গ্রিসে নবীগঞ্জের এক রেমিটেন্স যোদ্ধার মৃত্যু
jugantor
গ্রিসে নবীগঞ্জের এক রেমিটেন্স যোদ্ধার মৃত্যু

  মো. সরওয়ার শিকদার, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে  

২৩ অক্টোবর ২০২০, ২২:৩৫:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

মৃত্যু

ইউরোপের দেশ গ্রিসে নবীগঞ্জের এক রেমিটেন্স যোদ্ধার মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের আত্তিকা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে তার মৃত্যু হয়। নিহতের নাম নাজমুল হোসেন। তিনি উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামের মৃত আবুল কালামের পুত্র। তার পরিবারের দাবি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ খবরে নিহতের বাড়িতে চলছে স্বজনদের শোকের মাতম। তারা অপেক্ষায় আছেন কখন ছেলের লাশ বাড়ি ফিরবে। লাশ দেশে ফেরাতে সরকারের সহযোগিতা চায় নিহতদের পরিবার।

জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার লালাপুর গ্রামের গ্রামের আবুল কালামের পুত্র নাজমুল হোসেন পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে গ্রিসে বসবাস করছিলেন। সেখানের আত্তিকা এলাকায় একটি চায়না কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ৮ বছর ধরে গ্রিসে বসবাস করছেন। ইরান, তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যান নাজমুল।

সম্প্রতি একই এলাকার মোস্তফাপুর গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের পুত্র মফিজুর রহমান গ্রিসে যান। সেখানে গিয়ে নাজমুলের সাথে থাকেন।

নাজমুলের পরিবারের লোকজন জানান, অনেক দিন ধরে কোন যোগাযোগ করছিল না নাজমুল। পরে তারা জানতে পারেন গত ১২ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি মারা যান।

সম্প্রতি তারা জানতে পারেন, নাজমুলকে রাতে ঘুমের মধ্যে মফিজুর রহমান কোনকিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে মৃত ভেবে লাশ দূরে কোথায় ফেলে আসে। সেখান থেকে পুলিশ তাকে হাসপাতাল ভর্তি করে। এমন একটি ভিডিও বার্তাও পাওয়া গেছে।

নিহতের ভাই এনামুল হোসেন জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন নাজমুল। এতে তার মৃত্যুর জন্য মফিজুলকেই দায়ী করেছেন। তার দাবি, প্রবাস জীবনের উপার্জিত টাকা-পয়সা জমা ছিল নাজমুলের কাছে। কিছু দিন আগে জানিয়েছিল তার কাছে ১৫-১৬ লাখ টাকা আছে। তার স্বপ্ন ছিল ভাইকে বিদেশ পাঠাবে, জায়গা কিনে ঘর বানাবে এবং এ বছরই দেশে এসে বিয়ে করবে। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশেই তাকে হত্যা করে টাকা নিয়ে পালিয়েছে মফিজুর। এমন অভিযোগ করেন নাজমুলের মা ও ভাই। নিহত নাজমুলের ৫ ভাই ও ১ বোনের মাঝে সে ছিল সবার বড়।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিনের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, লাশ দেশে আনতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

গ্রিসে নবীগঞ্জের এক রেমিটেন্স যোদ্ধার মৃত্যু

 মো. সরওয়ার শিকদার, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে 
২৩ অক্টোবর ২০২০, ১০:৩৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মৃত্যু
মৃত্যু

ইউরোপের দেশ গ্রিসে নবীগঞ্জের এক রেমিটেন্স যোদ্ধার মৃত্যু নিয়ে নানা রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের আত্তিকা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। 

গত বৃহস্পতিবার বিকালে তার মৃত্যু হয়। নিহতের নাম নাজমুল হোসেন। তিনি উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের লালাপুর গ্রামের মৃত আবুল কালামের পুত্র। তার পরিবারের দাবি টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ খবরে নিহতের বাড়িতে চলছে স্বজনদের শোকের মাতম। তারা অপেক্ষায় আছেন কখন ছেলের লাশ বাড়ি ফিরবে। লাশ দেশে ফেরাতে সরকারের সহযোগিতা চায় নিহতদের পরিবার।

জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার লালাপুর গ্রামের গ্রামের আবুল কালামের পুত্র নাজমুল হোসেন পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে দীর্ঘদিন ধরে গ্রিসে বসবাস করছিলেন। সেখানের আত্তিকা এলাকায় একটি চায়না কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ৮ বছর ধরে গ্রিসে বসবাস করছেন। ইরান, তুরস্ক হয়ে গ্রিসে যান নাজমুল। 

সম্প্রতি একই এলাকার মোস্তফাপুর গ্রামের মৃত আতাউর রহমানের পুত্র মফিজুর রহমান গ্রিসে যান। সেখানে গিয়ে নাজমুলের সাথে থাকেন।

নাজমুলের পরিবারের লোকজন জানান, অনেক দিন ধরে কোন যোগাযোগ করছিল না নাজমুল। পরে তারা জানতে পারেন গত ১২ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার বিকালে তিনি মারা যান।

সম্প্রতি তারা জানতে পারেন, নাজমুলকে রাতে ঘুমের মধ্যে মফিজুর রহমান কোনকিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে মৃত ভেবে লাশ দূরে কোথায় ফেলে আসে। সেখান থেকে পুলিশ তাকে হাসপাতাল ভর্তি করে। এমন একটি ভিডিও বার্তাও পাওয়া গেছে।

নিহতের ভাই এনামুল হোসেন জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছিলেন নাজমুল। এতে তার মৃত্যুর জন্য মফিজুলকেই দায়ী করেছেন। তার দাবি, প্রবাস জীবনের উপার্জিত টাকা-পয়সা জমা ছিল নাজমুলের কাছে। কিছু দিন আগে জানিয়েছিল তার কাছে ১৫-১৬ লাখ টাকা আছে। তার স্বপ্ন ছিল ভাইকে বিদেশ পাঠাবে, জায়গা কিনে ঘর বানাবে এবং এ বছরই দেশে এসে বিয়ে করবে। টাকা আত্মসাতের উদ্দেশেই তাকে হত্যা করে টাকা নিয়ে পালিয়েছে মফিজুর। এমন অভিযোগ করেন নাজমুলের মা ও ভাই। নিহত নাজমুলের ৫ ভাই ও ১ বোনের মাঝে সে ছিল সবার বড়।

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিনের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, লাশ দেশে আনতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন