানে বেকার; ৯-১০ মাস আগে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। সেই থেকে সে ভাইয়ের সংসারে খাওয়া-দাওয়া করত। নিজে কোনো কাজ করে না, খরচও দেয় না; এসব কারণে প্রায়ই ভাই-ভাবির সঙ্গে তার ঝগড়া হতো। তারা তাকে গালাগাল দিত।

রায়হানুলের জবানবন্দির বরাতে তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভাবির সঙ্গে তার একই বিষয়ে বাদানুবাদ হয়। ভাবি তাকে বকাবকি করেন। পরে সে ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিংকস খাওয়ায় ভাবি ও তার দুই সন্তানকে। এতে তারা ঘুমিয়ে পড়ে।

রায়হানুল আরও জানিয়েছে, রাত দেড়টার দিকে সে ঘরে বসে টিভি দেখছিল। এ সময় তার ভাই শাহিনুর ঘের থেকে এসে তাকে বকাবকি করে বলেন- এত টিভি দেখিস, বিদ্যুতের বিল দেবে কে?

এ নিয়ে তাকে খানিকটা বকেনও শাহিনুর। রায়হানুল তাকে জানায়, তুমি মাথা ঠাণ্ড কর, এবারের বিদ্যুৎ বিল আমি দিয়ে দেব। এই বলে সে তাকেও ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিংকস খাওয়ায়। পরে শাহিনুরও ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় সে একে একে তাদের খুন করে।

সিআইডি কর্মকর্তা ১০ মিনিটেরও বেশি সময়ের এই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, হত্যার সময় রায়হানুলের সঙ্গে আর কেউ ছিল না। শুধু ভাই-ভাবির বকাবকির কারণেই সে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে সিআইডিকে। সিআইডি পুকুর থেকে ধারালো চাপাতি এবং তোয়ালে উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে।

রিমান্ডে থাকা রায়হানুলকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমানসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে কলারোয়ার খলিসা গ্রামে একই পরিবারে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সেদিনই পুলিশ ঘাতক ভাই রায়হানুলকে গ্রেফতার করে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। হত্যার একদিন বাদেই মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি শাহীনুরের ভাই রায়হানুলকে গ্রেফতার করে। পরে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

বড় ভাইসহ পরিবারের চারজনকে একাই হত্যা করে রায়হানুল

 সাতক্ষীরা ও কলারোয়া প্রতিনিধি 
২১ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৫৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

এনার্জি ড্রিংকসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভাই ও ভাবিসহ তাদের দুই শিশুকে হত্যা করে রায়হানুল।

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারে সংঘটিত চার খুন ঘটনার রহস্য উদঘাটিত হয়েছে দাবি করে সিআইডি কর্মকর্তারা এ তথ্য তুলে ধরেন।

বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সাতক্ষীরার সিআইডির জেলা অফিসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিআইডির খুলনার অতিরিক্ত ডিআইজি ওমর ফারুক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান। 

ডিআইজি বলেন, ভাবি সাবিনা খাতুন এবং তাদের দুই শিশু সন্তান মাহি ও তাসনিম সুলতানাকে একাই ধারালো চাপাতি দিয়ে জবাই করে রায়হানুল। এর আগে সে বাজার থেকে ঘুমের ওষুধ ও এনার্জি ড্রিংক কিনে আনে। ১৪ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে সে তার দুই ভাতিজা-ভাতিজি এবং ভাবিকে ওষুধ মেশানো ওই ড্রিংকস খাওয়ায়। পরে রাত দেড়টার দিকে তার ভাই শাহিনুর মাছের ঘের থেকে বাড়ি এলে তাকেও ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিংকস খাওয়ায়। 

রায়হানুলের স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে তিনি জানান, সে নিজে ঘরের ছাদের কার্নিশ বেয়ে উপরে উঠে খোলা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকে। প্রথমে তার ভাই শাহিনুরকে ঘুমন্ত অবস্থায় হত্যা করে হাতের রগ কেটে পায়ে রশি বেঁধে দেয়। এরপরই সে পাশের কক্ষে ভাবি সাবিনাকে গলা কেটে হত্যা করে।

তার চিৎকারে শিশুরা জেগে গেলে সে তাদেরও একইভাবে জবাই করে। সে সিআইডিকে জানিয়েছে, তার ওপর শয়তান ভর করেছিল। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও শিশু দুটিকে হত্যা করে।

খালি গায়ে হত্যার পর সে রক্তমাখা তোয়ালে ও চাপাতি মাছের ঘেরে ফেলে দেয়। পরে ঘের থেকে তার দেখানো মতে তা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ডিআইজি।

কেন সে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে- তার জবাবে রায়হানুলের বরাতে সিআইডি অফিসার জানান, রায়হানুল বর্তমানে বেকার; ৯-১০ মাস আগে স্ত্রী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। সেই থেকে সে ভাইয়ের সংসারে খাওয়া-দাওয়া করত। নিজে কোনো কাজ করে না, খরচও দেয় না; এসব কারণে প্রায়ই ভাই-ভাবির সঙ্গে তার ঝগড়া হতো। তারা তাকে গালাগাল দিত।

রায়হানুলের জবানবন্দির বরাতে তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ভাবির সঙ্গে তার একই বিষয়ে বাদানুবাদ হয়। ভাবি তাকে বকাবকি করেন। পরে সে ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিংকস খাওয়ায় ভাবি ও তার দুই সন্তানকে। এতে তারা ঘুমিয়ে পড়ে।

রায়হানুল আরও জানিয়েছে, রাত দেড়টার দিকে সে ঘরে বসে টিভি দেখছিল। এ সময় তার ভাই শাহিনুর ঘের থেকে এসে তাকে বকাবকি করে বলেন- এত টিভি দেখিস, বিদ্যুতের বিল দেবে কে?

এ নিয়ে তাকে খানিকটা বকেনও শাহিনুর। রায়হানুল তাকে জানায়, তুমি মাথা ঠাণ্ড কর, এবারের বিদ্যুৎ বিল আমি দিয়ে দেব। এই বলে সে তাকেও ঘুমের ওষুধ মেশানো এনার্জি ড্রিংকস খাওয়ায়। পরে শাহিনুরও ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় সে একে একে তাদের খুন করে।

সিআইডি কর্মকর্তা ১০ মিনিটেরও বেশি সময়ের এই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, হত্যার সময় রায়হানুলের সঙ্গে আর কেউ ছিল না। শুধু ভাই-ভাবির বকাবকির কারণেই সে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে সিআইডিকে। সিআইডি পুকুর থেকে ধারালো চাপাতি এবং তোয়ালে উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে।

রিমান্ডে থাকা রায়হানুলকে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়ার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। 

প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমানসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে কলারোয়ার খলিসা গ্রামে একই পরিবারে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। সেদিনই পুলিশ ঘাতক ভাই রায়হানুলকে গ্রেফতার করে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। হত্যার একদিন বাদেই মামলাটি সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি শাহীনুরের ভাই রায়হানুলকে গ্রেফতার করে। পরে আরও ৩ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন