‘মাকে ৫ টুকরো করে জমিতে ছড়িয়ে দেয় ছেলে’
jugantor
‘মাকে ৫ টুকরো করে জমিতে ছড়িয়ে দেয় ছেলে’

  কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি  

২২ অক্টোবর ২০২০, ১৫:০৪:২৬  |  অনলাইন সংস্করণ

‘মাকে পাঁচ টুকরো করে জমিতে ছড়িয়ে দেয় ছেলে’

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় জায়গাজমি ও আর্থিক লেনদেনের জের এবং ছেলের মাস্টারমাইন্ডে সংগঠিত হয় হত্যাকাণ্ড।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাতজন মিলে নূরজাহানকে (৫৮) ঘুমের মধ্যে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তারা মরদেহটি পাওনাদারদের জমির পাশে নিয়ে বঁটি, চাপাতি ও কোদাল দিয়ে পাঁচ খণ্ড করে জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো আনোয়ার হোসেন পিপিএম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন, জেলার পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ।

গত ৭ অক্টোবর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামের বিল থেকে নূরজাহানের পাঁচ খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

১৫ দিন পর বৃহস্পতিবার এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছেলেসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে দুজন আদালতের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি, চাপাতি, কোদাল, বালিশ ও নিহতের পরনের শাড়ি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহত নারীর ছেলে হুমায়ন কবির (২৮), তার মামাতো ভাই কালাম প্রকাশ মামুন (২৬), মামাতো বোনের স্বামী সুমন (২৫), হুমায়নের বন্ধু নীরব ও প্রতিবেশী কসাই নূর ইসলাম (৩৮)।


ডিআইজি জানান, গত ৭ অক্টোবর বিকালে সুবর্ণচরের জাহাজমারা গ্রামের একটি বিলের মাঝের বিভিন্ন ক্ষেত থেকে নূরজাহান নামে ওই গৃহবধূর পাঁচ খণ্ডিত করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পর দিন তার ছেলে হুমায়ন কবির বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

কোনো প্রকার ক্লুলেসের রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের চিহ্নিত করা, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে।

জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, অভিযানকালে সন্দেহজনকভাবে মৃত নারীর ছেলে হুমায়ন কবির হুমার বন্ধু নীরব ও প্রতিবেশী কসাই নূর ইসলামকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি, চাপাতি, কোদাল, বালিশ ও মৃতের পরনের শাড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে তারা দুজন স্বেচ্ছায় তাদের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।

তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আগের মামলার বাদী ও মৃত নারীর ছেলে হুমায়ন কবিরকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়নের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তার মামাতো ভাই কালাম প্রকাশ মামুন, মামাতো বোনের স্বামী সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।

এসপি আরও বলেন, হুমায়ন কবিরের সৎভাই বেলাল গত দেড় বছর আগে ইটভাটায় মারা যান। মৃত্যুর আগে বেলালের গরু, পুকুরের মাছ ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসার পুঁজির জন্য মা নূরজাহানকে জিম্মাদার রেখে চার লাখ টাকা সুদ নেন। ওই টাকা পরিশোধ করার আগে মারা যান বেলাল। বেলালের মৃত্যুর পর পাওনাদাররা ওই টাকার জন্য হুমায়ন ও তার মাকে চাপ দিতে থাকেন।

হুমায়ন চেয়েছিল মৃত বেলাল ও তার মায়ের নামে থাকা জমি বিক্রি করে ওই টাকা শোধ করতে। কিন্তু নূরজাহান বলে, হুমায়নের জমি বিক্রি করে তার শোধ করতে।

এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো। এর মধ্যে তার মামা দুলাল মাঝির কাছ থেকে পাওয়া ৬২ হাজার ৫০০ টাকার জন্য প্রায় জোর করত নূরজাহান। এসব বিষয় নিয়ে তার দুলালের ছেলে কালাম ও মেয়ের জামাই সুমন নূরজাহানের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। আর এই ক্ষিপ্ততার জের ধরে হুমায়ন, কালাম, সুমন, প্রতিবেশী ইসমাইল, হামিদসহ মোট সাতজন এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী দেনামুক্ত হতে ওই দিন তারা নূরজাহানকে তার বাড়িতে ঘুমের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে তারা লাশটি পাওনাদারদের জমির পাশে নিয়ে বঁটি, চাপাতি ও কোদাল দিয়ে পাঁচ খণ্ড করে জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামি ইসমাইল ও হামিদকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

‘মাকে ৫ টুকরো করে জমিতে ছড়িয়ে দেয় ছেলে’

 কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি 
২২ অক্টোবর ২০২০, ০৩:০৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
‘মাকে পাঁচ টুকরো করে জমিতে ছড়িয়ে দেয় ছেলে’
ছবি: যুগান্তর

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় জায়গাজমি ও আর্থিক লেনদেনের জের এবং ছেলের মাস্টারমাইন্ডে সংগঠিত হয় হত্যাকাণ্ড।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাতজন মিলে নূরজাহানকে (৫৮) ঘুমের মধ্যে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তারা মরদেহটি পাওনাদারদের জমির পাশে নিয়ে বঁটি, চাপাতি ও কোদাল দিয়ে পাঁচ খণ্ড করে জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়া হয়।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো আনোয়ার হোসেন পিপিএম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন, জেলার পুলিশ কর্মকর্তা ও সাংবাদিকবৃন্দ।  

গত ৭ অক্টোবর নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের জাহাজমারা গ্রামের বিল থেকে নূরজাহানের পাঁচ খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

১৫ দিন পর বৃহস্পতিবার এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছেলেসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যার মধ্যে দুজন আদালতের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি, চাপাতি, কোদাল, বালিশ ও নিহতের পরনের শাড়ি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নিহত নারীর ছেলে হুমায়ন কবির (২৮), তার মামাতো ভাই কালাম প্রকাশ মামুন (২৬), মামাতো বোনের স্বামী সুমন (২৫), হুমায়নের বন্ধু নীরব ও প্রতিবেশী কসাই নূর ইসলাম (৩৮)।


ডিআইজি জানান, গত ৭ অক্টোবর বিকালে সুবর্ণচরের জাহাজমারা গ্রামের একটি বিলের মাঝের বিভিন্ন ক্ষেত থেকে নূরজাহান নামে ওই গৃহবধূর পাঁচ খণ্ডিত করা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পর দিন তার ছেলে হুমায়ন কবির বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।

কোনো প্রকার ক্লুলেসের রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের চিহ্নিত করা, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত উদ্ধারে জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে।

জেলা পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, অভিযানকালে সন্দেহজনকভাবে মৃত নারীর ছেলে হুমায়ন কবির হুমার বন্ধু নীরব ও প্রতিবেশী কসাই নূর ইসলামকে আটক করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বঁটি, চাপাতি, কোদাল, বালিশ ও মৃতের পরনের শাড়ি উদ্ধার করা হয়। পরে তারা দুজন স্বেচ্ছায় তাদের অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন।

তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আগের মামলার বাদী ও মৃত নারীর ছেলে হুমায়ন কবিরকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হুমায়নের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত তার মামাতো ভাই কালাম প্রকাশ মামুন, মামাতো বোনের স্বামী সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।

এসপি আরও বলেন, হুমায়ন কবিরের সৎভাই বেলাল গত দেড় বছর আগে ইটভাটায় মারা যান। মৃত্যুর আগে বেলালের গরু, পুকুরের মাছ ক্রয়-বিক্রয়, ব্যবসার পুঁজির জন্য মা নূরজাহানকে জিম্মাদার রেখে চার লাখ টাকা সুদ নেন। ওই টাকা পরিশোধ করার আগে মারা যান বেলাল। বেলালের মৃত্যুর পর পাওনাদাররা ওই টাকার জন্য হুমায়ন ও তার মাকে চাপ দিতে থাকেন।

হুমায়ন চেয়েছিল মৃত বেলাল ও তার মায়ের নামে থাকা জমি বিক্রি করে ওই টাকা শোধ করতে। কিন্তু নূরজাহান বলে, হুমায়নের জমি বিক্রি করে তার শোধ করতে।

এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় ঝগড়া হতো। এর মধ্যে তার মামা দুলাল মাঝির কাছ থেকে পাওয়া ৬২ হাজার ৫০০ টাকার জন্য প্রায় জোর করত নূরজাহান। এসব বিষয় নিয়ে তার দুলালের ছেলে কালাম ও মেয়ের জামাই সুমন নূরজাহানের ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। আর এই ক্ষিপ্ততার জের ধরে হুমায়ন, কালাম, সুমন, প্রতিবেশী ইসমাইল, হামিদসহ মোট সাতজন এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী দেনামুক্ত হতে ওই দিন তারা নূরজাহানকে তার বাড়িতে ঘুমের মধ্যে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। পরে তারা লাশটি পাওনাদারদের জমির পাশে নিয়ে বঁটি, চাপাতি ও কোদাল দিয়ে পাঁচ খণ্ড করে জমিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামি ইসমাইল ও হামিদকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন