শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথ: বৈরী আবহাওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
jugantor
শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথ: বৈরী আবহাওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

  লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি  

২৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:২১:০৩  |  অনলাইন সংস্করণ

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথ: বৈরী আবহাওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

বৈরী আবহাওয়ার কারণে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুর কাঁঠালবাড়ি নৌপথে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল সীমিত আকারে করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত নৌচলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

এতে লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন শত শত যাত্রী। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোট স্বাভাবিকভাবে চলছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী উত্তাল হয়ে ওঠে।

প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে নদীতে বড় বড় ঢেউ উঠতে থাকে। আবহাওয়া অধিদফতর এ নৌপথকে ২ নম্বর সতর্কতা সংকতের আওতায় নিয়ে আসে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এ নৌপথের ৮২টি লঞ্চ ও ৪ শতাধিক স্পিডবোট বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসংখ্য যাত্রী শিমুলিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আছেন। লঞ্চ টর্মিনালের সংযোগ সড়কে অসংখ্য মানুষের ভিড়।

এদের মধ্যে নারী-শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা খুব বেশি ভোগান্তিতে ছিলেন। নৌযান বন্ধ থাকায় অনেকে ঘাট ছেড়ে চলে গেলেও অধিকাংশ যাত্রী অপেক্ষায় বসে ছিলেন। শনিবার বেলা ১২টায় সীমিত আকারে কিছু নৌযান- ৫টি লঞ্চ ও কয়েকটি বড় আকারের সিবোট চলাচল শুরু করেছে।


বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া ঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শাহদাত হোসেন জানান, লঞ্চ ও স্পিডবোট দুই দিন চলাচল বন্ধ থাকায় দুই পারের কয়েক হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে আছেন। সকালনাগাদ নৌ চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়নি।

তিনি আরও বলেন, আবাহাওয়া ভালো হলে দুপুরনাগাদ নৌযান চলাচল শুরু হতে পারে। যদিও ২ নম্বর সতর্কতা সংকতের জন্য ৬৫ ফুটের নিচে নৌযান বন্ধ রাখতে হয়। এখানে যে লঞ্চগুলো আছে প্রতিটি ৬৫ ফুটের ওপরে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীতে প্রচণ্ড ঝড়োবাতাস বয়ে যাচ্ছে। এতে নদীতে ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে। লঞ্চ চলাচল করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে নাব্য সংকটের জন্য টানা ৮ দিন ধরে চলছে না কোনো ফেরি। ঘাট ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র স্রোত ও নাব্য সংকটে তিন মাস ধরে এ নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাই আগস্ট মাসে মাঝে মধ্যেই রাতে বন্ধ রেখে দিনে ফেরি চালানো হতো। প্রতিদিন মাত্র ৪-৫টি ছোট ফেরি চলাচল করত। সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় সেপ্টেম্বর মাসে পাঁচ দফায় ১৭ দিন ফেরি বন্ধ ছিল।

ঘাট সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, বৈরী আবহাওয়া অনুকূলে আসলে লঞ্চ ও স্পিবোট চলবে। ফেরি চলাচল সহজেই স্বাভাবিক হচ্ছে না। পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর পর থেকে নদী গতিপথ পরিবর্তন করেছে। নদীর বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে ডুবোচর জেগেছে। চায়না চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন চ্যানেল খনন হচ্ছে।

শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. হিলাল উদ্দিন জানান, ঘাট একেবারেই নীরব। যানবাহন, যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক, হকারদের ডাকাডাকি ও কাজ কোনোটাই নেই। অলস সময় পার করতে হচ্ছে। নতুন করে কোনো গাড়িও আসছে না। যারা ঘাটে এসে আটকা পড়েছেন তারা চরম ভোগান্তিতে আছেন।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়াত আহম্মেদ বলেন, লৌহজং বিকল্প চ্যানেলের পাশ দিয়ে নতুন একটি চ্যানেল খনন চলছে। চ্যানেলটি পদ্মা সেতুর ৩৮ নম্বর খুঁটির পাশ দিয়ে হচ্ছে। এটি মাঝিরকান্দি হয়ে যাবে।

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথ: বৈরী আবহাওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

 লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি 
২৪ অক্টোবর ২০২০, ১০:২১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথ: বৈরী আবহাওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগ চরমে
শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথ: বৈরী আবহাওয়ায় যাত্রী দুর্ভোগ চরমে

বৈরী আবহাওয়ার কারণে মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ও মাদারীপুর কাঁঠালবাড়ি নৌপথে লঞ্চ ও স্পিডবোট চলাচল সীমিত আকারে করা হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত নৌচলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। 

এতে লঞ্চ ও স্পিডবোট ঘাটে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন শত শত যাত্রী। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে লঞ্চ ও স্পিডবোট স্বাভাবিকভাবে চলছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী উত্তাল হয়ে ওঠে।

প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির কারণে নদীতে বড় বড় ঢেউ উঠতে থাকে। আবহাওয়া অধিদফতর এ নৌপথকে ২ নম্বর সতর্কতা সংকতের আওতায় নিয়ে আসে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে এ নৌপথের ৮২টি লঞ্চ ও ৪ শতাধিক স্পিডবোট বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অসংখ্য যাত্রী শিমুলিয়া ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় আছেন। লঞ্চ টর্মিনালের সংযোগ সড়কে অসংখ্য মানুষের ভিড়।

এদের মধ্যে নারী-শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা খুব বেশি ভোগান্তিতে ছিলেন। নৌযান বন্ধ থাকায় অনেকে ঘাট ছেড়ে চলে গেলেও অধিকাংশ যাত্রী অপেক্ষায় বসে ছিলেন। শনিবার বেলা ১২টায় সীমিত আকারে কিছু নৌযান- ৫টি লঞ্চ ও কয়েকটি বড় আকারের সিবোট চলাচল শুরু করেছে। 


বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া ঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শাহদাত হোসেন জানান, লঞ্চ ও স্পিডবোট দুই দিন চলাচল বন্ধ থাকায় দুই পারের কয়েক হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে আছেন। সকালনাগাদ নৌ চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়নি। 

তিনি আরও বলেন, আবাহাওয়া ভালো হলে দুপুরনাগাদ নৌযান চলাচল শুরু হতে পারে। যদিও ২ নম্বর সতর্কতা সংকতের জন্য ৬৫ ফুটের নিচে নৌযান বন্ধ রাখতে হয়। এখানে যে লঞ্চগুলো আছে প্রতিটি ৬৫ ফুটের ওপরে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীতে প্রচণ্ড ঝড়োবাতাস বয়ে যাচ্ছে। এতে নদীতে ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে। লঞ্চ চলাচল করলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে নাব্য সংকটের জন্য টানা ৮ দিন ধরে চলছে না কোনো ফেরি। ঘাট ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তীব্র স্রোত ও নাব্য সংকটে তিন মাস ধরে এ নৌপথে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তাই আগস্ট মাসে মাঝে মধ্যেই রাতে বন্ধ রেখে দিনে ফেরি চালানো হতো। প্রতিদিন মাত্র ৪-৫টি ছোট ফেরি চলাচল করত। সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় সেপ্টেম্বর মাসে পাঁচ দফায় ১৭ দিন ফেরি বন্ধ ছিল। 

ঘাট সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, বৈরী আবহাওয়া অনুকূলে আসলে লঞ্চ ও স্পিবোট চলবে। ফেরি চলাচল সহজেই স্বাভাবিক হচ্ছে না। পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর পর থেকে নদী গতিপথ পরিবর্তন করেছে। নদীর বিভিন্ন অংশ ভরাট হয়ে ডুবোচর জেগেছে। চায়না চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন চ্যানেল খনন হচ্ছে।

শিমুলিয়া ঘাটের ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) মো. হিলাল উদ্দিন জানান, ঘাট একেবারেই নীরব। যানবাহন, যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক, হকারদের ডাকাডাকি ও কাজ কোনোটাই নেই। অলস সময় পার করতে হচ্ছে। নতুন করে কোনো গাড়িও আসছে না। যারা ঘাটে এসে আটকা পড়েছেন তারা চরম ভোগান্তিতে আছেন।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) সাফায়াত আহম্মেদ বলেন, লৌহজং বিকল্প চ্যানেলের পাশ দিয়ে নতুন একটি চ্যানেল খনন চলছে। চ্যানেলটি পদ্মা সেতুর ৩৮ নম্বর খুঁটির পাশ দিয়ে হচ্ছে। এটি মাঝিরকান্দি হয়ে যাবে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন