সিলেটে ইয়াবাসহ শ্রমিক নেতা আটক
jugantor
সিলেটে ইয়াবাসহ শ্রমিক নেতা আটক

  সিলেট ব্যুরো  

২৪ অক্টোবর ২০২০, ২২:২৫:২২  |  অনলাইন সংস্করণ

সিলেট

সিলেটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতে ইয়াবাসহ আটক শ্রমিক নেতা মো. হারিছ আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নীলা তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

হারিছ আলী সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি নং বি- ১৪১৮) অন্যতম সদস্য। দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আখতার হোসেন যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দক্ষিণ সুরমার অতিরবাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করে বিজিবি-১৯ ব্যাটালিয়নের একটি দল। আটকের সময় তার কাছ থেকে ১৯৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করে বিজিবি।

হারিছ আলীকে আটকের পর নগরীর আখালিয়া বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে গেলে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তারা ভোর পর্যন্ত দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে লালাবাজার পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন এবং বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অবরোধের কারণে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং দেখা দেয় তীব্র যানজট। এ যানজট কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে নগরীর শাহজালাল উপশহর পর্যন্ত দীর্ঘ হয়।

পরে রাত ৪টার দিকে হারিছ আলীকে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি। এ সময় পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন পরিবহন শ্রমিকরা। এ বিষয়ে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আখতার হোসেন শনিবার সকালে যুগান্তরকে বলেন, রাত ৪টার দিকে বিজিবি আমাদের কাছে হারিছ আলীকে হস্তান্তর করে। পরে শ্রমিকদের বুঝিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করানো হয়।

হারিছ আলীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তার শারীরিক অসুস্থতার জন্য জামিনের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, হারিছ আলীর বিরুদ্ধে বিজিবি বাদী হয়ে মাদক মামলা দায়ের করেছে।

সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিত বলেন, হারিছ আলী নির্দোষ। তাকে মিথ্যা অভিযোগে বিজিবি আটক করেছে। তিনি বলেন, হারিছ আলীর বাড়ি দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকায়। তারা প্রতিদিনই অতিরবাড়ি এলাকায় আড্ডা দেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সে এখানে ক্যারম খেলছিল।

এ সময় হঠাৎ করে বিজিবির একটি গাড়ি এসে হারিছ আলীর মোটরসাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে হারিছ আলীকে ডাকতে থাকে। তখন হারিছ আলী গাড়ির কাছে এলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সব মানুষকে সরিয়ে দিয়ে হারিছ আলীকে বলেন, গাড়িতে ১ প্যাকেট ইয়াবা পাওয়া গেছে। পরে আবার বিজিবি মানুষ ডেকে এনে সবাইকে বলে- এই গাড়িতে ইয়াবা পাওয়া গেছে। এ বলে তাকে এবং তার মোটরসাইকেল বিজিবি নিয়ে যায়।

এরপর আমাদের শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আখালিয়া বিজিবি ক্যাম্পে গেলেও বিজিবির কমান্ডার দেখা করতে দেননি। পরে শ্রমিকরা রাত ১০টার দিকে সড়ক অবরোধ করেন।

শ্রমিক নেতা মুহিত বলেন, আমাদের নির্দোষ শ্রমিককে ফাঁসানো হয়েছে। অপরদিকে বিজিবির দাবি হারিছ আলীর কাছ থেকে ১৯৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। বিজিবি-১৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লে. কর্নেল মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি ওই ব্যক্তির কাছে ইয়াবা আছে। তাৎক্ষণিক একদল ফোর্স পাঠালে দক্ষিণ সুরমার অতিরবাড়ি এলাকায় গিয়ে তার মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। তখন তাকে ডেকে এনে শরীর তল্লাশি করে ইয়াবার একটি পুঁটলা পাওয়া যায়। ওই পুঁটলায় ১৯৯ পিস ইয়াবা ছিল। পরে তাকে মোটরসাইকেলসহ ফোর্সরা নিয়ে আসে। পরে আটক হারিছ আলীকে রাত ৪টার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সিলেটে ইয়াবাসহ শ্রমিক নেতা আটক

 সিলেট ব্যুরো 
২৪ অক্টোবর ২০২০, ১০:২৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
সিলেট
সিলেট

সিলেটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতে ইয়াবাসহ আটক শ্রমিক নেতা মো. হারিছ আলীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হলে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ৩য় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নীলা তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

হারিছ আলী সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি নং বি- ১৪১৮) অন্যতম সদস্য। দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আখতার হোসেন যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দক্ষিণ সুরমার অতিরবাড়ি এলাকা থেকে তাকে আটক করে বিজিবি-১৯ ব্যাটালিয়নের একটি দল। আটকের সময় তার কাছ থেকে ১৯৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করে বিজিবি।

হারিছ আলীকে আটকের পর নগরীর আখালিয়া বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে গেলে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। তারা ভোর পর্যন্ত দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে লালাবাজার পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন এবং বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অবরোধের কারণে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কগুলোতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং দেখা দেয় তীব্র যানজট। এ যানজট কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে নগরীর শাহজালাল উপশহর পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। 

পরে রাত ৪টার দিকে হারিছ আলীকে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে বিজিবি। এ সময় পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন পরিবহন শ্রমিকরা। এ বিষয়ে এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আখতার হোসেন শনিবার সকালে যুগান্তরকে বলেন, রাত ৪টার দিকে বিজিবি আমাদের কাছে হারিছ আলীকে হস্তান্তর করে। পরে শ্রমিকদের বুঝিয়ে অবরোধ প্রত্যাহার করানো হয়। 

হারিছ আলীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং তার শারীরিক অসুস্থতার জন্য জামিনের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, হারিছ আলীর বিরুদ্ধে বিজিবি বাদী হয়ে মাদক মামলা দায়ের করেছে।

সিলেট জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিত বলেন, হারিছ আলী নির্দোষ। তাকে মিথ্যা অভিযোগে বিজিবি আটক করেছে। তিনি বলেন, হারিছ আলীর বাড়ি দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার এলাকায়। তারা প্রতিদিনই অতিরবাড়ি এলাকায় আড্ডা দেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় সে এখানে ক্যারম খেলছিল।

এ সময় হঠাৎ করে বিজিবির একটি গাড়ি এসে হারিছ আলীর মোটরসাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে হারিছ আলীকে ডাকতে থাকে। তখন হারিছ আলী গাড়ির কাছে এলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সব মানুষকে সরিয়ে দিয়ে হারিছ আলীকে বলেন, গাড়িতে ১ প্যাকেট ইয়াবা পাওয়া গেছে। পরে আবার বিজিবি মানুষ ডেকে এনে সবাইকে বলে- এই গাড়িতে ইয়াবা পাওয়া গেছে। এ বলে তাকে এবং তার মোটরসাইকেল বিজিবি নিয়ে যায়।

এরপর আমাদের শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আখালিয়া বিজিবি ক্যাম্পে গেলেও বিজিবির কমান্ডার দেখা করতে দেননি। পরে শ্রমিকরা রাত ১০টার দিকে সড়ক অবরোধ করেন।

শ্রমিক নেতা মুহিত বলেন, আমাদের নির্দোষ শ্রমিককে ফাঁসানো হয়েছে। অপরদিকে বিজিবির দাবি হারিছ আলীর কাছ থেকে ১৯৯ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। বিজিবি-১৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লে. কর্নেল মো. রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি ওই ব্যক্তির কাছে ইয়াবা আছে। তাৎক্ষণিক একদল ফোর্স পাঠালে দক্ষিণ সুরমার অতিরবাড়ি এলাকায় গিয়ে তার মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। তখন তাকে ডেকে এনে শরীর তল্লাশি করে ইয়াবার একটি পুঁটলা পাওয়া যায়। ওই পুঁটলায় ১৯৯ পিস ইয়াবা ছিল। পরে তাকে মোটরসাইকেলসহ ফোর্সরা নিয়ে আসে। পরে আটক হারিছ আলীকে রাত ৪টার দিকে দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন