সতর্কতা সংকেত মানছেন না পর্যটকরা
jugantor
সতর্কতা সংকেত মানছেন না পর্যটকরা

  শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার  

২৩ অক্টোবর ২০২০, ১৮:০১:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

সতর্কতা সংকেত মানছেন না পর্যটকরা

একদিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ৪ নম্বর হুশিয়ারি সংকেত, অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তাল হয়ে পড়েছে সাগর। এরপরও পর্যটকরা মগ্ন সমুদ্র স্নানে। উত্তাল সাগরের বিশাল বিশাল ঢেউ সমুদ্র উপকূলে আচড়ে পড়লেও কিংবা সৈকতে সতর্কতামূলক লাল পতাকা টাঙানো হলেও সেদিকে কোনো খেয়াল নেই কিছু কিছু পর্যটকের। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সৈকতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আগমনের কথা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে হোটেলে বন্দি অনেক পর্যটক। আবার অনেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে নেমে পড়েছেন সাগর সৈকতে।

কাউসার আহমেদ নামের এক পর্যটক বলেন, আবহাওয়া খারাপ এটা জানতাম কিন্তু কক্সবাজারে এসে এভাবে পরিস্থিতি খারাপ হবে এটা জানতাম না। বৃহস্পতিবার থেকে হোটেলেই বসে দিন কাটিয়েছি। অবশেষে শুক্রবার বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সৈকতে চলে এলাম।
সোনিয়া সাদিয়া নামে অপর এক পর্যটক বলেন, ভালো লাগছিল না; তাই বৃষ্টিতে ভিজে সৈকতের বালিয়াড়িতে হাঁটছি আর সৈকতের বিশাল বিশাল ঢেউ উপভোগ করছি।

রিয়াদ, আমিন ও সাদ্দাম বলেন, সৈকতে গোসল করতে নেমে পড়েছিলাম কিন্তু লাইফ গার্ডকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ গোসল করতে দিল না। তারা নিরাপত্তার কথা বলে সৈকত থেকে উঠিয়ে দিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আর আনন্দ করা গেল না।

পর্যটক আগমনের ওপর নির্ভর করে সংসার চলে সৈকতের ফটোগ্রাফার ও হকারদের। কিন্তু দুই দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেকার রয়েছেন তারা। আব্দুল শুক্কুর নামের এক ফটোগ্রাফার বলেন, বৈরী আবহাওয়া সব শেষ করে দিল। বৃষ্টির কারণে পর্যটকরা সৈকতে কম নামছেন। ফলে পর্যটকদের ছবি তুলতে না পেরে বসে থাকতে হচ্ছে। আর ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় সৈকতে পর্যটকদের নামতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লাইফ গার্ড কর্মীরা।
সি-সেইভ লাইফ গার্ড সংস্থার ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির বলেন, সাগরে গভীর নিম্নচাপের কারণে কক্সবাজারকে ৪ নম্বর হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। তাই সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। আর পর্যটকদের সৈকতে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে; এজন্য মাইকিংও করছি। কিন্তু অনেক পর্যটক নিষেধ অমান্য করে সৈকতে নেমে পড়ছেন। তারপরও চেষ্টা করছি পর্যটকদের নিরাপত্তা দিয়ে যেতে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, গভীর নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। কক্সবাজারকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টিপাত আগামী দু-একদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে গিয়ে আটকা পড়েছেন সাড়ে চার শতাধিক পর্যটক।

সতর্কতা সংকেত মানছেন না পর্যটকরা

 শফিউল্লাহ শফি, কক্সবাজার 
২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৬:০১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সতর্কতা সংকেত মানছেন না পর্যটকরা
সতর্কতা সংকেত মানছেন না পর্যটকরা

একদিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ৪ নম্বর হুশিয়ারি সংকেত, অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উত্তাল হয়ে পড়েছে সাগর। এরপরও পর্যটকরা মগ্ন সমুদ্র স্নানে। উত্তাল সাগরের বিশাল বিশাল ঢেউ সমুদ্র উপকূলে আচড়ে পড়লেও কিংবা সৈকতে সতর্কতামূলক লাল পতাকা টাঙানো হলেও সেদিকে কোনো খেয়াল নেই কিছু কিছু পর্যটকের। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় সৈকতে বিপুলসংখ্যক পর্যটক আগমনের কথা। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে হোটেলে বন্দি অনেক পর্যটক। আবার অনেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে নেমে পড়েছেন সাগর সৈকতে।

কাউসার আহমেদ নামের এক পর্যটক বলেন, আবহাওয়া খারাপ এটা জানতাম কিন্তু কক্সবাজারে এসে এভাবে পরিস্থিতি খারাপ হবে এটা জানতাম না। বৃহস্পতিবার থেকে হোটেলেই বসে দিন কাটিয়েছি। অবশেষে শুক্রবার বৃষ্টি উপেক্ষা করেই সৈকতে চলে এলাম।
সোনিয়া সাদিয়া নামে অপর এক পর্যটক বলেন, ভালো লাগছিল না; তাই বৃষ্টিতে ভিজে সৈকতের বালিয়াড়িতে হাঁটছি আর সৈকতের বিশাল বিশাল ঢেউ উপভোগ করছি।

রিয়াদ, আমিন ও সাদ্দাম বলেন, সৈকতে গোসল করতে নেমে পড়েছিলাম কিন্তু লাইফ গার্ডকর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশ গোসল করতে দিল না। তারা নিরাপত্তার কথা বলে সৈকত থেকে উঠিয়ে দিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আর আনন্দ করা গেল না।

পর্যটক আগমনের ওপর নির্ভর করে সংসার চলে সৈকতের ফটোগ্রাফার ও হকারদের। কিন্তু দুই দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেকার রয়েছেন তারা। আব্দুল শুক্কুর নামের এক ফটোগ্রাফার বলেন, বৈরী আবহাওয়া সব শেষ করে দিল। বৃষ্টির কারণে পর্যটকরা সৈকতে কম নামছেন। ফলে পর্যটকদের ছবি তুলতে না পেরে বসে থাকতে হচ্ছে। আর ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় সৈকতে পর্যটকদের নামতে বাধা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন লাইফ গার্ড কর্মীরা।
সি-সেইভ লাইফ গার্ড সংস্থার ইনচার্জ মোহাম্মদ জহির বলেন, সাগরে গভীর নিম্নচাপের কারণে কক্সবাজারকে ৪ নম্বর হুশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। তাই সৈকতের প্রতিটি পয়েন্টে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। আর পর্যটকদের সৈকতে নামতে নিষেধ করা হচ্ছে; এজন্য মাইকিংও করছি। কিন্তু অনেক পর্যটক নিষেধ অমান্য করে সৈকতে নেমে পড়ছেন। তারপরও চেষ্টা করছি পর্যটকদের নিরাপত্তা দিয়ে যেতে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদফতরের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, গভীর নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল রয়েছে। জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।  কক্সবাজারকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১১৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ বৃষ্টিপাত আগামী দু-একদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে গিয়ে আটকা পড়েছেন সাড়ে চার শতাধিক পর্যটক।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন