শরীয়তপুরে চলছে মা ইলিশ শিকার
jugantor
শরীয়তপুরে চলছে মা ইলিশ শিকার

  শরীয়তপুর প্রতিনিধি  

২৫ অক্টোবর ২০২০, ২২:১৯:৫৯  |  অনলাইন সংস্করণ

শরীয়তপুরে চলছে মা ইলিশ শিকার কেএম রায়হান কবীর

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে শরীয়তপুরে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না মা ইলিশ শিকার। জেলার ৪ উপজেলায় ১২ দিনে প্রায় ১ হাজার জেলে আটক, বিপুল পরিমাণ জাল ও নৌকা জব্দ করা হলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলা ও জেলার বাইরের মৌসুমি জেলেরা রাত-দিন শিকার করে চলেছেন মা ইলিশ। গত ১২ দিনে জেলার ৪টি উপজেলা থেকে ১ হাজার ৯৮০ জন জেলেকে আটক, প্রায় ৩৫ লাখ মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার ও ৩ শতাধিক ট্রলার এবং ২০টি স্পিডবোট জব্দ করেছে প্রশাসন।

মা ইলিশ রক্ষায় জাজিরা উপজেলার বিলাশপুরে পদ্মা নদীর তীরে র্যাাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যা ব) অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করার পরেও সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে অসাধু জেলেরা দিন-রাত নদীতে নামছেন মাছ শিকারে।

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম শুরু হয়েছে ১৪ অক্টোবর প্রথম প্রহর (১৩ অক্টোবর রাত ১২টার পর) থেকে। আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন থাকবে মৌসুমের মেয়াদ। ২২ দিনই চলবে নদীতে প্রশাসনের মা ইলিশ শিকার প্রতিরোধ অভিযান।

মৌসুমের প্রথম দিন থেকেই প্রশাসন আটক করে চলেছে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের। গত ১২ দিনে যৌথভাবে ১১২টি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, র্যা ব ও প্রশাসনের অন্যান্য শাখা। এতে ৮৪টি ভ্রাম্যমাণ আদলত বসিয়ে ৬৮৯ জনকে ১ বছর করে জেল ও ১২২ জনকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এছাড়াও ৩৫ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ৩৫০টি মাছ ধরার ট্রলার ও ১৫টি স্পিডবোট আটক করে তা ইঞ্জিনসহ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৫শ’ কেজি মা ইলিশ আটক করে তা এতিমখানা ও গরিব লোকদের মাঝে বিতরণ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ২৫ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞার ১২তম দিনে জাজিরা উপজেলায় ৬৮ জনকে আটক করে ৪৯ জনকে ১ বছর করে কারদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ১৯ জনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
নড়িয়া উপজেলায় ৭৩ জনকে আটক করে এদের মধ্য ৬৪ জনকে ১ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ১৮ বছরের নিচে বয়স হওয়ায় ৯ জনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও ১টি স্পিডবোট, ২টি ট্রলার ও ৩০ হাজার মিটার জাল ধ্বংস করা হয়েছে। ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ৫০ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে এবং ১টি স্পিডবোট আটক করা হয়েছে। গোসাইরহাট উপজেলায় ৪০ হাজার মিটার জাল এবং ৪০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, জেলার জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ এবং গোসাইরহাট উপজেলার ১৯ হাজার জেলেকে ২০ কেজি করে মোট ৩৮০ টন চাল সহায়তা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনের সহায়তায় বাকি দিনগুলোও অভিযান অব্যাহত রাখব।

শরীয়তপুরে চলছে মা ইলিশ শিকার

 শরীয়তপুর প্রতিনিধি 
২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০:১৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শরীয়তপুরে চলছে মা ইলিশ শিকার কেএম রায়হান কবীর
শরীয়তপুরে চলছে মা ইলিশ শিকার কেএম রায়হান কবীর

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে শরীয়তপুরে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না মা ইলিশ শিকার। জেলার ৪ উপজেলায় ১২ দিনে প্রায় ১ হাজার জেলে আটক, বিপুল পরিমাণ জাল ও নৌকা জব্দ করা হলেও  নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জেলা ও জেলার বাইরের মৌসুমি জেলেরা রাত-দিন শিকার করে চলেছেন মা ইলিশ। গত ১২ দিনে জেলার ৪টি উপজেলা থেকে ১ হাজার ৯৮০ জন জেলেকে আটক, প্রায় ৩৫ লাখ মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার ও ৩ শতাধিক ট্রলার এবং ২০টি স্পিডবোট জব্দ করেছে প্রশাসন।

মা ইলিশ রক্ষায় জাজিরা উপজেলার বিলাশপুরে পদ্মা নদীর তীরে র্যাাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যা ব) অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করার পরেও সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে অসাধু জেলেরা দিন-রাত নদীতে নামছেন মাছ শিকারে। 

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম শুরু হয়েছে ১৪ অক্টোবর প্রথম প্রহর (১৩ অক্টোবর রাত ১২টার পর) থেকে। আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন থাকবে মৌসুমের মেয়াদ। ২২ দিনই চলবে নদীতে প্রশাসনের মা ইলিশ শিকার প্রতিরোধ অভিযান। 

মৌসুমের প্রথম দিন থেকেই প্রশাসন আটক করে চলেছে নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী জেলেদের। গত ১২ দিনে যৌথভাবে ১১২টি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, র্যা ব ও প্রশাসনের অন্যান্য শাখা। এতে ৮৪টি ভ্রাম্যমাণ আদলত বসিয়ে ৬৮৯ জনকে ১ বছর করে জেল ও ১২২ জনকে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। 

এছাড়াও ৩৫ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ৩৫০টি মাছ ধরার ট্রলার ও ১৫টি স্পিডবোট আটক করে তা ইঞ্জিনসহ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। প্রায় ২ হাজার ৫শ’ কেজি মা ইলিশ আটক করে তা এতিমখানা ও গরিব লোকদের মাঝে বিতরণ করেছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ২৫ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞার ১২তম দিনে জাজিরা উপজেলায় ৬৮ জনকে আটক করে ৪৯ জনকে ১ বছর করে কারদণ্ড প্রদান করা হয়েছে এবং ১৯ জনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। 
নড়িয়া উপজেলায় ৭৩ জনকে আটক করে এদের মধ্য ৬৪ জনকে ১ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। ১৮ বছরের নিচে বয়স হওয়ায় ৯ জনকে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও ১টি স্পিডবোট, ২টি ট্রলার ও ৩০ হাজার মিটার জাল ধ্বংস করা হয়েছে। ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ৫০ জনকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে এবং ১টি স্পিডবোট আটক করা হয়েছে। গোসাইরহাট উপজেলায় ৪০ হাজার মিটার জাল এবং ৪০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফ জানিয়েছেন, জেলার জাজিরা, নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ এবং গোসাইরহাট উপজেলার ১৯ হাজার জেলেকে ২০ কেজি করে মোট ৩৮০ টন চাল সহায়তা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রশাসনের সহায়তায় বাকি দিনগুলোও অভিযান অব্যাহত রাখব। 
 

 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন