‘জামাইয়ের অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিতেই খুনের পরিকল্পনা শ্বশুরের’
jugantor
‘জামাইয়ের অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিতেই খুনের পরিকল্পনা শ্বশুরের’

  পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি  

২৫ অক্টোবর ২০২০, ১৪:৫৬:২৯  |  অনলাইন সংস্করণ

‘জামাইয়ের অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিতেই খুনের পরিকল্পনা শ্বশুরের’

‘পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় নিজের মেয়েজামাই ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম গাজী ওরফে দিলীপ গাজীর (৫০) অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিতেই তাকে খুনের পরিকল্পনা করেন শ্বশুর আনোয়ার হোসেন প্যাদা (৬০)। ’

রোববার দুপুরে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এসপি মোহাম্মদ মইনুল হাসান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহত সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম গাজী ওরফে দিলীপ গাজী উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

এদিকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া ঘটনার নেপথ্যের নায়ক শ্বশুর আনোয়ার এবং দুই ভাড়াটে খুনি নিজাম ও আমজেদ এমন তথ্য স্বীকার করেছেন। এর পর পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পটুয়াখালী গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। গত ২২ অক্টোবর গভীর রাতে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বরাত দিয়ে এসপি মইনুল হাসান জানান, পায়রা বন্দরের সম্প্রসারিত উন্নয়নকে কেন্দ্র করে নিহত দিলীপের অনেক জমি অধিগ্রহণ হয়। সেই সূত্রে দিলীপের ব্যাংক হিসাবে প্রায় কোটি টাকা জমা পড়ে।

ওই টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারায় লিপ্ত হন শ্বশুর আনোয়ার। কলাকৌশলে টাকা হাতিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে ভাতিজি জামাই নিজামকে প্রস্তাব করে মেয়ে জামাতা খুন করার। চাচা শ্বশুরের প্রস্তাবের আলোকে নিজাম বরগুনা জেলার হেউলিয়াবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আমজেদের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে দুই লাখ টাকা চুক্তি করে।

মূলত আমতলী থানার একটি ডাকাতি মামলার সূত্র ধরে নিজামের সঙ্গে বরগুনা কারাগারে আমজেদের পরিচয় ঘটে। খুনের ঘটনার অন্তত তিন মাস আগে নিজামের সঙ্গে খুনের পরিকল্পনা করে দিলীপের শ্বশুর আনোয়ার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্তত দুই মাস আগে বরগুনা-আমতলী নৌরুটের ফেরিঘাটে বসে ভাড়াটে খুনিদের সঙ্গে পাকা কথা হয়। দুই লাখ টাকা চুক্তিতে বিভিন্ন সময়ে নিজামকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করে আনোয়ার। নিজাম ও আমজেদ ওই টাকা ভাগাভাগি করে নেয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানান, দিলীপ কাতারে প্রবাসী ছিল। বিদেশ থাকাকালীন আয়ের অর্থ ছাড়াও পৈতৃক সূত্রে তিনি সম্পদশালী ছিলেন। কিন্তু দিলীপ স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণ নিয়ে কৃপণ ছিল। দিলীপের এক মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তার সঠিক চিকিৎসা না করা নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।

মূলত দিলীপের কৃপণতার কারণে পারিবারিক কলহ বাড়তে থাকতে। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে আনোয়ারের কাছে বসবাস করত। চুক্তি অনুযায়ী খুনের উদ্দেশ্যে গত ২১ অক্টোবর আমজেদ ও নিজাম কলাপাড়া উপজেলার লালুয়ার নওয়াপাড়ায় অতিথি হিসেবে দিলীপের বাড়িতে রওনা হয়।

এ সময় খুনিরা আনোয়ারের কাছে বাকি টাকা দাবি করলে পটুয়াখালীর কলাতলা বাজারের একটি বিকাশের দোকান থেকে ১০ হাজার এবং খুনের পর আরও ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন শ্বশুর আনোয়ার।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের দুই ভাড়াটে খুনিরা জানান– ভিকটিম দিলীপ সম্পর্কে চাচাতো ভায়রা ভাই হয়। সেই সুবাদে তার বাড়িতে বেড়াতে যায় নিজাম। ধৃত নিজাম বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালীর বাসিন্দা ফজলে করিমের ছেলে বলে নিশ্চিত করে পুলিশ।

ঘটনার আগে পারিবারিক আলোচনার একপর্যায় কোমল পানির (সেভেনআপ) সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে প্রথমে দিলীপকে পান করায় খুনিরা। ওই পানি খেয়ে দিলীপ ঘুমিয়ে গেলে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে খুনিরা স্থান ত্যাগ করেন।

শ্বশুর আনোয়ার জানান, তার জামাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নমিনি ছিল তার অসুস্থ মেয়ে লামিয়া আক্তার। বাবার অবর্তমানে নিজ মেয়ে ও নাতনিকে ফুসলিয়ে ওই টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। এ ঘটনায় নিহত দিলীপের স্ত্রী হাবিবা বেগম বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা করেন।

‘জামাইয়ের অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিতেই খুনের পরিকল্পনা শ্বশুরের’

 পটুয়াখালী ও দক্ষিণ প্রতিনিধি 
২৫ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
‘জামাইয়ের অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিতেই খুনের পরিকল্পনা শ্বশুরের’
ছবি: যুগান্তর

‘পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় নিজের মেয়েজামাই ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম গাজী ওরফে দিলীপ গাজীর (৫০) অর্থ-সম্পদ হাতিয়ে নিতেই তাকে খুনের পরিকল্পনা করেন শ্বশুর আনোয়ার হোসেন প্যাদা (৬০)। ’

রোববার দুপুরে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এসপি মোহাম্মদ মইনুল হাসান সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য নিশ্চিত করেন।

নিহত সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম গাজী ওরফে দিলীপ গাজী উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

এদিকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া ঘটনার নেপথ্যের নায়ক শ্বশুর আনোয়ার এবং দুই ভাড়াটে খুনি নিজাম ও আমজেদ এমন তথ্য স্বীকার করেছেন। এর পর পটুয়াখালী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পটুয়াখালী গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল।  গত ২২ অক্টোবর গভীর রাতে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বরাত দিয়ে এসপি মইনুল হাসান জানান, পায়রা বন্দরের সম্প্রসারিত উন্নয়নকে কেন্দ্র করে নিহত দিলীপের অনেক জমি অধিগ্রহণ হয়। সেই সূত্রে দিলীপের ব্যাংক হিসাবে প্রায় কোটি টাকা জমা পড়ে।

ওই টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারায় লিপ্ত হন শ্বশুর আনোয়ার। কলাকৌশলে টাকা হাতিয়ে নিতে ব্যর্থ হলে ভাতিজি জামাই নিজামকে প্রস্তাব করে মেয়ে জামাতা খুন করার। চাচা শ্বশুরের প্রস্তাবের আলোকে নিজাম বরগুনা জেলার হেউলিয়াবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা আমজেদের সঙ্গে আলোচনাসাপেক্ষে দুই লাখ টাকা চুক্তি করে।

মূলত আমতলী থানার একটি ডাকাতি মামলার সূত্র ধরে নিজামের সঙ্গে বরগুনা কারাগারে আমজেদের পরিচয় ঘটে। খুনের ঘটনার অন্তত তিন মাস আগে নিজামের সঙ্গে খুনের পরিকল্পনা করে দিলীপের শ্বশুর আনোয়ার।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, অন্তত দুই মাস আগে বরগুনা-আমতলী নৌরুটের ফেরিঘাটে বসে ভাড়াটে খুনিদের সঙ্গে পাকা কথা হয়। দুই লাখ টাকা চুক্তিতে বিভিন্ন সময়ে নিজামকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করে আনোয়ার। নিজাম ও আমজেদ ওই টাকা ভাগাভাগি করে নেয়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানান, দিলীপ কাতারে প্রবাসী ছিল। বিদেশ থাকাকালীন আয়ের অর্থ ছাড়াও পৈতৃক সূত্রে তিনি সম্পদশালী ছিলেন। কিন্তু দিলীপ স্ত্রী ও সন্তানের ভরণ-পোষণ নিয়ে কৃপণ ছিল। দিলীপের এক মেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তার সঠিক চিকিৎসা না করা নিয়ে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।

মূলত দিলীপের কৃপণতার কারণে পারিবারিক কলহ বাড়তে থাকতে। দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে আনোয়ারের কাছে বসবাস করত। চুক্তি অনুযায়ী খুনের উদ্দেশ্যে গত ২১ অক্টোবর আমজেদ ও নিজাম কলাপাড়া উপজেলার লালুয়ার নওয়াপাড়ায় অতিথি হিসেবে দিলীপের বাড়িতে রওনা হয়।

এ সময় খুনিরা আনোয়ারের কাছে বাকি টাকা দাবি করলে পটুয়াখালীর কলাতলা বাজারের একটি বিকাশের দোকান থেকে ১০ হাজার এবং খুনের পর আরও ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন শ্বশুর আনোয়ার।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের দুই ভাড়াটে খুনিরা জানান– ভিকটিম দিলীপ সম্পর্কে চাচাতো ভায়রা ভাই হয়। সেই সুবাদে তার বাড়িতে বেড়াতে যায় নিজাম। ধৃত নিজাম বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালীর বাসিন্দা ফজলে করিমের ছেলে বলে নিশ্চিত করে পুলিশ।

ঘটনার আগে পারিবারিক আলোচনার একপর্যায় কোমল পানির (সেভেনআপ) সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে প্রথমে দিলীপকে পান করায় খুনিরা। ওই পানি খেয়ে দিলীপ ঘুমিয়ে গেলে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করে খুনিরা স্থান ত্যাগ করেন।

শ্বশুর আনোয়ার জানান, তার জামাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নমিনি ছিল তার অসুস্থ মেয়ে লামিয়া আক্তার। বাবার অবর্তমানে নিজ মেয়ে ও নাতনিকে ফুসলিয়ে ওই টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। এ ঘটনায় নিহত দিলীপের স্ত্রী হাবিবা বেগম বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় হত্যা মামলা করেন।

 
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন