খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি
jugantor
খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি

  আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী)  

২১ অক্টোবর ২০২০, ২২:৪১:৫৮  |  অনলাইন সংস্করণ

গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ। গ্রামীণ জীবনের প্রাত্যহিক উৎসব শুরু হতে যাচ্ছে খেজুর গাছকে ঘিরে। শীত এগিয়ে আসছে। অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠা খেজুর গাছের কদরও বাড়ে শীত এলেই।

খেজুর গাছ সুমিষ্ট রস দেয়। রস থেকে তৈরি হয় গুড় ও পাটালি। যার স্বাদ ও ঘ্রাণ আলাদা। পুরো শীত মৌসুমে চলে পিঠা-পুলি আর পায়েস খাওয়ার পালা। আর হেমন্তের শুরুতেই রাজশাহীর বাঘায় শুরু হয়েছে আগাম মিষ্টি খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি।

বাঘা উপজেলা কৃষি অফিস ও বিশেষ তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হাজার কৃষি পরিবার রয়েছে। দুই হাজার খেজুরের বাগান রয়েছে। সড়ক পথ, রেললাইনের ধার, পতিত জমি, জমির আইল ও বাড়ির আঙিনায় রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক খেজুর গাছ।

একজন ব্যক্তি প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫টি খেজুর গাছের রস আহরণ করতে পারেন। এ রকম আড়াইহাজার ব্যক্তি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মৌসুমভিত্তিক আড়াইহাজার পরিবার খেজুর গাছের ওপর নির্ভরশীল। একজন গাছি এক মৌসুমে অর্থাৎ ১২০ দিনে একটি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি গুড় পেয়ে থাকেন। খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। এ গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচ করতে হয় না। ঝোপ-জঙ্গলে কোন যত্ন ছাড়াই বড় গয়ে ওঠে।

শুধু মৌসুম এলেই নিয়মিত গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহ করা হয়। রস, গুড়, পাটালি ছাড়াও খেজুর গাছের পাতা মাদুর তৈরি ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।

পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ বৃদ্ধি করা হলে দেশের গুড় পাটালির চাহিদা মেটানোর পর বিদেশেও রফতানি করা হলে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ রয়েছে।

বাঘার পদ্মার চকরাজাপুর চরের গাছি আবুল হোসেন জানান, চর এলাকায় কোনো খেজুর গাছ নেই। শীত মৌসুমে আমরা আড়ানী, বাঘা, মনিগ্রাম, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া, বাউসা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এসে তিন থেকে চার মাসের জন্য খেজুর গাছ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় চুক্তি নিয়ে রস সংগ্রহ করি। এগুলো গুড় তৈরি করে হাট-বাজারে বিক্রি করি।

তিনি বলেন, এবার ১২০টি গাছ চুক্তি নিয়েছি। এ গাছগুলো থেকে আমরা দুইজনে রস সংগ্রহ করব। সংসারে ছয় সদস্যের পরিবার। এর ওপর তিন থেকে চার মাস ভালোভাবে চলবে। অন্য সময়ে মানুষের জমিতে কাজ করি। কাজ না থাকলে শহরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই।

আড়ানী হামিদকুড়া গ্রামের গৃহকর্ত্রী কাজলী বেওয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমার চার কন্যা ও দুই ছেলে। সবাইকে বিয়ে দিয়েছি। শীত এলেই জামাই-কন্যা, নাতি-নাতনি, ছেলেদের শ্বশুর-শাশুড়ি ও আত্মীয়দের নিয়ে দুই-একবার উৎসবের আয়োজন করি। এ প্রথাটা আমার শ্বশুর-শাশুড়ির আমল থেকে চলে আসছে। তাই আমিও করি। নিজের প্রায় ১৫ থেকে ২০টি খেজুর গাছ রয়েছে। এ গাছ থেকে নিজের বাড়িতে খাওয়া হয়। সংসারেও কিছু কাজে লাগে।

বাউসার গাছি সোহেল রানা জানান, আর কয়েক দিন বাদেই সংগ্রহ করা হবে খেজুর রস।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, শুধু সরকারিভাবেই না, আমরা কৃষকদের মাঝে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া আখের পাতা ও গমের কোড়া সংগ্রহ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি; যেন গুড় তৈরিতে সহজ হয়। এছাড়া এ মৌসুমে রাস্তার ধারে খেজুর গাছ রোপণ করা হয়েছে। কৃষকরা নিজ নিজ পতিত জমিতে গাছ লাগালে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে ব্যাপক অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি

 আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) 
২১ অক্টোবর ২০২০, ১০:৪১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

গৌরব আর ঐতিহ্যের প্রতীক মধুবৃক্ষ খেজুর গাছ। গ্রামীণ জীবনের প্রাত্যহিক উৎসব শুরু হতে যাচ্ছে খেজুর গাছকে ঘিরে। শীত এগিয়ে আসছে। অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠা খেজুর গাছের কদরও বাড়ে শীত এলেই।

খেজুর গাছ সুমিষ্ট রস দেয়। রস থেকে তৈরি হয় গুড় ও পাটালি। যার স্বাদ ও ঘ্রাণ আলাদা। পুরো শীত মৌসুমে চলে পিঠা-পুলি আর পায়েস খাওয়ার পালা। আর হেমন্তের শুরুতেই রাজশাহীর বাঘায় শুরু হয়েছে আগাম মিষ্টি খেজুর রস সংগ্রহের প্রস্তুতি।

বাঘা উপজেলা কৃষি অফিস ও বিশেষ তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে প্রায় ২৫ হাজার কৃষি পরিবার রয়েছে। দুই হাজার খেজুরের বাগান রয়েছে। সড়ক পথ, রেললাইনের ধার, পতিত জমি, জমির আইল ও বাড়ির আঙিনায় রয়েছে প্রায় দেড় লক্ষাধিক খেজুর গাছ।

একজন ব্যক্তি প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫৫টি খেজুর গাছের রস আহরণ করতে পারেন। এ রকম আড়াইহাজার ব্যক্তি প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

মৌসুমভিত্তিক আড়াইহাজার পরিবার খেজুর গাছের ওপর নির্ভরশীল। একজন গাছি এক মৌসুমে অর্থাৎ ১২০ দিনে একটি গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ কেজি গুড় পেয়ে থাকেন। খেজুর গাছ ফসলের কোনো ক্ষতি করে না। এ গাছের জন্য বাড়তি কোনো খরচ করতে হয় না। ঝোপ-জঙ্গলে কোন যত্ন ছাড়াই বড় গয়ে ওঠে।

শুধু মৌসুম এলেই নিয়মিত গাছ পরিষ্কার করে রস সংগ্রহ করা হয়। রস, গুড়, পাটালি ছাড়াও খেজুর গাছের পাতা মাদুর তৈরি ও জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।

পরিকল্পিতভাবে খেজুর গাছ বৃদ্ধি করা হলে দেশের গুড় পাটালির চাহিদা মেটানোর পর বিদেশেও রফতানি করা হলে অর্থ উপার্জন করার সুযোগ রয়েছে।

বাঘার পদ্মার চকরাজাপুর চরের গাছি আবুল হোসেন জানান, চর এলাকায় কোনো খেজুর গাছ নেই। শীত মৌসুমে আমরা আড়ানী, বাঘা, মনিগ্রাম, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া, বাউসা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এসে তিন থেকে চার মাসের জন্য খেজুর গাছ ৮০ থেকে ১০০ টাকায় চুক্তি নিয়ে রস সংগ্রহ করি। এগুলো গুড় তৈরি করে হাট-বাজারে বিক্রি করি।

তিনি বলেন, এবার ১২০টি গাছ চুক্তি নিয়েছি। এ গাছগুলো থেকে আমরা দুইজনে রস সংগ্রহ করব। সংসারে ছয় সদস্যের পরিবার। এর ওপর তিন থেকে চার মাস ভালোভাবে চলবে। অন্য সময়ে মানুষের জমিতে কাজ করি। কাজ না থাকলে শহরে রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই।

আড়ানী হামিদকুড়া গ্রামের গৃহকর্ত্রী কাজলী বেওয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আমার চার কন্যা ও দুই ছেলে। সবাইকে বিয়ে দিয়েছি। শীত এলেই জামাই-কন্যা, নাতি-নাতনি, ছেলেদের শ্বশুর-শাশুড়ি ও আত্মীয়দের নিয়ে দুই-একবার উৎসবের আয়োজন করি। এ প্রথাটা আমার শ্বশুর-শাশুড়ির আমল থেকে চলে আসছে। তাই আমিও করি। নিজের প্রায় ১৫ থেকে ২০টি খেজুর গাছ রয়েছে। এ গাছ থেকে নিজের বাড়িতে খাওয়া হয়। সংসারেও কিছু কাজে লাগে।

বাউসার গাছি সোহেল রানা জানান, আর কয়েক দিন বাদেই সংগ্রহ করা হবে খেজুর রস। 

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, শুধু সরকারিভাবেই না, আমরা কৃষকদের মাঝে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য পরামর্শ দিচ্ছি। এছাড়া আখের পাতা ও গমের কোড়া সংগ্রহ করার পরামর্শ দিয়ে থাকি; যেন গুড় তৈরিতে সহজ হয়। এছাড়া এ মৌসুমে রাস্তার ধারে খেজুর গাছ রোপণ করা হয়েছে। কৃষকরা নিজ নিজ পতিত জমিতে গাছ লাগালে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে ব্যাপক অর্থ উপার্জন করা সম্ভব।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন