কৃষকের সঙ্গে কোদাল হাতে ডিসি
jugantor
কৃষকের সঙ্গে কোদাল হাতে ডিসি

  দিনাজপুর প্রতিনিধি  

২৪ অক্টোবর ২০২০, ২০:৩৮:১৪  |  অনলাইন সংস্করণ

কৃষকের সঙ্গে কোদাল হাতে ডিসি

অভাব মাত্র ৩শ' মিটার ক্যানেলের। এই ৩শ' মিটার ক্যানেল না থাকার কারণেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমি অনাবাদি গত ৮ বছর থেকে। অবশেষে শনিবার কয়েক হাজার কৃষকের সঙ্গে হাতে কোদাল নিয়ে সেই ক্যানেল খনন করে পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি করে দিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম।

জানা যায়, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের উত্তরের লালপুর গ্রাম থেকে দক্ষিণে দুর্গাপুর গ্রাম পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার উত্তর দক্ষিণ এবং আধা থেকে পৌনে এক কিলোমিটার প্রস্থ বিশাল এলাকাজুড়ে প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল না। এতে বছরের গোটা সময় জলমগ্ন হয়ে থাকে বিশাল পরিমাণ জমি। পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ওইসব জমিতে ফসলের মুখ দেখেননি ওই এলাকার কয়েক হাজার কৃষক। এসব জমিতে ফসলের সবুজ মাঠের পরিবর্তে সবুজে পরিণত হয় কচুরিপানা দিয়ে।

অবশেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম উদ্যোগ নেন এ ক্যানেল খননের। গত ১৭ অক্টোবর তিনি ওই এলাকায় গিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ২৪ অক্টোবর শনিবার প্রতিটি কৃষককে কোদাল নিয়ে ওই এলাকার আসার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসকের এ আহ্বানে শনিবার হাতে কোদাল নিয়ে হাজির হন কয়েক হাজার কৃষক। কৃষকদের সাথে হাতে কোদাল নিয়ে শনিবার বেলা ১১টায় ফুলবাড়ী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্বপ্রান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যানেল খনন কাজ শুরু করেন জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মিল্টন, ফুলবাড়ীর বিদায়ী ইউএনও মো. খায়রুল আলম সুমন, নবাগত ইউএনও মো. রিয়াজ উদ্দিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ আফরোজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নীরু সামসুন্নাহার, থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মাহামুদুল হাসানসহ কৃষক, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, উপজেলা শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ২ সহস্রাধিক মানুষ।

অবশেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৫ ফুট প্রস্থে ৩শ' মিটার দীর্ঘ ক্যানেলটি খনন করে পশ্চিমপ্রান্তের ছোট যমুনা নদীর পূর্বের ক্যানেলের সাথে সংযোগ করে দেয়া হয়। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি হয়ে পানি বের হয়ে নদীতে গড়াতে শুরু করে। এর ফলে প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পায়।

জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলার দৌলতপুর-খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের এ জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। সকলের সহযোগিতায় ক্যানেল খননের কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন ওই ৩ হাজার বিঘা জমিতে আবারও ফসল ফলাবেন কৃষকরা। আবারও সবুজ ফলে ভরে উঠবে জমিগুলো। তিনি বলেন, ক্যানেল নির্মাণের ফলে যেসব কৃষকের ক্ষতি হয়েছে তারাও জমি এবং ফসলের ক্ষতিপূরণ পাবেন।

কৃষকের সঙ্গে কোদাল হাতে ডিসি

 দিনাজপুর প্রতিনিধি 
২৪ অক্টোবর ২০২০, ০৮:৩৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
কৃষকের সঙ্গে কোদাল হাতে ডিসি
কৃষকের সঙ্গে কোদাল হাতে ডিসি

অভাব মাত্র ৩শ' মিটার ক্যানেলের। এই ৩শ' মিটার ক্যানেল না থাকার কারণেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ১০টি গ্রামের প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমি অনাবাদি গত ৮ বছর থেকে। অবশেষে শনিবার কয়েক হাজার কৃষকের সঙ্গে হাতে কোদাল নিয়ে সেই ক্যানেল খনন করে পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি করে দিলেন দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম।  

জানা যায়, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী এবং দৌলতপুর ইউনিয়নের উত্তরের লালপুর গ্রাম থেকে দক্ষিণে দুর্গাপুর গ্রাম পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার উত্তর দক্ষিণ এবং আধা থেকে পৌনে এক কিলোমিটার প্রস্থ বিশাল এলাকাজুড়ে প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল না। এতে বছরের গোটা সময় জলমগ্ন হয়ে থাকে বিশাল পরিমাণ জমি। পানি নিষ্কাশনের পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ওইসব জমিতে ফসলের মুখ দেখেননি ওই এলাকার কয়েক হাজার কৃষক। এসব জমিতে ফসলের সবুজ মাঠের পরিবর্তে সবুজে পরিণত হয় কচুরিপানা দিয়ে।

অবশেষে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম উদ্যোগ নেন এ ক্যানেল খননের। গত ১৭ অক্টোবর তিনি ওই এলাকায় গিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে ২৪ অক্টোবর শনিবার প্রতিটি কৃষককে কোদাল নিয়ে ওই এলাকার আসার আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসকের এ আহ্বানে শনিবার হাতে কোদাল নিয়ে হাজির হন কয়েক হাজার কৃষক। কৃষকদের সাথে হাতে কোদাল নিয়ে শনিবার বেলা ১১টায় ফুলবাড়ী উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের বারাইপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্বপ্রান্তে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যানেল খনন কাজ শুরু করেন জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম। 

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন- ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান মিল্টন, ফুলবাড়ীর বিদায়ী ইউএনও মো. খায়রুল আলম সুমন, নবাগত ইউএনও মো. রিয়াজ উদ্দিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ আফরোজ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নীরু সামসুন্নাহার, থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মাহামুদুল হাসানসহ কৃষক, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী, উপজেলা শিক্ষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ২ সহস্রাধিক মানুষ। 

অবশেষে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৫ ফুট প্রস্থে ৩শ' মিটার দীর্ঘ ক্যানেলটি খনন করে পশ্চিমপ্রান্তের ছোট যমুনা নদীর পূর্বের ক্যানেলের সাথে সংযোগ করে দেয়া হয়। এতে পানি নিষ্কাশনের পথ তৈরি হয়ে পানি বের হয়ে নদীতে গড়াতে শুরু করে। এর ফলে প্রায় ৩ হাজার বিঘা জমি জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পায়। 

জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলার দৌলতপুর-খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের এ জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। সকলের সহযোগিতায় ক্যানেল খননের কাজ শেষ করা হয়েছে। এখন ওই ৩ হাজার বিঘা জমিতে আবারও ফসল ফলাবেন কৃষকরা। আবারও সবুজ ফলে ভরে উঠবে জমিগুলো। তিনি বলেন, ক্যানেল নির্মাণের ফলে যেসব কৃষকের ক্ষতি হয়েছে তারাও জমি এবং ফসলের ক্ষতিপূরণ পাবেন।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন